রাজশাহী শুক্রবার, ২৩শে এপ্রিল ২০২১, ১০ই বৈশাখ ১৪২৮

চায়ের কাপে রেবেকা বুবুর জীবনযুদ্ধ


প্রকাশিত:
১৭ মার্চ ২০২১ ১৭:৩৪

আপডেট:
২৩ এপ্রিল ২০২১ ০৩:০০

ছবি: রেবেকা খাতুন

কাক ডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দোকানে পরম যত্নের সাথে কাজ করেন। ক্রেতাদের চাহিদানুযায়ী চায়ের কাপ বা গ্লাসটি বারবার গরম পানি দিয়ে ধুয়ে পুনরায় চা পরিবেশন করেন। দোকানের ক্রেতাদের সাথে কথাও বলেন মাধুর্য নিয়ে। তার মিষ্ট ব্যবহারে জাতি ধর্ম বর্ণ সম্প্রদায় উপেক্ষা সকলে ছুটছে চা-পান করার জন্য। এভাবে জীবন জীবিকার সংগ্রামে কাজ করছেন রেবেকা খাতুন।

রাজশাহীর চারঘাট বাজারে রেবেকার চায়ের দোকানে ক্রেতা সমাগম নেহাত কম নয়। এই আয় দিয়েই সংসারে সচ্ছলতা এসেছে তার। রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার হঠাৎ পাড়া গ্রামের বিধবা রেবেকা খাতুন। স্বামী মারা যাওয়ার পর এক সন্তান নিয়ে কি করবেন বুঝতে পারছিলেন না। স্বামী কিছুই রেখে যাননি শুধু সন্তানদের ছাড়া। শুধু পেটের ক্ষুধা নিবারণের জন্য বছর পনেরো আগে চায়ের দোকান দেন রেবেকা খাতুন।

রেবেকা খাতুন জানালেন তার সফলতার এক নির্মম কাহিনী। তার মতে, আমার স্বামী-সংসার সবই ছিল। প্রায় পঁচিশ বছর আগে এক সন্তানের মা হন। এর কিছুদিন পরে স্বামী মারা যায়। নিজস্ব জমিজমা না থাকায় একমাত্র সন্তানকে নিয়ে চোখে অন্ধকার দেখেন। আশ্রয় নেন অন্যের জমিতে। সংসারে পরিশ্রমী কেউ না থাকায় অনাহারে অর্ধাহারে কাটতে থাকে দিন।

এক সময় শুধু পেটের ক্ষুধা নিবারণের জন্য অন্যের দোকানে তিন বেলা খাওয়াসহ সামান্য কিছু বেতনে কাজ শুরু করেন। দীর্ঘদিন বিভিন্ন দোকানে কাজ করেও সংসারে সচ্ছলতার পথ খুঁজে পান না রেবেকা। একটি বেসরকারি এনজিও সংস্থা থেকে মাত্র ৫ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে শুরু করেন চায়ের দোকান। ছেলে ও ছোট বোনকেও সহযোগিতার জন্য রেখে দেন। বাজারের সদরে হওয়ায় অল্প দিনেই জনপ্রিয়তা পায় রেবেকার চায়ের দোকান। এখন তিনি রেবেকা বুবু নামেই পরিচিত।

কোনোভাবে তিন বেলা খেয়ে ধীরে ধীরে টাকা জমিয়ে চায়ের পাশাপাশি বিস্কুট, কেকসহ বিভিন্ন হালকা নাশতার পণ্য তোলেন রেবেকা। এতে রেবেকা খাতুনের চায়ের দোকানে ক্রেতার সংখ্যা আরও বাড়তে থাকে। এরপর আর পেছনের দিকে তাকাতে হয়নি রেবেকা খাতুনকে। এই চায়ের দোকান চালিয়ে রেবেকা খাতুন কিনেছেন মাথা গোঁজার জন্য পাঁচশতক জমি। তৈরি করেছেন একটি বাড়ি। একমাত্র ছেলেকে স্বাবলম্বী করে তাকেও বিয়ে দিয়েছেন। সংসারে এসেছে সচ্ছলতা।

রেবেকার চায়ের দোকানের নিয়মিত ক্রেতা চারঘাটের মিয়াপুর গ্রামের প্রভাষক মিঠু রানা। তিনি বলেন, রেবেকার চায়ের দোকানের পরিচয় আজ সব ধরনের শ্রেণী-পেশার মানুষের কাছে। কারণ রেবেকার চায়ের প্রশংসা কুড়িয়েছে। ব্যাংক, বীমা ও আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের খুব সন্নিকটে রেবেকার চায়ের দোকান হওয়ায় ভিড় জমে থাকে বেশিরভাগ সময়।

এ বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ ফকরুল ইসলাম বলেন, আমার দেখা জীবন যুদ্ধের সংগ্রামে সফল নারী রেবেকা। তার অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে তিনি পেয়েছেন সফলতা। তাকে অনুসরণ করলে সমাজের অনেক নারী হয়তো পাবেন এমন সফলতা। অনেকে হাঁস-মুরগি পালন করেও পেয়েছেন সফলতা। রেবেকাকে অনুসরণ করলে অনেক নারী আত্মনির্ভরশীল হওয়ার পথ খুঁজে পাবেন।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

Top