রাজশাহী শুক্রবার, ২৩শে এপ্রিল ২০২১, ১০ই বৈশাখ ১৪২৮

লকডাউনের শঙ্কায় ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত


প্রকাশিত:
৫ এপ্রিল ২০২১ ০৫:২০

আপডেট:
৫ এপ্রিল ২০২১ ১০:০৫

ছবিঃ রাজশাহী নিউ মার্কেট

গত বছরের মার্চে সারা বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশেও হানা দেয় অদৃশ্য ভাইরাস কোভিড-১৯। মার্চের শেষ সপ্তাহে শুরু হওয়া লকডাউন স্থায়ী হয় কয়েক মাস। স্তব্ধ হয়ে যায় পুরো পৃথিবী। অর্থনীতি, শিল্প, বাণিজ্য, কল-কারখানা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ প্রায় সব ধরনের কর্মযজ্ঞ হয়ে যায় বন্ধ। প্রাণঘাতী ভাইরাসটির আঘাতে বিদায় নিতে থাকে একের পর এক প্রিয় মুখ। এর মধ্যেই পালিত হয় ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা, দূর্গাপূজাসহ বড় বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান। লকডাউনের মুখে পড়ে বছরের বড় একটা সময় বন্ধ ছিল প্রায় সব রকমের দোকানপাট। ফলে কিঞ্চিৎ পরিমাণও বিক্রি করতে পারে নি ব্যবসায়ীরা।

গত বছরের শেষ থেকে পরিবেশ একটু স্বাভাবিক হতে শুরু করায় নতুন করে আশায় বুক বাঁধে দোকানীরা। আসন্ন রমজান, পহেলা বৈশাখ ও ঈদুল ফিতরের ক্ষণ গণনাও শুরু করেছেন অনেকেই। প্রস্তুতিস্বরূপ মালামাল এনেছেন বেশির ভাগ দোকানী। প্রস্তুতি চলছিল নতুন উদ্যমে দোকান সাজানোর। নতুন কর্মচারীও নিয়োগ দিয়েছেন অনেকেই। এতো আয়োজনের মাঝে আবারও হানা দিয়েছে করোনা। অনাকাঙ্খিত অতিথির মতো এসে আবারও জীবনের চাকা রোধ করে বৈশ্বিক মহামারী ভাইরাসটি।

এ বছরের মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে ক্রমেই বাড়তে থাকে করোনা সংক্রমিত রোগী ও মৃত ব্যক্তির সংখ্যা। প্রতিদিনই আক্রান্ত হচ্ছে সাড়ে ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার লোক। মৃত্যুবরণ করছে প্রতিদিনই প্রায় ৫০ এরও অধিক সংক্রমিত রোগী। এমন পরিস্থিতিতে শনিবার (৩ এপ্রিল) নতুন করে লকডাউনের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রাথমিক অবস্থায় সোমবার (৫ এপ্রিল) থেকে টানা এক সপ্তাহ লকডাউন ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

উদ্ভুত পরিস্থিতিতে চোখে অন্ধকার দেখছেন ব্যবসায়ীরা। দোকানপাট খোলা রাখার কোনো রকম অনুমতি না পাওয়ায় মাথায় হাত দিয়েছেন কাপড় ব্যবসায়ীরা। উপায় না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন দোকান মালিকরা। এবার ঈদেও বিক্রির উপায় না পেয়ে কর্মচারীদের মুখেও হতাশার প্রতিচ্ছবি।

এবিষয়ে কথা হয় রাজশাহী নগরীর অন্যতম ব্যস্ত মার্কেট আরডি মার্কেটের ঢাকা গার্মেন্টসের বিক্রেতা মেহেদী হাসানের সাথে। তিনি জানান, লকডাউনের সিদ্ধান্ত হলেও রোববার দুপুর পর্যন্ত প্রশাসন থেকে দোকান খোলা রাখা বা না রাখার বিষয়ে সুস্পষ্ট কিছুই জানি না। আসন্ন পহেলা বৈশাখ ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কিছু মাল এনে চিন্তায় পড়ে গেছেন তিনি।

প্রতিদিন সকাল ৮ টা বা ১০ টা থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত খোলার অনুমতি পেলেও খুশী একই মার্কেটের মিনি ফ্যাশানের বিক্রেতা বাবুল হাওলাদার। তিনি বলেন, ঈদ উপলক্ষে দোকান মালিক ২ জন নতুন কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছে। তিন দিন কাজ না করতেই লকডাউনের ঘোষণা আসলো। মালামাল বিক্রি করতে না পারলে বেতন দেওয়ায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।

তিনি আরও বলেন, এক সপ্তাহ পরে যদি লকডাউন না বাড়ানো হয় তবুও হতো। আশঙ্কা করছি গত বারের ন্যায় এবারও হয়তো কয়েক মাস স্থায়ী হবে লকডাউন।

নগরীর গনকপাড়ার রঞ্জু গার্মেন্টসের দোকানী সোহাগ। ঈদে ভালো বেচা-বিক্রির আশায় ১৮ থেকে ২০ লাখ টাকার মালামাল কিনেছেন তিনি। হঠাৎ লকডাউন ঘোষণায় দিশেহারা হয়েছেন এ দোকানী। এবারের ঈদেও বিক্রি করতে না পারলে পথে নামতে হবে বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেন তিনি।

শুধু সাহেব বাজার বা গনকপাড়া নয়, একই চিত্র মিলেছে নগরীর নিউ মার্কেটেও। নিউ মার্কেটের টিহা শাড়ি ঘরের বিক্রেতা হিমু বলেন, গতকাল (শনিবার) লকডাউন ঘোষণার আগে বিক্রি করছি মাত্র ৪ হাজার টাকার মতো। আর লকডাউন ঘোষণার পর বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত ৩৫ হাজার টাকারও বেশি বিক্রি করছি। সরকার একেবারেই দোকানপাট বন্ধ করে দিলে এবার আরও বেশি খারাপ অবস্থা হবে বলে জানান তিনি।

জানতে চাইলে নিউ মার্কেট দোকান মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক ও রিসেন্ট টেইলার্সের মালিক মঞ্জুর হোসেন বলেন, বিভাগীয় শহরের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা চট্টগ্রামে। সেখানে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দোকানপাট খোলা রাখা গেলে রাজশাহীতে কি সমস্যা? আমাদের অন্তত ২ থেকে ৫ ঘন্টা খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হোক।

প্রশাসনের সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এর আগে যে কোনো সিদ্ধান্তের ব্যাপারে প্রশাসন আমাদের ডেকে আলোচনায় বসতো। কিন্তু এবার এখন (রোববার দুপুর) পর্যন্ত কোনো কিছুই বলে নি।

এবিষয়ে রাজশাহী ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের সাধারন সম্পাদক ও আরডি মার্কেট মালিক সমিতির সভাপতি ফরিদ মামুদ হাসান বলেন, করোনা মহামারীতে এক বছরেরও অধিক সময় সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। মন্দা পরিস্থিতিতে আমরা অনেক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি। আমাদের ক্ষতি কাঁটিয়ে উঠতে আমরা সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখতে চাই। এক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন আন্তরিকতা না দেখালে দল-মত নির্বিশেষে কঠোর আন্দোলনে নামবেন বলেও জানান তিনি।

 

 

আরপি/এসআর



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

Top