রাজশাহীতে যুবলীগ নেতা রাসেল হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবি

রাজশাহী মহানগর যুবলীগের কার্যনির্বাহী সদস্য সানোয়ার হোসেন রাসেল (৩০) হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে আওয়ামীলীগসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
রোববার সকাল ১০টার সময় নগরীর ২১নং ওয়ার্ডের শিরোইল কড়াইতলা এলাকা থেকে একটি মিছিল শুরু হয়। এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিলে রাসেল হত্যার আসামী ও তার সঙ্গীদের বিচারের দাবীতে শ্লোগান দিতে দিতে নগরীর শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান চত্বরে এসে থামে। প্রায় ৫ শতাধিকেরও বেশী নারী-পুরুষের অংশগ্রহণ ছিল বিক্ষোভ ও মানববন্ধনটিতে। সমাবেশ শেষে পূণরায় তারা বিক্ষোভ জানানোর মাধ্যমে এলাকায় ফেরেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন রাসেলের মা আনোয়ারা বিবি, ভাই মনোয়ার হোসেন রনি ও স্ত্রী বর্ষা খাতুন। তারা জড়িতদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান। সেই সাথে দ্রুত মূল আসামীদের গ্রেফতারের বিষয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
পরিবারের দাবী, গত ১৩ নভেম্বর (বুধবার) দুপুরে রাজশাহী রেল ভবনের টেন্ডারবাজ কিছু সন্ত্রাসী পূর্ব-পরিকল্পিতভাবে এই নক্কারজনক হত্যাকান্ডটি সংঘটিত করে।
প্রয়াত যুবলীগের নেতা রাসেলের বড় ভাই মনোয়ার হোসেন রনি জানান, ‘আসল ঘটনা রেল ঠিকাদারি নয়। আমার বড় ভাই রাজাকে পরিকল্পিতভাবে ঘটনাস্থলে ডেকে হত্যা করায় ছিল টেন্ডারবাজ, সন্ত্রাসী সুজন ও তার গুন্ডা বাহিনীর মূল উদ্দেশ্য। বড় ভাই রাজাকে বাচাতে গিয়েই প্রাণ হারায় আমার ছোট ভাই সানোয়ার হোসেন রাসেল। বর্তমানে রাজা ভাইও শঙ্কামুক্ত নয়, তার জন্য দোয়া করবেন। আমি এই পূর্ব-পরিকল্পিত হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত সন্ত্রাসীদের ফাসি চাই এবং তাদের নেপথ্যে যারা রয়েছে তাদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি সরকার ও আইন শৃংঙ্খলা বাহিনীর কাছে।’
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন নগরীর ২১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নিযাম-উল-আযিম, ২১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি বাবলু হোসেন, সহ-সভাপতি মো. আকবর আলী খোকন, সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন প্রমুখ। তারা মামলার এজাহার থেকে বাদ পড়া হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদেরও শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। এছাড়া নিহত রাসেলের বড় ভাই আহত আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ার হোসেন রাজার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন তারা।
উল্লেখ্য, গত ১৩ নভেম্বরের ঘটনায় রাসেলসহ আরো অন্তত চার জন আহত হয়। এ ঘটনায় নগরীর চন্দ্রিমায় থানায় নিহত রাসেলের ভাই মনোয়ার হোসেন রনি বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা সাত থেকে আটজনকে আসামি করা হয়। পুলিশ অভিযান চালিয়ে সাতজনকে গ্রেপ্তার করে, গত দু’দিন আগেও আরো একজন আসামী গ্রেফতার হয় বলে জানা যায়। তবে মূল অভিযুক্তরা এখনও পলাতক রয়েছে।
আরপি/আআ
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: