রাজশাহী সোমবার, ৬ই ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৫শে মাঘ ১৪২৯


‘নির্বাচন এগিয়ে আসলেই বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়’


প্রকাশিত:
১ ডিসেম্বর ২০২২ ১৪:৫০

আপডেট:
১ ডিসেম্বর ২০২২ ২১:১০

ছবি: সংবাদ সম্মেলন

বিএনপি আগামী ৩ ডিসেম্বর রাজশাহীতে সমাবেশ করবে। এই সমাবেশকে ঘিরে তারা ইতিমধ্যেই সরকারের বিরুদ্ধে নানা রকম ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত ও অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে। যখনই বাংলাদেশে নির্বাচন এগিয়ে আসে ঠিক তখনই বিএনপি নামক সংগঠনটি সরকারের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয় বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন।

বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজশাহী নগরীর কুমারপাড়ায় মহানগর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

সরকারের চলমান উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ও বিএনপির দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগ এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, বিএনপি ইতিপূর্বে রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠে সমাবেশ করেছিলো। সেই সমাবেশ থেকে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রাণ নাশের হুমকি প্রদান করেন। এই হুমকির প্রতিবাদে আমরা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ রাজশাহী মহানগর রাজনৈতিকভাবে প্রতিবাদ কর্মসূচী গ্রহন করি এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য একটি রাষ্ট্রদ্রোহী মামলা দায়ের করি, যা বর্তমানে চলমান রয়েছে।

উদ্বেগ প্রকাশ করে রাসিক মেয়র বলেন, বিএনপি এই সমাবেশকে কেন্দ্র করে ওয়ার্ড গুলোতে কর্মী সভার নামে সরকারের বিরুদ্ধে নানা ধরনের মিথ্যা, বানোয়াট ও অসত্য তথ্য উপস্থাপন সহ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে অশোভন বক্তব্য প্রদান করে রাজশাহীর শান্তিপূর্ণ আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে চায়। তাদের বিভিন্ন উস্কানী মূলক বক্তব্য রাজশাহীর স্বাভাবিক আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি করে তারা হীন রাজনৈতিক ফায়দা নিতে চায়।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৯ নভেম্বর নগরীর ১৬ নং ওয়ার্ডের এক কর্মী সভায় বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু যে উস্কানীমূলক বক্তব্য প্রদান করে কাল্পনিক হত্যাকান্ডের তথ্য উপস্থাপন করেছেন তার মাধ্যমে মৌলবাদী ও জঙ্গীবাদী গোষ্ঠিকে উস্কে দিয়ে তারা আবারো রাজশাহীতে জঙ্গীবাদ কায়েম করতে চায়। জনাব মিনুর বক্তব্যে তা সুস্পষ্ট ভাবে ফুটে উঠেছে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, রাজশাহীতে সমাবেশকে ঘিরে বিএনপি নেতাদের বক্তব্য শুনে মনে হচ্ছে দেশে কোন সরকার নেই। তারা বক্তব্য দিয়ে বলছে, ‘রাজশাহীতে সেমিফাইনাল খেলা এবং ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় ফাইনাল খেলা হবে’। তাদের এহেন দূরভিসন্ধি মূলক বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, তারা রাজপথের আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত ও নাশকতার রাজনীতি বেছে নিয়েছে। তারা দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এর ধারাবাহিকতায় আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করলাম তারা রাজশাহীর বিভিন্ন ছাত্রবাস গুলোতে বিএনপি-জামায়াতের চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের সমাবেশ ঘটাচ্ছে। বিএনপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে গত ২২ নভেম্বর তানোর ডাক বাংলো মাঠে বোমা মজুদ করার সময় ককটেল বোমা বিস্ফোরন হয় এবং সেখান থেকে অনেকগুলো ককটেল বোমা উদ্ধার করা হয়।

বিএনপি গণতন্ত্রে বিশ্বাসী নয় উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বলেন, বিএনপির সমাবেশ গুলোতে তাদের মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যে বক্তব্য প্রদান করেছেন তাতে দেশকে অস্থিতিশীল করার একটি ইঙ্গিত বহন করে। বিএনপি মহাসচিবের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে পরিষ্কার হয়েছে যে, দেশে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত রাজনৈতিক স্বাভাবিক সরকার ক্ষমতায় থাকুক তারা তা চায় না। এর মধ্যে দিয়ে প্রমান হয়েছে যে, বিএনপি গণতন্ত্রে বিশ্বাসী নয়। তারা অগণতান্ত্রিক পন্থায় ও প্রভু শক্তির সহায়তায় দেশের ক্ষমতা দখল করে আবারো দেশকে জঙ্গীবাদী রাষ্ট্রে কায়েম করতে চায়।

