রাজশাহী শুক্রবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৫ই আশ্বিন ১৪২৯

রাজশাহীতে জমেছে মোটরসাইকেল বিক্রির হাট


প্রকাশিত:
১০ সেপ্টেম্বর ২০২২ ০৭:৫৬

আপডেট:
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২ ০০:৪৩

ছবি: মোটরসাইকেল বিক্রির হাট

পশু কিংবা বাজার সদাইয়ের জন্য নয়, রাজশাহীতে এবার গড়ে উঠেছে এক ব্যতিক্রমী হাট। এ হাটে পুরাতন মোটরসাইকেল বেচাকেনা করতে চলে আসেন ক্রেতারা। অন্যরকম এই হাটে দূর-দূরান্ত থেকে ক্রেতা-বিক্রেতার ও দর্শনার্থীদের ভিড় জমেছে জমজমাট।

রাজশাহী নগরীর নওহাটা পৌর সবজি হাটে প্রতি শুক্রবার দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে এই হাট। শুধু রাজশাহী নয়, পার্শ্ববর্তী চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর ও নওগাঁ থেকেও আসেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। অনেকে পছন্দের পুরাতন গাড়িটি কিনে ফিরেন বাসায়, আবার অনেকে চাহিদা অনুযায়ী না পেয়ে ফিরেন বাসায়।

শুক্রবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, হাটে সারি সারি সাজানো হয়েছে প্রায় সব মডেলের মোটরসাইকেল। মালিকদের পাশাপাশি মূল মালিকদের কাছ থেকেও কিনে আনেন অনেক ব্যবসায়ী। যারা পুরনো মোটরসাইকেল কেনা ও বিক্রির পেশাতেই জড়িয়েছেন নিজেকে। আবার অনেকে হাট থেকে মোটরসাইকেল কিনে হাটেই বিক্রি করেন।

ক্রেতা ও বিক্রেতাদের প্রয়োজনে সার্বিক সহযোগিতায় রয়েছেন হাট কর্তৃপক্ষ। তারা জানিয়েছেন, বিক্রির মোটরসাইকেল হাটে তুলতে কোন খাজনা দিতে হয় না। তবে গাড়ি বিক্রি হলে ক্রেতা ও বিক্রেতা মিলে গুনতে হয় ১ হাজার টাকা। এর মধ্যে ক্রেতা দিবে ৬০০ টাকা আর বিক্রেতা দিবে ৪০০ টাকা।

পার্শ্ববর্তী মধ্য পুঠিয়াপাড়া থেকে হাটে এসে মোটরসাইকেল কিনেছেন পলাশ আলী। সরকারি এই চাকরিজীবী বলেন, ’একটা গাড়ি কেনার খুবই ইচ্ছে ছিল। হাটে এসে দেখাদেখির এক পর্যায়ে গাড়িটা পছন্দ হয়। টাকা ব্যাংকে থাকায় সামান্য টাকা দিয়ে বায়নাপত্র করলাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘নতুন গাড়ি কিনলে, আজ কিনে কাল বিক্রি করলেও লস। কিন্তু পুরাতন গাড়ি কিনলে যখনই বিক্রি করি সাশ্রয়ী হবে। পুরাতন গাড়ি বলে ১ লাখ ১৩ হাজার টাকা দিয়ে কিনতে পারলাম। কিন্তু নতুন কিনতে গেলে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা লাগতো।’

পুরাতন মোটরসাইকেল হাট চালুর উদ্যোগ নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে হাট পরিচালক আব্দুল বারিক বলেন, এলাকার যুবক ছেলেদের কর্মসংস্থানের অনেক অভাব। আমি ব্যবসার পাশাপাশি হালকা পাতলা রাজনীতির সাথেও জড়িত। এখানে প্রায় ৩০ জন যুবক স্বেচ্ছাসেবী রয়েছে, যারা প্রায় সবাই শিক্ষিত। বিভিন্ন কাজ করলেও শুক্রবার সবাই বেকার সময় কাটান।

