রাজশাহী শনিবার, ৫ই এপ্রিল ২০২৫, ২২শে চৈত্র ১৪৩১


‘নুরকে আইসিইউতে পাঠিয়েও মুখ বন্ধ করা যাবে না’


প্রকাশিত:
৪ আগস্ট ২০২৩ ০৫:০৮

আপডেট:
৫ এপ্রিল ২০২৫ ০৩:১৪

ছবি: সংগৃহীত

গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রাশেদ খান বলেন, নুরুল হক নুরকে আইসিইউতে পাঠিয়েও তার মুখ বন্ধ করা যাবে না। বিন ইয়ামিন মোল্লাকে জেলে ঢুকিয়ে নেতৃবৃন্দকে দুর্বল করা যাবে না। আমরা যতবার মার খেয়ে হাসপাতাল যাব, সুস্থ হয়ে আবার রাজপথে ফিরে আসব। জেলে নিলে মুক্তি নিয়ে আবার সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ব। আমাদের জীবন যৌবন সংগ্রাম ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য। অধিকার ও মর্যাদার রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে আমরা জীবন দিতে রক্ত দিতে প্রস্তুত রয়েছি।

বৃহস্পতিবার (৩ আগস্ট) বিকেলে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুলহক নুরসহ গণ ও ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার এবং ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লাকে আটকের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

রাশেদ খান বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজকে বলেছেন, বিদেশিদের চাপ নেই, তবে বিবেকের চাপে আছি। ১৪ বছর পর তার বিবেক নাড়া দিচ্ছে। কারণ, তিনি বুঝতে পেরেছেন, আর জোর করে ক্ষমতায় থাকা যাবেনা। এবার জোর করে ক্ষমতায় থাকতে গেলেই মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আসবে। সুতরাং সাধু সাবধান হয়ে যান। ভোটচুরির প্রশংসাবাজরা এখন আমেরিকা ইউরোপের ভিসা পাচ্ছে না। ঢাবি ভিসি কানাডার ভিসা পায়নি। কেন পায় নি? কারণ, তিনি শিক্ষার্থীদের পাশে না থেকে চা, সিঙ্গাড়া, সমুচা থিওরি নিয়ে ব্যস্ত। আর হামলাকারী ছাত্রলীগকে রক্ষায় নিয়োজিত।

গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বলেন, গতকাল ডাকসুর ভিপির উপর হামলা হলো, কিন্তু তার কোন প্রতিক্রিয়া নাই। কারণ তিনি সরকারের লোক, ছাত্রলীগের আশ্রয়দাতা। আমরা হামলাকারীদের তথ্য এমবাসিগুলো ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর কাছে তুলে ধরবো। দেশে তো ন্যায়বিচার নাই যে, মামলা করবো। আমাদের উপর হামলা হচ্ছে, আবার পুলিশ আমাদের আটক করছে। দেশের বিচার ব্যবস্থা বলে কিছু নাই। গতকাল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও তাঁর সহধর্মিণীর নামে প্রশ্নবিদ্ধ, ফরমায়েশি রায় হয়েছে। এই রায় আমরা প্রত্যাখ্যান করেছি, দেশবাসী প্রত্যাখ্যান করেছে। বিএনপির সিনিয়র নেতাদের উপর হামলা হচ্ছে, ভিপি নুরের উপর হামলা হচ্ছে। এগুলো কিসের আলামত? সিনিয়র নেতাদের রক্তাক্ত করে নেতাকর্মীদের ভয় দেখাতে চায়। কিন্তু আমরা ভয় পেলে চলবেনা। জীবন বাজি রেখে ১ দফার আন্দোলনে থাকতে হবে। ফ্যাসিবাদের পতন হওয়ার আগ পর্যন্ত রাজপথ ছাড়া যাবেনা। রাজপথেই সমাধান খুঁজতে হবে। কারণ আওয়ামীলীগ আলোচনার পথ খোলা রাখেনি। জনগণকে রাজপথে নেমে নিরপেক্ষ সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এর বাইরে বিকল্প কিছু নেই।

গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদের সদস্য আবু হানিফ বলেন,আমরা মার খেয়ে চিকিৎসা নিতে পারছিনা।আমাদের সভাপতি নুরুলহক নুর যে হাসপাতালে ভর্তি ছিল সেখানে দুপুর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেখতে যান, তিনি যাওয়ার পরই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চাপ দিচ্ছে সেখান থেকে চলে যেতে। চিকিৎসা শেষ না করেই আমাদের হাসপাতাল ছাড়তে হয়। এটা কেমন মানবতা?

ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন "সারাদেশে ৩৭ টি বিরোধী দল শেখ হাসিনার পদত্যাগ চেয়ে এক দফার আন্দোলন করছে, ছাত্র অধিকার পরিষদ প্রথম ছাত্র সংগঠন হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক দফার আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে কর্মসূচি করে সরকারের আতঙ্কের কারণ হয়েছে। তাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের যেকোনো কর্মসূচিতে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের দিয়ে হামলা করছে, ছাত্র পরিষদের সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লাকে আটক করেছে। হামলা-মামলা আটক করে ছাত্র পরিষদকে দমিয়ে রাখা যাবে না। সকল ছাত্র সংগঠন নিয়ে ‘ফ্যাসিবাদ বিরোধী ছাত্র ঐক্যে’র ঘোষণা আসছে।

জেলে আটক বিন ইয়ামিন মোল্লার বাবা বলেন, আমার ছেলে তো কোন অন্যায় করে নাই,তাকে কেন জেলে রাখা হয়েছে? জেল থেকে বিন ইয়ামিন ফোন করে বলেছে সারাদেশে ছাত্র সমাজকে রাজপথে নামার জন্য। বিন ইয়ামিনের মা বলেন, আমি আমার সন্তানের মুক্তি চাই।

গণঅধিকার পরিষদের সাবেক যুগ্ম সদস্যসচিব মশিউর রহমানের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন, গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদের সদস্য এডভোকেট নুরে এরশাদ সিদ্দিকী,সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক বিপ্লব কুমার পোদ্দার, মাহফুজুর রহমান খান, সোহরাব হোসেন, যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি মনজুর মোর্শেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবিউল প্রমুখ।

 

 

 

আরপি/এসআর-০৮



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

Top