রাজশাহী শনিবার, ৭ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৫শে মাঘ ১৪৩২


ফুলে ফুলে রঙিন রাজশাহী কলেজ


প্রকাশিত:
৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০২:০৬

আপডেট:
৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০২:০৭

রাজশাহী পোস্ট

রাজশাহী কলেজ কেবল জ্ঞানচর্চার কেন্দ্রই নয়, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অনন্য উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে । বিশেষ করে কলেজ ক্যাম্পাসজুড়ে ছড়িয়ে থাকা নানা জাতের ফুল রাজশাহী কলেজকে করেছে আরও মনোরম ও প্রাণবন্ত। রাজশাহী কলেজ বারবার প্রমাণ করেছে কেন এটি দেশের সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কাতারে শীর্ষে অবস্থান করছে।

শুধু পড়াশোনায় শ্রেষ্ঠত্বই নয়, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, গাছপালায় ঘেরা মনোরম পরিবেশ এবং লাল দেওয়ালের বৈচিত্র্যময় ক্যাম্পাসের অপরূপ সৌন্দর্য শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বাইরে থেকে আগত বিভিন্ন দর্শনার্থীদের মন জয় করে চলেছে দিনের পর দিন।
ক্যাম্পাস চত্বরে প্রবেশ করতেই প্রশাসন ভবনের সামনে টবে লাগানো বিভিন্ন বাহারি ফুল চোখে পড়ে।

কলেজ প্রশাসন ভবনের পেছনে পদ্মপুকুর সংলগ্ন এলাকাতেও রয়েছে বাহারি রকমের ফুল। এছাড়াও কলেজ ক্যাম্পাসের মিলনায়তন, পদার্থবিজ্ঞান ভবন, রবীন্দ্র-নজরুল চত্বর ও পুলিশ ফাঁড়ি সংলগ্ন স্থানে রকমারি ফুলের দেখা মেলে। এর মধ্যে রয়েছে গাঁদা, গোলাপ, জবা, পলাশ, কাঠগোলাপ, রক্তকাঞ্চন, বাগান বিলাস, পাখি ফুল, চাইনিজ কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, রঙ্গন, হৈমন্তী, সুগন্ধি জয়ন্তী, জিনিয়া, কসমস, স্যালভিয়া, মোরগঝুঁটি ও টাইম ফুল।

রাজশাহী কলেজের মালি মো. সুলেমানের বলেন, ২০১০ সালের পর থেকে পরিকল্পিতভাবে কলেজ ক্যাম্পাসে ফুলগাছ লাগানো হচ্ছে। প্রফেসর মো. হবিবুর রহমানের উদ্যোগে ফুলগাছের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রজাতির গাছ-গাছালি ও ঔষধি গাছ রোপণ শুরু করা হয়। তিনি আরও জানান, বর্তমানে কলেজ ক্যাম্পাসে মোট ছয়টি ফুলবাগান রয়েছে এবং তিনি এসব বাগানের পরিচর্যার দায়িত্বে রয়েছেন।

সমাজবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মাইমুনা ইয়াসমিন বলেন, আমাদের কলেজের ক্যাম্পাসটি শুধু শিক্ষার জন্য নয়, এটি প্রকৃতির একটি সুন্দর উদ্যানের মতো। এখানে নানা রকমের ফুল ফুটে, যা পরিবেশকে রঙিন ও মনোরম করে। এই সুন্দর পরিবেশ আমাদের মনকে প্রফুল্ল করে এবং পড়াশোনার মাঝে শিথিলতার অনুভূতি দেয়।

সমাজকর্ম বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী কাজী অরনী বলেন, রাজশাহী কলেজে ফুটে থাকা ফুলগুলো আমাদের কলেজ জীবনকে আরও সুন্দর করে তোলে। ক্লাসে যাওয়ার পথে এই ফুল দেখলে মনটা ভালো হয়ে যায়। পড়াশোনার চাপের মাঝেও ফুলে ভরা পরিবেশ আমাদের কিছুটা শান্তি দেয়।

ডিগ্রি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী পাপিয়া আক্তার বলেন, রাজশাহী কলেজে প্রতিবছরের মতো এই বছরেও ক্যাম্পাস ফুলে ফুলে সেজে উঠেছে। ক্লাস শেষে অনেক ক্লান্ত লাগে। তখন পদ্মপুকুরের পাশে গিয়ে বসি। পুকুর সংলগ্ন ফুলগুলো দেখলে মনটা শান্ত হয়ে যায়।

মনোবিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী রুহি রহমান বলেন, ফুল সৌন্দর্যের প্রতীক। কলেজের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্যই রঙ-বেরঙের ফুলগাছ লাগানো হয়েছে। বাহারি রঙের ফুল আমাদের মনে প্রশান্তি দেয়। কলেজ সময় ছাড়াও কখনো কখনো সকালে কিংবা বিকেলেও ক্যাম্পাসে ঘুরতে আসি। গাছ-গাছালি ও ফুল দেখে সত্যিই মন ভালো হয়ে যায়।

ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আল আমিন হক বলেন, শীত ও বসন্তকালে ফুলগাছ রোপণের মাধ্যমে কলেজের ঐতিহ্য আরও দ্বিগুণভাবে ফুটে ওঠে। তিনি এই সৌন্দর্য ধরে রাখার জন্য কলেজ প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং বিশেষ করে কলেজের মালিদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তাদের অবদানের কথা উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা সবাই ফুলগাছের প্রতি যত্নশীল। শিক্ষার্থীরা ক্লাস শেষে ফুলের সঙ্গে ছবি তুললে তাদের মন ভালো হয়ে যায়। পাশাপাশি বিভিন্ন বয়সী দর্শনার্থীরাও ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে কলেজে ঘুরতে আসেন।

রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. ইব্রাহিম আলী বলেন, রাজশাহী কলেজ শুধু একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করে না; ১৮৭৩ সাল থেকে গড়ে ওঠা ঐতিহ্যবাহী এই কলেজের নান্দনিক অবকাঠামো ও পরিবেশ ধরে রাখাও আমাদের একটি ঐতিহ্য। কলেজ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্পটে সুদর্শন বাগান গড়ে তোলা হয়েছে, যা কলেজের সৌন্দর্যকে আরও নান্দনিক করে তুলেছে।

তিনি আরও বলেন, কলেজে বিভিন্ন ধরনের গাছপালা ও ঔষধি গাছ রয়েছে। প্রতিদিন হাজারো দর্শনার্থী রাজশাহী কলেজের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। কলেজকে এমনভাবে সাজিয়ে রাখা হয়, যাতে প্রতিটি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও দর্শনার্থীর মন আকৃষ্ট হয়। এর পেছনে অনেক মানুষের অবদান রয়েছে। তাদের পরিশ্রমের ফলেই আজ এত সুন্দর পরিবেশ গড়ে উঠেছে। প্রতিবছর কলেজ ক্যাম্পাসে ফুলগাছ রোপণ করা হয় এবং যারা এসব ফুলগাছের যত্ন নেন, তাদের প্রতিও তিনি কৃতজ্ঞতা জানান।

 

 

আরপি/ আআ



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

Top