রাজশাহী বুধবার, ৭ই জানুয়ারী ২০২৬, ২৫শে পৌষ ১৪৩২


কেমন আছে আমাদের দেশের মধ্যবিত্তরা


প্রকাশিত:
৬ জানুয়ারী ২০২৬ ১০:৪৬

আপডেট:
৭ জানুয়ারী ২০২৬ ২২:০৭

রাজশাহী পোস্ট

উন্নত বিশ্বের দেশগুলো বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে নিজেদের উন্নত করতে সফল হয়েছে। তার মানে তারা নিম্নবিত্তের অবস্থা কাটিয়ে মধ্যবিত্ত আর উচ্চবিত্তে পরিণত হয়েছে।

আসলে কি কেউ মধ্যবিত্তদের নিয়ে ভাবে? কিন্তু ঐতিহাসিক ভাবে, এমন কি বিবিসির এক জরিপে বলা হয়েছে, মধ্যবিত্তরা সমাজের ভারসাম্য বজায় রাখে। তাহলে কী আমাদের মধ্যবিত্তদের প্রতি যত্নশীল হওয়া উচিত নয়!

বিশ্বায়ন, শিল্পায়ন,প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মহামারীর ফলে বিরূপ প্রভাব মধ্যবিত্ত শ্রেণির উপর পড়ছে। সরকারি অনুশাসনে থাকার ফলে সরকারি কর্মচারীদের মজুরি বাড়ে কিন্তু বেসরকারি কর্মচারীদের তো সে অনুপাতে বাড়ে না। সংখ্যায় বেসরকারি কর্মচারীরাই মধ্যবিত্ত শ্রেণির বেশি। ফলে ধনী আরও ধনী হচ্ছে আর মধ্যবিত্ত শ্রেণি সমাজের ভারসাম্য রক্ষা করতে গিয়ে নিজের উচ্চ স্বপ্নগুলোর গলা টিপে দিচ্ছে। ফলে জীবন যাপনের সব ক্ষেত্রে মধ্যবিত্তদের সমঝোতা করতে হচ্ছে।

আমাদের সবার বোঝা উচিত যে, মধ্যবিত্তরা না থাকলে তো ধনীদের উচ্চতা মাপার স্কেলটা তৈরি হতো না। গোটা বিশ্বের মত আমাদের দেশেও মধ্যবিত্তের সংখ্যা বেড়েছে, এটা অবশ্য অর্থনীতিবিদের মতে। তবে এদের অবস্থা টিকিয়ে রাখার কোন কৌশল বাড়েনি। কৌশল হিসেবে আমাদের সরকার, সরকারি চাকুরি জীবিদের ৫% প্রণোদনা ঘোষণা করেছেন কিন্তু সরকার যদি ৫% প্রণোদনা না দিয়ে ৫% দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করতেন তবে হয়তবা সাধারণ মানুষের মধ্যবিত্ত হয়ে থাকার চেষ্টাটা বজায় থাকতো।

সত্যিই মধ্যবিত্তরা আজ বড় নাজুক অবস্থায় আছে। একজন মধ্যবিত্তের হাত ধরে ধনী আরও ধনী হয় কিন্তু মধ্যবিত্তের অবস্থা মাস শেষে সঙ্গীন হয়ে যায়। অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে মধ্যবিত্ত সমাজকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব, কিন্তু আমাদের দেশে তা কখনই সম্ভব নয়। এমনটি চলতে থাকলে সমাজে দুটি শ্রেণির বসবাস বিরাজ করবে যা কখনই কাম্য নয়।

 

মোঃ ইক্তিয়ার রিমন
শিক্ষার্থী, ইতিহাস বিভাগ, রাজশাহী কলেজ।

 

আরপি/ আআ



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

Top