রাজশাহী মঙ্গলবার, ২৪শে নভেম্বর ২০২০, ১১ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭

রাজশাহীতে নিবন্ধন ছাড়াই চলছে ১৪ হাজার খামার


প্রকাশিত:
২৫ অক্টোবর ২০২০ ১৯:৩২

আপডেট:
২৬ অক্টোবর ২০২০ ১১:০৬

ছবি: রাজশাহী প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর

রাজশাহীতে নিবন্ধন ছাড়াই চলছে ১৪ হাজার ৯৬টি গবাদিপ্রাণি ও পোল্ট্রির খামার। এসব খামার রয়েছে সরকারের নজরদারির বাইরে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পোল্ট্রি নীতিমালায় দুর্বলতা এবং খামারিদের গাফিলতির কারণেই খামারগুলো চলছে নিবন্ধন ছাড়াই।

মূলত রাজস্ব ফাঁকি দিতেই খামারিরা নিবন্ধন করছেন না। এসব পাশাপাশি পোল্ট্রি ফিড উৎপাদনকারী অনেক প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন নেই বলে জানা গেছে। নিবন্ধিত হলেই মানসম্পন্ন উৎপাদন নিয়ে প্রশ্ন উঠবে এরপর কঠোর আইনের আওতায় আসবে। এসব কথা চিন্তা করেই নিবন্ধন করতে আগ্রহী হচ্ছে না খামারিরা।

রাজশাহী প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় হাঁস, মুরগি, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, গাভীসহ গবাদিপ্রাণি ও পোল্ট্রির মোট ১৪ হাজার ২২০ টি খামার রয়েছে। এরমধ্যে ১৪ হাজার ৯৬টি পোল্ট্রি খামার অনিবন্ধিত এবং নিবন্ধিত খামার মাত্র ১২৪ টি। সবচেয়ে বেশি গরু হৃষ্টপুষ্টকরণ খামার। যার পরিমাণ ১০ হাজার ৩৫৪টি হলেও একটিও নিবন্ধিত নয়।

এছাড়া, ৩৩৯টি গাভীর খামারের মধ্যে নিবন্ধিত ৪০টি, ছাগলের ২৬২টি খামারের মধ্যে ২০টি, ভেড়ার ১৯৬টির মধ্যে ২০ টি, ৪৪৪ টি লেয়ার মুরগির খামারের মধ্যে ২৮টি, ব্রয়লার ৮৫৭ টির মধ্যে মাত্র ১২টি এবং হ্যাচারি বা ব্রিডার ৮টি খামারের মধ্যে ৩টির নিবন্ধন রয়েছে।

অপরদিকে, নিবন্ধন নেই ১০ হাজার ৩৫৪টি গরু হৃষ্টপুষ্টকরণ খামারের, মহিষের ১১৯টি, সোনালী মুরগির ৫১টি, কবুতরের ১২২২টি, টার্কি ১৯৪, কোয়েলের ৪২টি খামারের।

জানতে চাইলে অতিরিক্ত জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ অন্তিম কুমার সরকার  বলেন, নিবন্ধন এখন পর্যন্ত বাধ্যতামূলক করা হয়নি। বাধ্যতামূলক করলে পোলট্রি উন্নয়ন নীতিমালা অনুযায়ী যেসব খামার এটার আওতায় আসবে সবগুলো খামার নিবন্ধন করা হবে।

প্রায় ১০ হাজার গরু মোটাতাজাকরণ খামার থাকলেও নিবন্ধন না থাকার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, গরু মোটাতাজাকরন খামারগুলো ৩ মাস মেয়াদী হয়ে থাকে। তারা ৩ মাস পার হয়ে গেলে অনেকেই আর গরু খামারে তোলেন না। এক্ষেত্রে তাদের নিবন্ধন তালিকায় নিয়ে আসা হয় না। বর্তমানে খামার নিবন্ধন সংখ্যা বাড়ছে।

