রাজশাহী রবিবার, ২৭শে নভেম্বর ২০২২, ১৩ই অগ্রহায়ণ ১৪২৯


যে কারণে সাজেদাপুত্রকে বেছে নিল আ.লীগ


প্রকাশিত:
৫ অক্টোবর ২০২২ ২০:২১

আপডেট:
২৭ নভেম্বর ২০২২ ০৪:৪৭

সংগ্রহীত

ফরিদপুর-২ আসনে উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন আসনটির সদ্য সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর ছোট ছেলে শাহদাব আকবর চৌধুরী ওরফে লাবু চৌধুরী। আসনটিতে ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন ১৭ জন। তাদের মধ্যে আবার সাজেদা চৌধুরীর আরেক ছেলেও মায়ের আসনে মনোনয়ন চেয়েছিলেন।

ফরিদপুর-২ আসনটি ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলা সালথা উপজেলা এবং সদরপুর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত।

১৯৮৬ সালের জাতীয় পার্টির হাতে ছিল ফরিদপুর-২ আসন। এরশাদের দল ১৯৯১ সাল পর্যন্ত আসনটিতে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় রেখেছিল। তবে ১৯৯১ সালে ফরিদপুর-২ আসনের কর্তৃত্ব নেন সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। আওয়ামী লীগের এই সংসদ সদস্য ১৯৯৬ এর নির্বাচনে আসনটি হারান। ১৯৯৬ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি রাজত্ব ছিল ফরিদপুর-২ আসনে। তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ২০০৮ সাল থেকে আমৃত্যু সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী আওয়ামী লীগের হয়ে আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন।

গত ১১ সেপ্টেম্বর রাত ১১টা ৪০ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন আওয়ামী লীগের এই বর্ষীয়ান নেতা। তিনি ব্যক্তি নন, দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। ৮৭ বছরের জীবনে ৬৬ বছরই তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেছেন।

তার দুই ছেলে আয়মান আকবর বাবলু চৌধুরী ও শাহদাব আকবর চৌধুরী ওরফে লাবু চৌধুরী স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তাদের মধ্যে লাবু ছোট ও বাবলু বড়। দুইভাইয়ের মধ্যে রয়েছে বিরোধ। আবার স্থানীয় রাজনীতিতে বড় ভাইরের চাইতে ছোট ভাইরের অধিপত্য শক্তিশালী।

সাজেদা চৌধুরীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মৃত্যুর আগে দীর্ঘ সময় অসুস্থ ছিলেন তিনি। সে সময়ে তার সংসদীয় আসনে অনেকটা অযাচিতভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন তার ছোট ছেলে শাহদাব আকবর লাবু চৌধুরী। দলীয় কোন পদ-পদবী না থাকলেও সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর রাজনৈতিক প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে তাকে। তবে সাংবিধানিকভাবে বা আওয়ামী লীগে এ ধরনের কোনো পদ নেই। ফলে বরাবরই বিষয়টি নিয়ে আক্ষেপ ছিল স্থানীয় রাজনীতি নেতাদের।

সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর মৃত্যুর পর সেই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে চান লাবু চৌধুরী। তার সঙ্গে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠেন বড় ভাই বাবলু চৌধুরীও।আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বিক্রির চিত্র ভিন্ন প্রেক্ষাপটের জন্ম দিয়েছিল। আসনটি থেকে দুইভাইসহ মোট ১৭ জন মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন।

ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন- আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্য নির্বাহী কমিটির সদস্য বিপুল ঘোষ, নগরকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আয়মান আকবর বাবলু চৌধুরী, উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান সরদার, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক উপ কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট জামাল হোসেন মিয়া, সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী কনিষ্ঠ পুত্র শাহদাব আকবর লাবু, জেলা মৎস্যজীবী লীগের আহ্বায়ক কাজী আব্দুস সোবহান, জেলা শ্রমিক লীগের সাবেক সভাপতি সাইফুজ্জামান জুয়েল, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি আতমা হালিম দুলু, কেন্দ্রীয় উপ কমিটির সদস্য সাব্বির চৌধুরী, এয়ার কমডোর (অব.) দেলোয়ার হোসেন, আওয়ামী লীগ নেতা কালাচাঁদ চক্রবর্তী, সাংবাদিক লায়েকুজ্জামান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু ইউসুফ মিয়া, পীর সাহেব সায়েম আমির ফয়সাল সামী, হাবিবুর রহমান হাবিব, বাহালুল মজনুল চুন্নু ও এবিএম শফিউল আলম।

তবে মঙ্গলবার আওয়ামী সংসদীয় ও স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভায় প্রার্থী চুড়ান্ত করা হয়। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় লাবু চৌধুরীকে ফরিদপুর-২ আসনের প্রার্থী করা হয়।

ফরিদপুর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন মহলে আলোচনা, আওয়ামী লীগের প্রতি সাজেদা চৌধুরীর ত্যাগের কথা বিবেচনায় নিয়েই তার ছেলেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

২০২০ সালের নভেম্বরে সিরাজগঞ্জ-১ আসনে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সে আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নাসিম। তার মৃত্যুতে আসনটি শূন্য হলে সেখানে উপনির্বাচন হয়। আর সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী করা হয় নাসিমপুত্র তানভীর শাকিল জয়কে। তিনি বিজয়ীও হন।

এরপরও অনেক আসনে উপনির্বাচন হয়েছে। তবে সাবেক নেতাদের পরিবার থেকে কেউ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাননি। সর্বোশেষ সাবেক ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়ার আসনে তার মেয়ে ফারজানা রাব্বী বুবলী মনোনয়ন চেয়েও পাননি। সেখানে সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকে প্রার্থী করেছে আওয়ামী লীগ।

আরপি/ এসএইচ

 



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

Top