রাজশাহী শুক্রবার, ৪ঠা এপ্রিল ২০২৫, ২১শে চৈত্র ১৪৩১


নদীর পানি কমে যাওয়ায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি

বাঁধ ভেঙ্গে ক্ষতিগ্রস্থ চার হাজার হেক্টরের ফসল ও কোটি কোটি টাকার মাছ


প্রকাশিত:
১৭ জুলাই ২০২০ ২৩:১৪

আপডেট:
১৭ জুলাই ২০২০ ২৩:১৪

বাঁধ ভেঙ্গে ক্ষতিগ্রস্থ চার হাজার হেক্টরের ফসল ও কোটি কোটি টাকার মাছ

টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে নওগাঁর আত্রাই নদীর পানি বিপদসীমার কিছুটা উপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও ছোট যমুনা নদীর পানি কমে পেয়ে বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের কয়েকটি জায়গায় ভেঙে জেলার রানীনগর, আত্রাই ও মান্দা উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় ২০ হাজার পরিবার পানিবন্ধী হয়ে পড়েছে।

আত্রাই উপজেলার কয়েকটি স্থানে সড়ক ভেঙ্গে গিয়ে মান্দা-আত্রাই আঞ্চলিক সড়কের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। মান্দা উপজেলার আত্রাই নদীর উভয় তীরের নুরুল্লাবাদ উত্তরপাড়া, জোকাহাট, চকরামপুর ও কয়লাবাড়ি নামক স্থানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে মান্দা-আত্রাই আঞ্চলিক সড়কের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

বাঁধ ভেঙ্গে ক্ষতিগ্রস্থ চার হাজার হেক্টরের ফসল ও কোটি কোটি টাকার মাছ

আত্রাই নদীর জোতবাজার ও আহসানগঞ্জ ব্রীজ পয়েন্টে বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় আত্রাই ও ফকিরনি নদীর উভয় তীরের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের অন্তত ৫০ টি পয়েন্ট ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এই দুই উপজেলার কমপক্ষে ৯টি ইউনিয়ন বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। বন্যায় ভেসে গেছে কয়েকশ পুকুরের কোটি কোটি টাকার মাছ।

নওগাঁ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফিরোজ আহমেদ জানান, উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে আত্রাই নদী, ফকির্নি ও ছোট যমুনা নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধের ৯টি স্থানে ও বেরীবাঁধের ৭টি স্থানে ভেঙ্গে গিয়ে তিন উপজেলার ২৪২ টি পুকুরের ৬৮ হেক্টর জমিতে ৩ কোটি ৪২ লাখ টাকার মাছ ভেসে গেছে।

বাঁধ ভেঙ্গে ক্ষতিগ্রস্থ চার হাজার হেক্টরের ফসল ও কোটি কোটি টাকার মাছ

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. রবীআহ নূর আহমেদ বলেন, গত দুই দিনে জেলায় ৩ হাজার ৮৪৮ হেক্টর জমির ধান ও শাকসবজি নিমজ্জিত হয়েছে। এপর্যন্ত ৩১৩৪ হেক্টর আউশ, ৩৭৬ হেক্টর রোপা আমণের বীজতলা, ২০০ হেক্টর বপণ আমণ, ৫০ হেক্টর রোপনকৃত আমণ, ১১ হেক্টর মরিচ, ১৫৪ হেক্টর সবজি এবং ৭৭ হেক্টর পাটসহ সর্বমোট ৩৮৪৮ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্থ্য হয়েছে। যেহেতু নদীর পানি কমতে শুরু করেছে এতে পানি নেমে গেলে ক্ষতির পরিমান অনেকাংশে কমে আসবে।

জেলা ত্রাণ ও পূনর্বাসন কর্মকর্তা মোঃ কামরুল আহসান জানান, উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে জেলার তিনটি উপজেলার বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ ভেঙ্গে ১৮ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এসব এলাকায় ১৩৫ মেট্রিক টন চাল ও ২ লাখ ২ হাজার ৫ শত নগদ টাকা ত্রাণ হিসেবে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও পর্যাপ্ত ত্রান মজুদ রয়েছে। নদীর পানি কমতে শুরু করেছে আজ শুক্রবার বন্যা পরিস্থিতির অনেকটা উন্নতি হয়েছে।  

আরপি/ এএন-৪



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

Top