‘এর মাধ্যমে নওহাটা বাজারের একটা উন্নয়ন হবে। অনেক লোকের কর্মসংস্থান হবে। পাশাপাশি বিশ্বস্ততার সাথে অল্প দামে একটা পুরনো গাড়ি নিতে পারবে। সেই চিন্তা থেকেই হাটের আয়োজন করা। আর এখান থেকে উপার্জিত অর্থ চিকিৎসাবঞ্চিত মানুষের চিকিৎসার কাজে ব্যয় হবে।’

মোটরসাইকেল কেনা-বেচার নিয়ম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এখানে প্রতিটি মোটরসাইকেল কেনার ক্ষেত্রে ক্রেতাকে ৬০০ টাকা ও বিক্রেতাকে ৪০০ টাকা দিতে হয়। আর শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় কাগজ যাচাই-বাছাইয়ে অনেক সময় সমস্যা হয়। সেক্ষেত্রে যেসব গাড়ি সন্দেহ হয় সেসব গাড়ির কিছু টাকা জমা রাখা হয়, পরে যাচাই-বাছাই শেষে সেই টাকা ফেরত দেওয়া হয়।'

তিনি আরও বলেন, 'আজ (শুক্রবার) পঞ্চম হাট। প্রথম হাটে ৫টি গাড়ি বিক্রি হয়েছে। আর এখন পর্যন্ত মোট ২৩টি গাড়ি বিক্রি হয়েছে। আমরা প্রতিটি গাড়ির ক্যাশ মেমো দেই। ইঞ্জিন নম্বর , চেসিস নম্বর আমরা নিজেরাই যাচাই করি। কোনো গাড়ি সন্দেহ হলে আটকাইয়ে প্রশাসনে দিয়ে দিবো।'

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এই হাট নিয়ে শুধু আমার না, বহু লোকের স্বপ্ন এখানে আছে। অদূর ভবিষ্যতে চিকিৎসা বঞ্চিত মানুষ সমিতির পক্ষ থেকে যারা অর্থের অভাবে চিকিৎসা নিতে পারে না, ঔষধ কিনতে পারে না তাদের সহায়তা করার চিন্তা আছে। পাশাপাশি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সাহায্য করার চিন্তা আছে। আমি চাই হাটটা প্রতিষ্ঠিত হোক। এখানকার দোকানগুলোতে ভালো বেচা বিক্রি হোক, আর আমি যেন সবার সেবা করতে পারি এটাই প্রত্যাশা।’

হাটের স্বেচ্ছাসেবক ফজলে রাব্বির সাথে কথা হয়। তিনি বলেন, ‘আমি একটা আইটি ফার্মে কাজ করছি। পাশাপাশি শুক্রবার ছুটির দিনে এই হাটে সময় দেই। এটা একটা অপরিচিত হাট। অনেক দূরদূরান্ত থেকে লোকজন হাট দেখতে আসে। যারা কিনছেন বা বিক্রি করছেন সবাই সুযোগ সুবিধা পাচ্ছেন। আমরা এটা করতে পেরে ভালো লাগছে।’

এদিকে হাটের শৃঙ্খলা রক্ষায় সার্বিক সহযোগিতায় রয়েছে পবা থানা পুলিশ। চোরাই মোটরসাইকেল বিক্রি রোধে তৎপর ভূমিকা পালন করছেন তারা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পবা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফরিদ হোসেন বলেন, ‘হাটের শুরু থেকেই আমরা বলে আসছি এখানে যেন কোনো চোরাই মোটরসাইকেল বেচাকেনা না হয়।

কেননা এই হাটের সুযোগে খারাপ লোকজন অপকর্ম করতে পারে। এই ব্যাপারে আমরা সজাগ দৃষ্টি রাখছি। হাট কর্তৃপক্ষকেও বলা আছে যেন কেনা-বেচার ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই করে নেন। এখন পর্যন্ত হাটে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে নি বলেও জানান ওসি।

 

 

 

আরপি/এসআর



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

Top