রাজশাহী শুক্রবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৫ই আশ্বিন ১৪২৯


রাজশাহী জেলা আ.লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা 


প্রকাশিত:
৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ০৮:৪২

আপডেট:
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২ ০০:০৪

রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের পুর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দলের সভাপতি শেখ হাসিনার নির্দেশক্রমে নতুন কমিটি অনুমোদন করেন সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ৭৫ সদস্যের নির্বাহী কমিটির মধ্যে চারজন সদস্যের পদ শুন্য রয়েছে। এছাড়াও উপদেষ্টা করা হয়েছে ২৭ জনকে। আর জাতীয় পরিষদের সদস্য হয়েছেন আতাউর রহমান খান।

২০১৯ সালের ৮ ডিসেম্বর কাউন্সিলে মেরাজ উদ্দিনকে সভাপতি ও আব্দুল ওয়াদুদ সাধারণ সম্পাদকসহ চার সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়। দুই সপ্তাহের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি জমা দিতে কেন্দ্র থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু গত এক বছরেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা সম্ভব হয়নি। অবশেষে কেন্দ্রীয় অনুমোদন সাপেক্ষে জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি পেলেন নেতাকর্মীরা।

কমিটিতে সহ-সভাপতি পদে রয়েছেন অনিল কুমার সরকার, আমানুল হাসান দুদু, এ্যাড. ইব্রাহীম হোসেন, এ্যাড. সুশান্ত কুমার ঘোষ, অধ্যক্ষ এস.এম একরামুল হক, আমজাদ হোসেন নবাব, সাইফুল ইসলাম দুলাল, এ্যাড. শরিফুল ইসলাম শরীফ, জাকিরুল ইসলাম সান্টু, মো. শরীফ খান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা রিয়াজউদ্দিন আহমেদ।

কমিটির ৩ জন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হলেন- এ্যাড. লায়েব উদ্দিন লাবলু, মো. আয়েন উদ্দিন, অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান মানজাল।

এছাড়াও কমিটির অন্য পদে দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন- আইন বিষয়ক সম্পাদক এ্যাড. এজাজুল হক মানু, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক কুমার প্রতীক দাস রানা, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক মো. মেহবুব হাসান রাসেল, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক মো. আখতারুজ্জামান আখতার, দপ্তর সম্পাদক প্রদ্যুৎ কুমার সরকার, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক রেজাওয়ানুল হক পিনু মোল্লা, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক অধ্যক্ষ মোজাম্মেল হক, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক কামরুল ইসলাম, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক শহিদুল করিম শিবলী, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক এ্যাড. পূর্ণিমা ভট্টাচার্য, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক মোস্তাক আহমেদ, শিক্ষা  ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক মামুনুর রশিদ সরকার মাসুদ, শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক মাহবুব উল আলম মুক্তি, শ্রম সম্পাদক মাহবুবুর রহমান, সাংস্কৃতিক সম্পাদক সোহরাব হোসেন, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. চিন্ময় কান্তি দাস।

সাংগঠনিক সম্পাদক পদে রয়েছেন এ.কে.এম আসাদুজ্জামান ও এ্যাড. আব্দুস সামাদ। এছাড়া উপ-দপ্তর সম্পাদক আব্দুল মান্নান, উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মাসুদ রানা (চারঘাট) ও কোষাধ্যক্ষ আজিজুল আলম।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- ওমর ফারুক চৌধুরী এমপি, আসাদুজ্জামান আসাদ, জিন্নাতুন্নেসা তালুকদার, শাহরিয়ার আলম এমপি, ইঞ্জি. এনামুল হক এমপি, ডা. মো. মুনসুর রহমান এমপি, এ্যাড. আদিবা আনজুম মিয়া এমপি, রায়হানুল হক রায়হান, নকিবুল ইসলাম নবাব, আ.ন.ম মনিরুল ইসলাম তাজুল, সাইফুল ইসলাম বাদশা, আক্কাস আলী, অধ্যক্ষ গোলাম ফারুক, ফারুক হোসেন ডাবলু, জি এম হীরা বাচ্চু, শরীফুল ইসলাম, রোকনুজ্জামান রিন্টু, আবু বক্কর, আব্দুর রাজ্জাক, আব্বাস আলী, আবুল কালাম আজাদ, শহিদুজ্জামান শহীদ, রবিউল ইসলাম রবি, সরদার জান মোহাম্মদ, খাদেমুন নবী চৌধুরী, এ.কে.এম. সামসুল হক, প্রভাষক রোকসানা মেহবুব চম্পা, মর্জিনা বেগম, এস.এম তৌহিদ হাসান তুহিন, নিলীমা বেগম, সুরঞ্জিৎ কুমার সরকার, ডা. আনিকা ফারিয়া জামান।

উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা হলেন- বদরুজ্জামান রবু, এ্যাড. মো. মকবুল হোসেন খান, প্রফেসর এম. এন্তাজুল হক, প্রফেসর ডা. এস আর তরফদার, সাজ্জামুল ইসলাম, অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান, ড. পি.এম শফিকুল ইসলাম, এ্যাড. আব্দুস সামাদ, মতিউর রহমান, এ্যাড. মো. মতিউর রহমান, অধ্যক্ষ মো. সাহাবুদ্দিন সরকার,  ওহেদুর রহমান, অধ্যক্ষ মো. নুরুল ইসলাম, নুরুল আলম হিরু মাস্টার, মো. বদিউজ্জামান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম, আফসার আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান, আব্দুস সাত্তার, অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান, এ্যাড. আব্দুল বারী খান, মতিউর রহমান চৈতি, আব্দুর রহমান মোল্লা, অধ্যাপক আব্দুস সামাদ, চাষী রহিম উদ্দিন সরকার, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আজিজ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ময়েন উদ্দিন।

জামায়াত-বিএনপি থেকে আসাদের কমিটিতে পদ দেওয়া-না-দেওয়া নিয়ে এক বছর ধরে বিরোধ চলছিল। অভিযোগ রয়েছে জেলার কয়েকজন এমপি নিজেদের অনুগত হাইব্রিড ও জামায়াত-বিএনপি থেকে আসাদের কমিটিতে পদ পাইয়ে দিতে শুরু থেকেই তৎপর। শেষ পর্যন্ত হাইব্রিডদের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে বিভিন্ন পদ দেওয়াও হয়েছে।

জানা যায়, গত ১৫ নভেম্বর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মিলে ৭৪ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ জেলা কমিটি কেন্দ্রে জমা দেওয়া হয়। কিন্তু কমিটিতে প্রবীণ ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে হাইব্রিড ও অনুপ্রবেশকারীদের প্রায় ৪০টি পদ দেওয়ায় একাধিক অভিযোগ কেন্দ্রে জমা পড়ে। ফলে গত ৩ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী রাজশাহী জেলা কমিটিকে অনুমোদন না দিয়ে ফেরত দেন। কমিটি বিরোধ নিষ্পত্তিতে ৫ সদস্যের একটি ট্রাইব্যুনালও করে দেন দলীয় প্রধান।

এদিকে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সভাপতি মেরাজ উদ্দিন প্রস্তাবিত পূর্ণাঙ্গ কমিটির ৩৩ পদে প্রবীণ ও ত্যাগী নেতাদের নাম প্রস্তাব করে এককভাবে কমিটি কেন্দ্রে জমা দেন। তবে হাইব্রিড ও অনুপ্রবেশকারীরা হাইকমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। তারা কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক নেতাকে ম্যানেজ করে সভাপতির ওপর চাপ তৈরি করে এককভাবে প্রস্তাবিত কমিটি প্রত্যাহারের জন্য।

শেষ পর্যন্ত সভাপতি তার একক কমিটি প্রত্যাহার করে গত ২ জানুয়ারি গত নভেম্বরে জমা দেওয়া প্রস্তাবিত পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে আবার স্বাক্ষর দেন। ওইদিনই তা কেন্দ্রে জমা দেন। তবে নভেম্বরে জমা দেওয়া কমিটির দু-একটি পদে বদল আনা হলেও অধিকাংশ পদেই হাইব্রিড ও অনুপ্রবেশকারীরাই থাকছেন বলে জানা গেছে। 

 

 

 

আরপি/এসআর



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

Top