রাজশাহী শনিবার, ২৮শে মে ২০২২, ১৫ই জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯


১৪ শিক্ষার্থীর বিদ্যালয়ে অর্ধ কোটি টাকার ভবন!


প্রকাশিত:
৬ এপ্রিল ২০২২ ০৪:৩৯

আপডেট:
২৮ মে ২০২২ ০৮:১৪

ছবি: বিদ্যালয়

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার ৮২নং ছাতারদিঘী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় চলছে মাত্র ১৪জন শিক্ষার্থী নিয়ে। এর মধ্যে ৪র্থ শ্রেনীতে মাত্র একজন শিক্ষার্থী থাকলেও ৫ম শ্রেনী রয়েছে শিক্ষার্থী শুন্য। অথচ ওই বিদ্যালয়েই দেয়া হয়েছে অর্ধ কোটি টাকার একটি নতুন ভবন। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি-ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের মধ্যে দ্বন্দ্বের কারনে এমন করুন পরিস্থিতী সৃষ্টি হয়েছে বলে বিদ্যালয় সূত্র জানিয়েছে।

জানা গেছে,রাণীনগর উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে কালীগ্রাম ইউনিয়নের ছাতারদিঘী গ্রামে অবস্থিত ৮২নং ছাতারদিঘী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। এলাকায় শিক্ষা বিস্তার ও জনমানুষকে শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে এলাকার সচেতন ও গুণী লোকজনদের সহযোগিতায় ১৯৮৮ইং সালে বিদ্যালয়টি স্থাপন করা হয়।

একসময় ভরপুর শিক্ষার্থী ছিল বিদ্যালয়ে। কিন্তু ধীরে ধীরে পড়া-লেখার মান,বিদ্যালয়ের সুষ্ঠু পরিবেশ না থাকায় বিদ্যালয় থেকে ঝরতে থাকে শিক্ষার্থী। এরই মধ্যে করোনা ভাইরাসের প্রভাবে গত দুই বছর বিদ্যালয় বন্ধ থাকে। বিদ্যালয় খোলা হলেও পরিচালনা কমিটি এবং ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের মধ্যে পারিবারিক দ্বন্দ্ব গড়ায় বিদ্যালয়ের উপর। ভেঙ্গে পরে পড়া লেখার মান।

ফলে শিক্ষার্থীরা পার্শ্ববতি বিদ্যালয়ে পার হয়ে যায়। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দেয়া তথ্য মতে,করোনা ভাইরাসে বিদ্যালয় বন্ধ হবার আগে প্রায় ২৫জন শিক্ষার্থী ছিল। বিদ্যালয় খোলার পর শিক্ষার্থীরা অন্য বিদ্যালয়ে চলে যাওয়ায় বর্তমানে ১ম শ্রেনীতে ৫জন,২য় শ্রেনীতে ৪জন,৩য় শ্রেনীতে ৪জন ও ৪র্থ শ্রেনীতে ১জন শিক্ষার্থী রয়েছে।

তবে ৫ম শ্রেনীর মাত্র ৩জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩জনই অন্য বিদ্যালয়ে চলে যাওয়ায় বর্তমানে কোন শিক্ষার্থীই নেই। বিদ্যালয়ে মাত্র ১৪জন শিক্ষার্থীদের পড়াতে রয়েছেন তিন জন শিক্ষক। শিক্ষক আরো জানান,ইতি মধ্যে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে ৬০লক্ষ৬২ হাজার ১৩৯ টাকা প্রাক্কলিত ব্যায়ে নতুন একটি ভবন নির্মান কাজ শেষ হয়েছে। হয়তো অল্প সময়ের মধ্যেই ভবনটি হস্তান্তর করবে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।

শিক্ষার্থী অভিভাবক জহুরুল হক বলেন, আমরা সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠায় ভাল শিক্ষা অর্জণের জন্য । কিন্তু ওই বিদ্যালয়ে পড়া লেখা হয়না। যে কারনে অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করে দিয়েছি। অপর অভিভাবক লিটন হোসেন বলেন, বিদ্যালয়ে পড়া লেখার কোনও সুষ্ঠু পরিবেশ নেই। শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের পড়ায়না। আমরা বার বার পড়া-লেখা নিয়ে অভিযোগ করেছি। এমনকি সভাপতিকে বলেও কোন ফল পাইনি।

তিনি আরো বলেন, সভাপতির সাথে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দ্বন্দ্ব রয়েছে যার কারনে সভাপতির কথায় মান দেয়না প্রধান শিক্ষক। বাধ্য হয়ে দুই ছেলেকে ভাল পড়া-লেখার জন্য অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করে দিয়েছি।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সৈয়দা হাসিনা আনোয়ার অভিভাবকদের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মূখী করতে শিক্ষকরা সবাই মিলে বাড়ী বাড়ী গিয়েও তাদেরকে বিদ্যালয়ে নিয়ে আসতে পারিনী।

তিনি বলেন, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আফজাল হোসেনের সাথে আমার পারিবারিক দ্বন্দ্ব রয়েছে। আর এই দ্বন্দ্বের কারনে সভাপতি নানানভাবে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের ভুল বুঝিয়ে আমাদের বিদ্যালয়ে আসতে দিচ্ছেনা। ফলে অভিভাবকরা বিভিন্ন বিদ্যালয়ে সন্তানদের ভর্তি করে দিয়েছেন।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আফজাল হোসেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, শিক্ষকরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসেনা এবং ভাল পড়া-লেখা করায় না। যে কারনে অভিভাবকরা সন্তানদের অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করে দিয়েছে। এবিষষে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের জানিয়েও কোন ফল হয়নি।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন বলেন, আমি অল্প দিন হলো এই উপজেলায় যোগদান করেছি। এসেই বিষয়গুলো শুনেছি। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ফেরাতে প্রয়োজনে মা, অভিভাবক সমাবেশ করে বা আরো অন্যান্য কোন প্রক্রিয়া থাকলে সেগুলো অনুসরণ করা হবে। তবে কেন শিক্ষার্থীরা অন্য বিদ্যালয়ে চলে গেছে সে বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

 

আরপি/এসআর-০৫



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

Top