রাজশাহী বৃহঃস্পতিবার, ২২শে ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১ই ফাল্গুন ১৪৩০

চাঁপাইনবাবগঞ্জে রিমান্ডে আসামির মৃত্যু, পুলিশের দাবি আত্মহত্যা


প্রকাশিত:
৮ জুলাই ২০২০ ০০:২১

আপডেট:
২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১০:০৪

ছবি: রিমান্ডে থাকা হেরোইন মামলার এক আসামী

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় রিমান্ডে থাকা হেরোইন মামলার এক আসামীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সোমবার সন্ধ্যায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে বুকে ব্যাথা নিয়ে তার মৃত্যু হয় বলে নিশ্চিত করেছেন চিকিৎসক। তবে পুলিশের দাবি সে আত্মহত্যা করেছে।

মৃত আফসার আলী (৩৫) জেলার সদর উপজেলার চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার অন্তর্গত টিকরামপুর মধ্যপাড়া এলাকার মহসিন আলীর ছেলে।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহবুব আলম খান জানান, ৫ জুলাই রোববার দুপুর সাড়ে ১২টায় ১ কেজি ১৯৫ গ্রাম হেরোইনসহ সদর উপজেলার বাগডাঙ্গা শুকনাপাড়া এলাকার একটি আমবাগানের সামনে র‌্যাব-৫ এর অভিযানে গ্রেফতার হন আফসার আলী। ওইদিনই তাকে থানায় সোপর্দ করে মাদকদ্রব্য আইনে মামলা দায়ের করে র‌্যাব।

পরে ৬ জুলাই সোমবার দুপুরে পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে আদালতের মাধ্যমে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে আদালত একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এরই প্রেক্ষিতে সোমবার সন্ধ্যার দিকে আফসার আলীকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় এনে থানা হাজতে রাখা হয়।

এর কিছুক্ষণের মধ্যে সন্ধ্যা ৭ টা ২০ মিনিটের দিকে ডিউটিরত পুলিশ কনস্টেবল আলমগীর হোসেন সিসি টিভিতে দেখতে পান হাজত খানায় থাকা একটি স্ট্যান্ড ফ্যানের তার ছিঁড়ে তা দিয়ে ঝুলে আত্মহত্যার চেষ্টা করছে আশরাফ। সেই দৃশ্য দেখে পুলিশ সদস্যরা তাকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে হাজত খানা থেকে উদ্ধার করে দ্রুত নবাবগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক প্রায় ৪৫ মিনিট চিকিৎসা চালিয়ে তাকে বাঁচাতে ব্যর্থ হন। ফলে রাত সোয়া আটটার দিকে চিকিৎসক আফসার আলীকে মৃত ঘোষণা করেন।

আর এ বিষয়টি সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগের মেডিকেল অফিসার মো. সুলতানুল আরেফিন সদর মডেল থানার ওসিকে লিখিতভাবে অবহিত করেছেন।

তবে এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক রোহানী আক্তার জানান, আফসার আলীকে পুলিশ সদস্যরা যে সময় হাসপাতালে নিয়ে আসেন সে সময় তার বুকে ব্যাথা ছিলো। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এদিকে, ঘটনার পর গভীর রাতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জাকিউল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেলেও আজ মঙ্গলবার দিনের যে কোন সময় মরদেহ পরিদর্শণ করে তবেই মৃত্যুর প্রাথমিক কারণ জানাবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। আর এ ঘটনায় সদও মডেল থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।

তবে এ ঘটনাকে পুলিশের টর্চারে মৃত্যু বলে দাবী করছে তার পরিবার।

 

আরপি/আআ-০১



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

Top