বিএনপি-জামায়াত জোটের ২০০১-২০০৬ সালের শামনামলকে দুঃশাসন উল্লেখ করে মেয়র লিটন বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোটের ২০০১-২০০৬ সালের দুঃশাসনের জনগণ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলো। তারা দেশে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস কায়েম করেছিলো। তারা দেশকে পাঁচ বার দূর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন করে একটি অকার্যকর ও ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিনত করেছিলো। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের শাসনামলে রাজশাহী সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদের অভয়ারণ্যে পরিনত হয়েছিলো। তাদের আমলে বাংলা ভাইয়ের নেতৃত্বে জেএমবি সৃষ্টি করে রাজশাহীর বাগমারা, রানীনগর, আত্রাইসহ বৃহত্তর রাজশাহীতে জঙ্গীবাদের রাজত্ব কায়েম করেছিলো।

তিনি আরও বলেন, জঙ্গীবাদের পৃষ্ঠপোষকতায় ছিলেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের তৎকালীন মেয়র মিজানুর রহমান মিনু, সাবেক মন্ত্রী ব্যারিষ্টার আমিনুল হক, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, নাদিম মোস্তফা, আলমগীর কবির গং, এরাই আবার আন্দোলনের নামে বোমা মেরে পুলিশ কর্মী সিদ্ধার্থকে হত্যা করেছিলো। আজকে এই সকল সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদের মদদ দাতাদের মুখে গণতন্ত্রের কথা শুনে আমরা বিস্মিত হই, আমরা গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সকল কর্মসূচীতে বিশ্বাসী। সকল রাজনৈতিক দল তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচী মিছিল, সমাবেশ করবে- এটাই রাজনৈতিক চর্চা।

রাজশাহীতে বিএনপি সমাবেশ করবে এতে আমাদের কোন বাধা থাকবে না, তবে রাজনৈতিক কর্মসূচী ও সমাবেশের নামে রাষ্ট্র ও সরকার বিরোধী কোন কর্মকান্ড তথা বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে নিয়ে কোন অশোভন মন্তব্য এবং রাজশাহীর জনগণের জানমালের ক্ষতিসাধন করলে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ রাজশাহী মহানগর তা বরদাশত করবে না। রাজশাহীর সমাবেশকে ঘিরে বিএনপি যদি এইরূপ কোন অশুভ তৎপরতা ও অপরাজনীতি করতে চায়, তাহলে রাজপথে থেকে রাজনৈতিকভাবে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগ এর সমুচিত জবাব দিবে বলেও হুশিয়ারি করেন রাসিক মেয়র।

তিনি আরও বলেন, তৎকালীন বিএনপি সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া, প্রখ্যাত শ্রমিক নেতা আহসান উল্লাহ মাস্টার, খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মঞ্জুরুল ইমাম, নাটোরের জননন্দিত জননেতা সাবেক এমপি মমতাজ উদ্দিনসহ সারা দেশে প্রায় ২৪ হাজার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীকে হত্যা করেছিলো। লক্ষাধিক আওয়ামী লীগ নেতা পঙ্গুত্ব বরণ করে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার হত্যা, সন্ত্রাসী ও দূর্নীতি করেই ক্ষান্ত হয় নি, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের প্রত্যক্ষ মদদে বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ও আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করার লক্ষ্যে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালিয়ে ২২ জন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হত্যা করে, এর মূল হোতা ছিলো তারেক রহমান।

বিএনপিকে সমাবেশের অনুমতি প্রসঙ্গে রাসিক মেয়র বলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার গণতন্ত্রের চর্চায় বিশ্বাস করে। বিশ্বাস করে বলেই বিরোধী দলের সমাবেশে কোন প্রকার বাধা প্রদান না করে বিএনপিকে সমাবেশ করার অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করছি এই সমাবেশ গুলোকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতারা নানাবিধ কাল্পনিক অভিযোগ উত্থাপন করছে যে, তাদের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার ও হয়রানি করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।

বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ যখন উন্নয়ন ও অগ্রগতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, বিশ্ব নেতারা যখন বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা যখন সফল ভাবে বৈশ্বিক মহামারি করোনা মোকাবিলা করে দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রেখে অব্যাহত ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, যখন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে যখন গোটা বিশ্বের অর্থনীতি হুমকির মুখে তখনও আমাদের বাংলাদেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে, ঠিক তখনই ৭১এর পরাজিত শক্তিরা, ৭৫এর কুশীলবরা তথা ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার মূল পরিকল্পনাকারী তারেক রহমান লন্ডনে বসে প্রভু শক্তিদের খুশী করার জন্য বাংলাদেশে একটি অস্থিতিশীল অবস্থা সৃষ্টি করার পাঁয়তারা করছে বলেও জানান এই আওয়ামী লীগ নেতা।

সংবাদ সম্মেলনে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী কামাল, সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকারসহ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

 

 

 

আরপি/এসআর-০৬



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

Top