রাজশাহী শনিবার, ২৮শে মে ২০২২, ১৫ই জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯


ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগকে কেউ পরাজিত করতে পারবে না


প্রকাশিত:
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২২ ২২:০৩

আপডেট:
২৮ মে ২০২২ ০৭:২৩

ছবি: ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন

পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন-২০২২ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার পাবনা পুলিশ প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত সম্মেলনে বক্তারা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ উপ-মহাদেশের অন্যতম প্রাচীন দল। বর্তমানে সেই আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে দিচ্ছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগকে কেউ পরাজিত করতে পারবে না।

সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওবায়দুল কাদের বলেন, দলে নবাগতরা এলেও পুরোনোদের প্রাধান্য দিতে হবে। খারাপ লোকদের এনে দল ভারী করার দরকার নেই।

তিনি আরো বলেন, দলীয় লোকজন ছাড়া আওয়ামী লীগকে কেউ পরাজিত করতে পারবে না। বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শিতায় দেশ আজ চরম উন্নতির দিকে ধাবিত হচ্ছে। বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে এগিয়ে যাবে। আওয়ামী লীগ তথা শেখ হাসিনার উন্নয়ন রুখে দিতে দেশে-বিদেশে শত্রুতা আর ষড়যন্ত্র চলছে। এসব ষড়যন্ত্রকারীদের রুখে দিতে হবে নিজেদের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক দক্ষতা দিয়ে।

সম্মেলনে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে। বাংলাদেশে নিরপেক্ষ তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আর নির্বাচন হবে না। অন্ধকারের পথ ধরে ক্ষমতায় আরোহন করা সম্ভব নয়।

সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা এখন শুধু বাংলাদেশের নেত্রী নন, সারা বিশ্বের রাষ্ট্র নায়কদের মধ্যে তিনি একটি স্থান করে নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশে ব্যাপক উন্নয়ন হচ্ছে। উন্নয়নের এই ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে হবে। আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন ও গৌরবের অর্জনগুলো জনগণের মাঝে প্রচার করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, ২০১৪/২০১৫ সালের মতো আগুন সন্ত্রাসের রাজনীতি আমরা আর করতে দিবো না। বাস ও ট্রেনে আগুন নিক্ষেপ করে, বোমা নিক্ষেপ করে মানুষ পুড়িয়ে মারা হবে, সেই দিন আর আসবে না। তরুণ প্রজন্ম দলে দলে আওয়ামী লীগে সম্পৃক্ত হয়েছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপির কোনো রাজনীতি নেই। মহামারি করোনার মধ্যেও বিএনপির কোনো নেতাকর্মীদের মাঠে দেখা যায়নি। বিএনপি আন্দোলন ছাড়া ঘরে বসে থেকেই আওয়ামী লীগের বিদায় ঘণ্টা বাজায়। তাই নৌকার ভোট বাড়ে আর আওয়ামী লীগ বারবার সরকার গঠন করে।

এর আগে বেলা সাড়ে ১১টায় পাবনা পুলিশ লাইন্স মাঠে জাতীয় ও দলীয় পতাকা এবং জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে সম্মেলন শুরু হয়। পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল রহিম লালের সভাপতিত্বে এবং গোলাম ফারুক প্রিন্সের সঞ্চালনায় প্রধান বক্তা হিসেবে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন, বিশেষ অতিথি হিসেবে প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রহমান, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য প্রফেসর মেরিনা জাহান, সদস্য বেগম আখতার জাহান বক্তব্য দেন।

সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে প্রথা অনুযায়ী পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটিকে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। এরপর সম্মেলনের সর্বসম্মতিতে রেজাউল রহিম লালকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও গোলাম ফারুক প্রিন্সকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

 

 

আরপি/এসআর-০৫



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

Top