জানা গেছে, পোলট্রি উন্নয়ন নীতিমালা প্রণয়ন করা হলেও সেখানে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়নি। নীতিমালার ২.২ ধারা বলা হয়েছে ব্যবসার উদ্দেশ্যে ১০০ বা এর বেশি পোলট্রি পালনকে বাণিজ্যিক হিসেবে গণ্য হবে। কিন্ত বাস্তবে ৫০০বা ১০০০ কিংবা তারও বেশি মুরগির খামারকেও নিবন্ধনের আওতায় আনা হচ্ছে না। আবার বাণিজ্যিক খামারে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়নি। বিদ্যমান নীতিমালা অনেকাংশ প্রয়োগ হচ্ছে না বলে অভিযাগ রয়েছে উদ্যোক্তা ও খামারিদের।

এ বিষয়ে রাজশাহী পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক বলেন, সরকারি হিসেবে যে তালিকা করে রাখা হয়েছে তার চেয়ে খামার সংখ্যা বাড়ছে। রাজশাহীতে লেয়ার, ব্রয়লার, হাঁসের খামার প্রতিনিয়ত বেড়ে চলেছে। অনিবন্ধিত খামারের সংখ্যা শতকরা ৯০ ভাগেরও বেশি। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ঋণ নিতে অনেক খামারি নিবন্ধন করছে। আমরা নিবন্ধন করতে উৎসাহ প্রদান করছি।

মানসম্পন্ন উৎপাদন নিয়ে শঙ্কা, ভ্যাট প্রদান কিংবা সরকারি হয়রানির ভয়ে খামারিরা নিবন্ধনে আগ্রহী হচ্ছেনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, একটা সময় নিবন্ধন নিয়ে খামরিদের ভয় ছিল। তারা নিবন্ধন করতে চাইতো না। কিন্তু এখন সেই ভয় নেই, খামারিরা নিজ উদ্যোগে নিবন্ধন করতে আগ্রহী হয়েছেন।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, রাজশাহীর তানোর, বাগমারা,পবাসহ কয়েকটি উপজেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে ৩ হাজারের বেশি পোলট্রি খামার রয়েছে। লেয়ার খামার আছে প্রায় ৪৭২টি এবং ব্রয়লার ৮৬৯টি।

রাজশাহীর পবা উপজেলার হুরপুর গ্রামের খামারি মুস্তাকিম বিল্লাহ বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত হলে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সহায়তা দেয়া হয় না। ইউনিয়ন পরিষদেও একটি নিবন্ধন আছে। সেটাই প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কি না জানিনা। নিবন্ধন করলে নাকি টাকা পাওয়া যাবে, ঋণ সুবিধা দেওয়া হবে এ কারণে নিবন্ধন করেছি।

খামার নিবন্ধন বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সব ধরনের বাণিজ্যিক খামার, ব্রিডার ফার্ম, হ্যাচারি, ফিড মিলগুলোকে বাধ্যতামূলকভাবে নিবন্ধনের আওতায় আনতে হবে। নিরাপদ পোল্ট্রি খাদ্য নিশ্চিত করতে এটি খুবই জরুরি। খামারের জীব নিরাপত্তা, বর্জ্য নিষ্কাশন, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ সন্তোষজনক না হলে নিবন্ধন দেয়া উচিত হবে না।

বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিলের (বিপিআইসিসি) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের মধ্যে দেশের মোট জনসংখ্যার চাহিদা মেটাতে দৈনিক ৪ কোটি ১০ লাখ পিস ডিম এবং ৫,৪৮০ মেট্রিক টন মুরগির মাংসের প্রয়োজন হবে।

রাজশাহীতে নিবন্ধন ছাড়াই চলছে ১৪ হাজার খামার। এসব খামারে স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ মুরগির মাংস ও ডিম নিশ্চিত করতে খামারিদের নিবন্ধনের আওতায় আনতে বিদ্যমান নীতিমালা সংশোধনের সুপারিশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

 




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

Top