রাজশাহী মঙ্গলবার, ২৭শে জুলাই ২০২১, ১৩ই শ্রাবণ ১৪২৮

চাঁপাইনবাবগঞ্জে খাদ্যে বিষক্রিয়ায় জমজ দুই বোনের মৃত্যু


প্রকাশিত:
৬ জুলাই ২০২১ ২৩:৪৭

আপডেট:
২৭ জুলাই ২০২১ ১০:২২

ফাইল ছবি

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার কালিতলায় কলেজ পড়ুয়া জমজ দুই বোন অসুস্থ হয়ে মারা গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

নিহতরা দুই বোন শহরের ডিসি মার্কেট সংলগ্ন রবি ট্রেডার্সের সত্বাধিকারী ও ২ নং কালিতলা মহল্লা নিবাসী মোহাম্মদ রবিউল ইসলামের মেয়ে নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ ও মহিলা কলেজের উচ্চমাধ্যমিক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী দুই বোন শম্পা (১৭) ও স্বর্ণা (১৭)।

এ বিষয়ে ২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জিয়াউর রহমান দুই মেয়ের মারা যাবার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সোমবার সন্ধ্যায় পৌর এলাকার পুরাতন বাজারের শাজাহান হোটেল থেকে মংলায় পরোটা কিনে নিয়ে জান রবিউল ইসলাম রবি। পরে রাতে মংলায় পরোটা খেয়ে খাদ্যে বিষক্রিয়ায় রবির স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন, মেয়ে স্বর্ণা ও শম্পা এবং আত্মীয় সিফাত (২০) অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের সকলকে নবাবগঞ্জ সদর মডেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয় । সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে স্বর্ণা ও তার মাকে বাসায় পাঠিয়ে দেয়া হলে সকাল সাড়ে নয়টার দিকে বাসাতেই মারা যান স্বর্ণা। তবে হাসপাতালে শম্পার অবস্থা আরো খারাপ হলে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে দুপুর দুইটাই মারা যান তিনি। তবে মোংলাই পরাটা খেয়ে খাদ্যে বিষক্রিয়ায় অসুস্থ হয়ে মৃত্যু না অন্য কোন কারণ সেটি তদন্ত সাপেক্ষে জানা যাবে বলেও জানান আরমান।

এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মিন্টু রহমান জানান, ঘটনা সম্পর্কে জেনেছি। তবে থানায় এখন পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ করেনি। তবে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে সরকারি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা জানিয়েছেন, মৃত্যুর বিষয়টি স্বাভাবিক। পরিবারের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ নেই। সে ক্ষেত্রে স্বাভাবিক ভাবেই বিষয়টি সমাধান হয়ে যাবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিহত শম্পা ও স্বর্ণার এক আত্মীয় প্রবাস থেকে জানান, আমরা শুনেছি রবিউল ইসলাম বাড়ির জন্য মোগলাই পরাটা নিয়ে এসে তিনিসহ পরিবারের সকলে খেয়ে যে যার মত শয়ন কক্ষে চলে যান। এরপর থেকে একে অসুস্থ হতে থাকেন ৪ জন। তবে রবিউল ইসলাম বর্তমানে সুস্থ আছেন।

এ বিষয়ে শাহজাহান হোটেলের মালিক জামাল উদ্দিন নাসের জানান, দোকানের মোগলাই পরাটা খেয়ে মৃত্যু এটি নিছক গুজব। আসলে আমাদের দোকান থেকেই যে মোগলাই নেয়া হয়েছিল কিনা সেটাও আমি জানি না। জামাল উদ্দিন নাসের আরও বলেন, শহরে বহু বছর ধরে স্বাস্থ্য সম্মত উপায়ে সকল প্রকার খাবার তৈরী ও বিক্রি করে আসছি আমরা সুনামের সাথে।

এদিকে মৃত্যুর সঠিক কারণ বা মোংলাই পরাটা খেয়ে অসুস্থ কি না জানার জন্য নিহতদের পরিবারের আত্মীয় স্বজনের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করে কারও বক্তব্য পাওয়া যায় নি।

 

 

আরপি/এসআর-২৪



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

Top