রাজশাহী বৃহঃস্পতিবার, ৩০শে মে ২০২৪, ১৭ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১


মরণোত্তর একুশে পদক পাচ্ছেন রাজশাহীর মেসবাহুল হক বাচ্চু


প্রকাশিত:
৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ১১:১২

আপডেট:
১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ০৮:১৬

মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও ভাষাসৈনিক আ. আ. ম. মেসবাহুল হক বাচ্চু

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও ভাষাসৈনিক আ. আ. ম. মেসবাহুল হক ওরফে বাচ্চু। বাচ্চু ডাক্তার নামে যিনি অধিক পরিচিত। তিনি প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য ও ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে জাতীয় সংসদ সদস্য ছিলেন। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের প্রথম হস্তলিখিত সংবিধানে স্বাক্ষরকারীদের একজন তিনি। মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য রাজশাহী কলেজের এই প্রাক্তন ছাত্র এ বছর মরণোত্তর একুশে পদক পাচ্ছেন।

২০২০ সালে ২০ জন ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানকে একুশে পদকের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। গত বুধবার সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. ফয়জুর রহমান সিদ্দিকী স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে মরণোত্তর একুশে পদকে মনোনীত হয়েছেন আ. আ. ম. মেসবাহুল হক ওরফে বাচ্চু ডাক্তার। মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য তিনি এ পদক পেতে যাচ্ছেন।

মেসবাহুল হক রাজশাহী বিভাগের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামে ১৯৩০ সালের ৩ মার্চ এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পেশায় তিনি একজন চিকিৎসক ও রাজনীতিবিদ। তাঁর স্ত্রীর নাম মাসুদা হক। ব্যক্তিগত জীবনে ৩ ছেলে ও ২ মেয়ের জনক তিনি। শেষ জীবনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার মসজিদ পাড়ায় ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে বসবাস করতেন বাচ্চু ডাক্তার।

মেসবাহুল হক বাচ্চু ১৯৪৭ সালে পশ্চিমবঙ্গ মালদাহ জেলা স্কুল থেকে ম্যাট্টিকুলেশন পাশ করেন। এরপর ১৯৪৯ সালে রাজশাহী কলেজ থেকে আইএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। তৎকালীন রাজশাহী মেডিক্যাল স্কুল (বর্তমানে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ) থেকে ১৯৫২ সালে এলএমএফ ডিগ্রী অর্জন করেন।

ডা. মেসবাহুল হক বাচ্চু ১৯৭০ সালে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য ছিলেন। তিনি স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে (১৯৭১-৭২) গণপরিষদ সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৩ সালে জাতীয় নির্বাচনে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গভর্ণর নিযুক্ত করেন।

মেসবাহুল হক তৎকালীন রাজশাহী মেডিক্যাল স্কুলের (বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ) ছাত্র থাকাকালীন সময়ে ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। রাজশাহী কলেজের ছাত্র থাকা অবস্থায় তিনি সহ অন্যান্য ছাত্ররা ১৯৪৮ সালে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খানকে স্মারকলিপি প্রদান করেন।

সে সময় প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খানকে ডেপুটেশন প্রদানের কথিত অপরাধে মেসবাহুল হকসহ ১৬ জন ছাত্রকে রাজশাহী সরকারি কলেজ থেকে প্রশাসন বহিস্কার করে। এছাড়াও ভাষা আন্দোলনের সাথে জড়িত থাকার কথিত অপরাধে ১৯৫৪ সালে রাজশাহীতে ৪০ জন ছাত্রনেতার সাথে সেই সময়কার দাপুটে ছাত্রনেতা মেসবাহুল হক বাচ্চুকেও কারাবরণ করতে হয়।

মেসবাহুল হক বাচ্চু চাঁপাইনবাবগঞ্জের মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দান করেন। মুক্তিযুদ্ধকে সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করা হয়। যার অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য ১৯৭১ সালে মালদাহে স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে সেখানকার জোনাল অফিসের সহকারী চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। সেখানে গৌড় বাগান প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ইনচার্জ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। 

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ এবং বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রতি তাঁর গৌরবময় অবদানের জন্য ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁকে আজীবন সম্মাননা-পদক প্রদান করেন। এছাড়াও ২০১১ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নবনির্মিত স্টেডিয়ামটি ডা. আ. আ. ম. মেসবাহুল হক (বাচ্চু ডাক্তার) স্টেডিয়াম’ নামে নামকরণ করা হয়। জাতির এই বীর সন্তানকে এবার একুশে পদকে ভূষিত করা হয়েছে।

তার সম্পর্কে রাজশাহী কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মহা. হবিবুর রহমান বলেন, ডা. আ. আ. ম. মেসবাহুল হক আমাদের রাজশাহী কলেজের গর্ব, সমগ্র রাজশাহীর ও দেশের গর্ব। দেরিতে হলেও মহান এই বীরকে সরকার একুশে পদকে সম্মানিত করেছেন, এজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই।

আরপি/ এএন



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

Top