রাজশাহী শুক্রবার, ২৩শে এপ্রিল ২০২১, ১০ই বৈশাখ ১৪২৮


মহাদেবপুরে আমের মুকুলের মৌ মৌ ঘ্রাণে সুবাসিত প্রকৃতি


প্রকাশিত:
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ১৭:২২

আপডেট:
২৩ এপ্রিল ২০২১ ০২:১৬

ছবি প্রতিনিধি

কোকিলের সুমিষ্ট কুহুতালে ফাগুনের উত্তাল বাসন্তী হাওয়া দিচ্ছে দোলা। এসেছে ঋতুরাজ বসন্ত। আগুন ঝরা ফাগুনে গাছে গাছে জেগে উঠছে সবুজ পাতা। প্রকৃতির পালাবদলে নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার আম গাছগুলোতে মুকুলের মিষ্টি সুবাসে মৌ মৌ করছে প্রকৃতি। জানান দিচ্ছে মধুুমাসের আগমনী বার্তা। দক্ষিণা বাতাসে সেই সুমিষ্ট ঘ্রাণ মানুষের মনকে বিমোহিত করে তুলছে। মৌমাছিরাও আসতে শুরু করেছে মধু আহরণে।

আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে, বড় কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবং সময়মতো সঠিক পরিচর্যা করা হলে চলতি মৌসুমে আমের বাম্পার ফলন হবে বলে মনে করছে কৃষি বিভাগ। অধিক ফলনের আশায় গাছে মুকুল আসার আগে থেকেই বাগান পরিচর্যা করছেন চাষীরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাদেবপুর উপজেলা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ধান-চালের রাজ্য বলে খ্যাত মহাদেবপুর উপজেলা। বাণিজ্যিকভাবে আম চাষে কৃষকদের তেমন আগ্রহ না থাকলেও গত কয়েক বছর থেকে উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে ৬১০ হেক্টর জমিতে বারি আম-৪, আমরুপালি, ফজলি, খিড়সা, ল্যাংড়া, রাজভোগ ও গোপালভোগসহ বিভিন্ন উন্নত জাতের আম বাণিজ্যিকভাবে চাষ দিচ্ছে। অধিক লাভজনক হওয়ায় প্রতি বছরই বাগানের সংখ্যা বাড়ছে। বাণিজ্যিকভাবে ব্যাপক আম চাষ না হলেও উপজেলার প্রায় প্রত্যেকটি কৃষকের বাড়ির আশেপাশের পরিত্যাক্ত জমিতে অনেক গাছ রয়েছে।

আমচাষী হারুন বলেন, ‘কয়েক দিনের মধ্যে গাছগুলোতে পর্যাপ্ত মুকুল এসেছে। আবহাওয়া অনূকূলে থাকলে আমের বাম্পার ফলন হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বছর জুড়ে বাগান পরিচর্যা করায় প্রতি বছরই আমের ভাল ফলন পাওয়া যাচ্ছে। কৃষি অফিসের পরামর্শে গাছে মুকুল আসার ১৫-২০ দিন আগেই পুরো গাছ সাইপারম্যাক্সিন ও কার্বারিল গ্রুপের কীটনাশক দিয়ে ভালভাবে স্প্রে করে গাছ ধুয়ে দিয়েছি। এতে গাছে বাস করা হপার বা শোষক জাতীয় পোকাসহ অন্যান্য পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। যদি সঠিক সময়ে হপার বা শোষক পোকা দমন করা না যায় তাহলে আমের ফলন কম পাওয়া যায়।’

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ অরুন চন্দ্র রায় বলেন, ‘বিরাজমান আবহাওয়া ও মাটি আম চাষের জন্য উপযোগী। গত বছরের তুলনায় এবছর আমের অধিক ফলন পাওয়ার আশা করা দিচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘গাছে মুকুল আসার আগে এবং আমের গুটি হবার পর নিয়মিত ছত্রাকনাশক স্প্রে করার পরামর্শ দেয়া দিচ্ছে। এছাড়া জৈব বালাইনাশক ব্যবহার করে আমসহ অন্যান্য ফসল চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা দিচ্ছে।’

মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মিজানুর রহমান মিলন বলেন, ‘কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে আমচাষীদের পরিচর্যা ও পরামর্শের বিষয়ে দিক নির্দেশনা দেওয়া দিচ্ছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতা করছেন।’

আরপি/ এসআই-৪



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

Top