রাজশাহী বুধবার, ২৪শে জুলাই ২০২৪, ১০ই শ্রাবণ ১৪৩১


বাল্যবিয়ে বন্ধ করলেন ইউএনও, বিয়ে দিলেন আ’লীগ নেতা


প্রকাশিত:
১৩ জুলাই ২০২০ ০০:১৩

আপডেট:
১৩ জুলাই ২০২০ ০০:১৪

প্রতীকী ছবি

খবর পেয়ে বাল্যবিয়ে বন্ধ করে এসেছিলেন নওগাঁর নিয়ামতপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়া মারীয়া পেরেরা। কিন্তু স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা প্রভাব খাটিয়ে গোপনে সেই বিয়ে সম্পন্ন করেছেন।

প্রাণঘাতি করোনার ভেতরে গত শুক্রবার (১০ জুলাই) দিবাগত রাতে এই ঘটনা ঘটেছে উপজেলার রসূলপুর ইউনিয়নের নিমদীঘি গ্রামে। বাল্যবিয়ের শিকার ওই গ্রামের রফিকুল ইসলামের মেয়ে জেসমিন খাতুন (১৪)।

নিমদীঘি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী জেসমিন। তার বিয়ে দেয়া হয়েছে পার্শ্ববর্তী চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল উপজেলার সোনাইচন্ডি-মুন্দিখৈর এলাকায়। ওই কিশোরীর বড়বোন আলিয়ারা খাতুনও বাল্যবিয়ের শিকার।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিয়ের আয়োজনের খবর পেয়ে শুক্রবার বিকেলে কনের বাবা রফিকুল ইসলামের বাড়িতে দলবল নিয়ে গিয়েছিলেন ইউএনও জয়া মারীয়া পেরেরা। ওই সময় থানার ওসি খায়রুল ইসলাম, স্থানীয় ইউপি মেম্বার শহিদুজ্জামান কাজলসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ওই সময় কনে জেসমিন খাতুনকে সরিয়ে দিয়ে তার বড়বোন আলিয়ারা খাতুনকে ইউএনও’র সামনে হাজির করেন মেয়ের বাবা। পরে বাল্য বিয়ে যেনো না হয়-বিষয়টি নজর রাখতে ইউপি মেম্বারকে দায়িত্ব দিয়ে ফিরে আসেন ইউএনও।

কিন্তু ওই দিনই রাত ১১টার দিকে যুবলীগ কর্মী ওই গ্রামের বাসিন্দা সজিব আলীর বাড়িতে বিয়ে দেয়া হয় জেসমিন খাতুনের। ৫৫ হাজার টাকা দেন মোহরে বিয়ে পড়ান স্থানীয় এক মৌলভী।

দাঁড়িয়ে থেকে বিয়ে দিয়েছেন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগগের সভাপতি আবদুল করিম, তার ভাগ্নে ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলমসহ তার পরিবারের লোকজন। ওই রাতেই কনেকে নিজ বাড়িতে নিয়ে যান বর। পরদিন শনিবার সকালে আবারও রেখে যান কনের বাড়িতে।

স্থানীয় ৯ নংওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল করিম তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিয়ে তো আমরাই বন্ধ করেছি। ঘটনাস্থলে ইউএনও স্যার যতক্ষন ছিলো আমরাও ততক্ষনই ছিলাম। ওই মেয়ের বিয়ে হয়েছে কিনা আমার জানা নেই।

রসূলপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার শহিদুজ্জামান কাজল বলেন, কেউ যদি গোপনে রাতের অন্ধকারে বিয়ে দেয় তাহলে তো আমার জানার কথা না। বাল্য বিয়ে যেন না হয় এজন্য তাদেরকে আমরা বুঝিয়ে বাড়িতে রেখে আসি। আর যদি বাল্য বিয়ে তারা দিয়ে থাকে তাহলে অন্যায় করেছে। নিজের ভালো যদি কেউ না বুঝে, আমরা তো আর ভালো করতে পারবো না।

বাল্যবিয়ে বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করে নিয়ামতপুর থানার ওসি খাইরুল ইসলাম বলেন, ছাত্রীর বান্ধবীর দেয়া খবরে তার বাড়িতে গিয়েছিলেন ইউএনও। ওই সময় আমিও সঙ্গে ছিলাম।

পরে গৃহকর্তা রফিকুল ইসলাম তার মেয়েকে দেখান। ওই কিশোরীর দশম শ্রেণিতে পড়ছে বলে জানিয়েছে। পরে বাল্যবিয়ে না দেয়ার নির্দেশ দিয়ে এবং বিষয়টি নজর রাখতে ইউপি মেম্বারকে নির্দেশ দিয়ে ফিরে আসেন ইউএনও। তবে গোপনে ওই ছাত্রীর বিয়ে দেয়া হয়েছে কিনা তা আমার জানা নেই।

এ ব্যাপারে নিয়ামতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়া মারীয়া পেরেরা বলেন, বাল্য বিয়ে দেয়া হচ্ছে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। ওই বাড়িতে কোন কিছুর আয়োজন ছিলনা। সবকিছুই ছিল স্বাভাবিক। এমনকি মেয়ের সঙ্গে কথাও বলেছি। পরে ওই মেয়ের বিয়ে হয়েছে কিনা আমার জানা নেই। তবে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবো।

 

আরপি/আআ-১৬



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

Top