শীতকালকে ঘিরে রাজশাহী কলেজ শিক্ষার্থীদের কার্যক্রম
১৮৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত, রাজশাহী শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত দেশের অন্যতম প্রাচীন ও মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রাজশাহী কলেজ। এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে এই কলেজ কেবল শিক্ষা বিস্তারের ক্ষেত্রেই নয়, বরং সংস্কৃতি, মনন ও সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।
কুয়াশামাখা ঠান্ডা বাতাসের সঙ্গে সঙ্গে প্রকৃতিতে শীতের আগমন ঘটে। সেই শীতের ছোঁয়া ইতিমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে রাজশাহী কলেজ ক্যাম্পাসেও। শীতকে কেন্দ্র করে কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে লক্ষ্য করা যাচ্ছে নানা কর্মসূচি ও ব্যস্ততা। ইতোমধ্যে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা সম্মিলিতভাবে শীতবস্ত্র ও কম্বল বিতরণ কর্মসূচি পালন করেছে, যা মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
শীতের সকালে নরম রোদের আলোয় কলেজের খেলার মাঠ ও পদ্মপুকুরপাড় যেন নতুন রূপে ধরা দেয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের কফির কাপে চুমুক দিয়ে আড্ডা দিতে দেখা যায়। কেউ কেউ খোলা আকাশের নিচে বসে প্রেজেন্টেশন ও অ্যাসাইনমেন্ট নিয়ে ব্যস্ত, আবার বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের দেখা যায় ব্যবহারিক খাতা লেখায় মনোযোগী হতে। শীতের এই শান্ত পরিবেশ পড়াশোনার জন্য যেন বাড়তি অনুপ্রেরণা জোগায়।
শীত এলেই কলেজ ক্যাম্পাসে শুরু হয় ব্যাডমিন্টন খেলার আমেজ। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় শিক্ষার্থীদের ব্যাডমিন্টন খেলায় মেতে উঠতে দেখা যায়। এই খেলা শুধু শরীরচর্চার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং শীতের সকালের অলসতা কাটিয়ে উঠতে এটি হয়ে ওঠে এক আনন্দঘন আয়োজন।
এর পাশাপাশি সম্প্রতি কলেজ ক্যাম্পাসে বিভিন্ন বিভাগের সমন্বয়ে একটি ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়। মূলত শীতের মৌসুমকে ঘিরেই এই টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। মাঠজুড়ে শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস, দলগত প্রতিযোগিতা আর দর্শকদের করতালি শীতের ক্যাম্পাস জীবনকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
শীতকালকে কেন্দ্র করে রাজশাহী কলেজের সৌন্দর্যও পায় নতুন মাত্রা। পদ্মপুকুরপাড়ের আঙিনায় গাঁদা, জিনিয়া, ক্যালেন্ডাসহ নানা প্রজাতির শীতকালীন ফুলের সমারোহ দেখা যায়। এসব ফুল কলেজের সৌন্দর্য বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়। খেলার মাঠের পাশে শিউলি ফুল গাছ থেকে ঝরে পড়া ফুল কুড়িয়ে শিক্ষার্থীদের ফটোসেশন করতে দেখা যায়—যা শীতের স্মৃতি ধরে রাখার এক সুন্দর মুহূর্ত।
শীতকালীন ক্যাম্পাস জীবনের সৌন্দর্য বর্ণনা করতে গিয়ে মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী রিমি বলেন, শীতের ক্যাম্পাস জীবন যেন এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। কুয়াশায় ঢাকা প্রকৃতি, কলেজের গাছপালা আর ফুলের সৌন্দর্য আমাকে ভীষণভাবে অভিভূত করে।
তিনি আরও বলেন, শীতকে ঘিরে ক্যাম্পাসের সাংস্কৃতিক আয়োজনের কথাও না বললেই নয়। এ সময় বিভিন্ন বিভাগ নামকরা ব্যান্ড এনে সাংস্কৃতিক সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজন করে। এসব আয়োজনে অংশ নেওয়া শুধু বিনোদনের জন্য নয়, শীতের সময়গুলোকে স্মৃতিময় করে তোলে। বিশেষ করে ওপেন এয়ার মঞ্চে আলোর ঝলকানির মাঝে যখন গান বেজে ওঠে, তখন মনে হয় শীত যেন উষ্ণতার পরশ নিয়ে আসে।
সব মিলিয়ে শীতকাল রাজশাহী কলেজে শুধু একটি ঋতু নয়, বরং এটি শিক্ষার্থীদের জীবনে আনন্দ, সৃজনশীলতা ও মানবিকতার এক বিশেষ অধ্যায় হয়ে ধরা দেয়।
আরপি/আআ
বিষয়: রাজশাহী কলেজ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: