রাজশাহী শনিবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০ই আশ্বিন ১৪২৮

রাজশাহীতেই চাষ হচ্ছে ত্বীন


প্রকাশিত:
১৭ মার্চ ২০২১ ১১:৫৭

আপডেট:
১৭ মার্চ ২০২১ ১২:০৬

ছবি: ত্বীন ফল

ত্বীন ফলের নাম অনেকেই শুনেছেন পবিত্র কোরআন শরীফে। কেউ কেউ আবার দেখেছেনও। তবে ফলটি বাংলাদেশের মানুষের কাছে তেমন পরিচিতি পায় নি এখনও। পুষ্টিগুণে ভরপুর, মিষ্টি, সুস্বাদু ও রসে টইটম্বুর ত্বীন ফলের চাষ হচ্ছে এখন রাজশাহীতেও।

মরু অঞ্চলের ফল হলেও বাংদেশের মাটি ও আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়েই বেড়ে উঠছে গাছটি। রাজশাহী নগরীর মহিষ বাথান কলোনী এলাকায় বাস করেন শিহাব উদ্দিন। আজ থেকে প্রায় ১০ বছর আগে হাতে গোনা কয়েকটি ফল, ফুল ও সবজির গাছ লাগানোর মাধ্যমে ছাদবাগান শুরু করেন অবসরপ্রাপ্ত এই ব্যাংক কর্মকর্তা। স্ত্রী শামীমা আরার নিরবিচ্ছিন্ন রক্ষনাবেক্ষনে নিরবেই বেড়ে উঠছে বাগানের গাছগুলো। প্রায় ৮০ প্রজাতির ফল-ফুলের বাগান করে প্রতিবেশিদের তাক লাগিয়েছেন এই দম্পতি।

বাড়ির ছাদে গড়ে তোলা মিশ্র ফল বাগানের শোভাবর্ধন করছে ত্বীন ফল। প্রায় ৩/৪ মাস আগে শখের বসে নার্সারী থেকে ত্বীন গাছ এনে ছাদবাগানে যুক্ত করেন শিহাব উদ্দিন। চারা আনার সময় ফল ধরা নিয়ে সংশয়ে থাকলেও ফল ধরতে দেখে কিছুটা অবাক হন তারা। মুখে ফোটে স্বস্তির হাসি।

এ বিষয়ে তিনি জানান, ত্বীনগাছটি কোনো রকম রাসায়নিক সার ছাড়াই, মাটিতে জৈব ও কম্পোস্ট সার মিশিয়ে টবে লাগিয়েছেন। সবুজ লকলকে প্রসারিত শ্যামল পাতার গাছটি লম্বায় ৩ থেকে ৪ ফুট হয়ে থাকে। আগা থেকে গোড়া পর্যন্ত ডুমুর আকৃতির এই ফল সবার দৃষ্টি কেড়েছে। বর্ষা ও শীতে ফল কম হলেও বছরের অন্যান্য সময়ে প্রতিটি পাতার গোড়ায় জন্মে একটি করে ফল। ছয় মাসের ব্যবধানে খাওয়ার উপযোগী হয় এক একেকটি ফল। সম্পূর্ন পাকার পরে গোলাপি ও হলুদাভ রংয়ের ত্বীন রসে ও মিষ্টিতে ভরপুর হয়।

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশে এই ফলের চারা এখন অনেকটাই সহজলভ্য। স্বাভাবিক পরিচর্যার মাধ্যমে ত্বীন বড় হয়। বেশি পানি ব্যবহার করতে হয় না। বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা গেলে দেশের পুষ্টি চাহিদা পূরণে তা সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি বেকার যুবকদের সম্পৃক্ত করতে পারলে নতুন কর্মসংস্থান হবে এবং অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এছাড়াও বিদেশ থেকে ত্বীনের আমদানি নির্ভরতা কমে আসার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় করা সম্ভব হবে।
শিহাব উদ্দিনের ছাদবাগানে ত্বীন ছাড়াও প্রায় ৮০ প্রজাতির ফল-ফুলের গাছ আছে। সৌখিন এই বাগানী বলেন, বাগানটিতে সিডলেস জাম, জামরুল, এলাচী লেবু, ব্যানানা ম্যাংগো, পেঁপে, গৌড়মতি আম, মিষ্টি তেঁতুল, থাইড্রপ আম, তেঁতুল, কালো পাতার ব্ল্যাক বক্স আম, কলা, থাই জাম, দেশি জাম, করমচা, বেদানা, অভিসারিকা আম, সুইট লেমন, অরুনা (আম) বনসাই করে রাখা হয়েছে।

মসলা জাতীয় গাছের মধ্যে অল স্পাইস, তেজপাতা, দারুচিনি, গোলাপ জামসহ আরও অনেক গাছ ঠাঁই পেয়েছে। শোভাবর্ধনকারী হিসেবে রয়েছে নীল অপরাজিতাসহ বিভিন্ন রঙের অপরাজিতা, ফায়ার বল, বিভিন্ন ধরনের জবা, এ্যাডেনিয়াম, এলামুন্ডা, ৩০ থেকে ৩৫ প্রজাতির গোলাপ, লাইলী-মজনু, বিভিন্ন ধরনের পাতা বাহার, সাইকাস, এ্যারোমেটিক জুঁই, টগর, কামিনী, মধুমালতি, মাধবীলতা, বিভিন্ন ধরনের অর্কিড, ক্যাকটাসসহ ৭০ থেকে ৮০ প্রজাতির ফুল।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্রেস্ট ক্যান্সার রোধে এই ফল খুবই উপকারী। এ ছাড়া নানা রোগ নিরাময়ে বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ত্বীন। এতে প্রচুর পটাসিয়াম ও ক্যালসিয়াম বিদ্যমান। পুষ্টি চাহিদা পূরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ত্বীন।

ত্বীন ফল চাষ সম্পর্কে রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মোছা. ছালমা বেগম বলেন, ত্বীন বা ডুমুর সম্পর্কে তেমন জানা নেই। বাজারে কেমন চাহিদা, বাণিজ্যিকভাবে চাষ করলে কতটুকু লাভবান সম্ভব এসব নিয়ে বিস্তারিত জানার পর বলা যাবে।

 

 

আরপি/এসআর



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

Top