রাজশাহী বুধবার, ২০শে অক্টোবর ২০২১, ৬ই কার্তিক ১৪২৮


বিশ্ব অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের গতি দুর্বল


প্রকাশিত:
১৩ অক্টোবর ২০২১ ১০:৫১

আপডেট:
২০ অক্টোবর ২০২১ ২৩:৩১

ফাইল ছবি

বিশ্ব অর্থনীতি পুনরুদ্ধার হচ্ছে কিন্তু এর গতি দুর্বল বলে উল্লেখ করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, করোনার ডেলটা সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় কোভিড-১৯-এর প্রভাবে মৃত্যুর হার বেড়েছে।

অর্থনীতি যে গতিতে পুনরুদ্ধার হবার আশা করা হয়েছিল সেটি ধীর হয়েছে। বিশ্বব্যাপী প্রায় ৫০ লাখ মানুষ করোনায় মারা গেছে। সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ ব্যবস্থা দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাণিজ্য পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। ফলে বহু দেশে নিত্যপণ্যের মূল্য বেড়েছে। সব মিলিয়ে অর্থনীতির ঝুঁকি বেড়েছে। ২০২১ সাল শেষে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ৯ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।

বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক সভা উপলক্ষ্যে গতকাল মঙ্গলবার বিশ্ব অর্থনীতির পূর্বাভাস প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। এর আগে গত এপ্রিলের পূর্বাভাসের চেয়ে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির এই হার শূন্য দশমিক ১ শতাংশ কম। তবে ধারণা করা হচ্ছে আগামী বছর অর্থাৎ ২০২২ সাল নাগাদ এটি আরো কমে ৪ দশমিক ৯ শতাংশ হতে পারে।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশ বিষয়ে বলা হয়েছে, ২০২২ সাল নাগাদ অর্থাৎ চলতি ২০২১-২২ অর্থবছর শেষে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। বাজেটে সরকারি হিসাবে আশা করা হয়েছে চলতি অর্থবছর শেষে প্রবৃদ্ধি হবে ৭ দশমিক ২ শতাংশ।

এদিকে বাজেটে সাময়িক হিসাব অনুযায়ী বিদায়ি ২০২০-২১ অর্থবছরের ৬ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের তথ্য প্রকাশ করা হলেও চূড়ান্ত হিসাবে এটি কমে যাওয়ার আশঙ্কা করেছে আইএমএফ। সংস্থাটির হিসাবে এই হার ৪ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে যেতে পারে।

সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী চলতি বছর বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতির হার ৫ দশমিক ৬ শতাংশ এবং আগামী বছর এটি বেড়ে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। চলতি হিসাবের ঘাটতি এ বছর জিডিপির তুলনায় ১ দশমিক ১ শতাংশ থাকলেও পরের বছর এই ঘাটতি বেড়ে দেড় শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।

বিশ্ব অর্থনীতি নিয়ে প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ২০২২ সাল নাগাদ উন্নত বিশ্বের অর্থনীতি করোনার আগের অবস্থায় যেতে পারলেও ধারণা করা হচ্ছে উদীয়মান দেশগুলোর আরো সময় লাগবে। উন্নত বিশ্বের ৬০ শতাংশ মানুষ করোনার দ্বিতীয় ডোজ টিকা পেয়েছে। এখন তারা বুস্টার ডোজের দিকে যাচ্ছে। কিন্তু নিম্ন আয়ের দেশগুলোর ৯৬ শতাংশ জনগণ এখনো ভ্যাক্সিনের আওতায় আসেনি। দেশগুলো আর্থিক সমস্যা মোকাবিলা করছে এবং নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির চাপে রয়েছে।

আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ বছরের শেষ নাগাদ চীনের প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশ হতে পারে। পরের বছর এই হার ৫ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে আসতে পারে। এ বছর ভারতে সাড়ে ৯ শতাংশ, ভুটানের ৪ দশমিক ৬ শতাংশ, শ্রীলঙ্কার ৩ দশমিক ৬ শতাংশ, মালয়েশিয়ার সাড়ে ৩ শতাংশ, ভিয়েতনামের ৩ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে। তবে সব দেশেরই পরের বছর প্রবৃদ্ধির গতি কমে আসার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

উন্নত দেশগুলোর মধ্যে এ বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৫ দশমিক ২ শতাংশ, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ২ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। আর জাপানের প্রবৃদ্ধি হতে পারে ২ দশমিক ৩ শতাংশ।

 

 

আরপি/এসআর-০৫



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

Top