রাজশাহী শনিবার, ১৩ই এপ্রিল ২০২৪, ১লা বৈশাখ ১৪৩১


গরমে রমজান মাসে যা করণীয়


প্রকাশিত:
১৪ এপ্রিল ২০২৩ ২৩:৫৫

আপডেট:
১৩ এপ্রিল ২০২৪ ০৬:২৬

ফাইল ছবি

হঠাৎ করেই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে তাপমাত্রার পারদ। অতিরিক্ত তাপদাহ জনজীবন হয়ে উঠেছে অতিষ্ঠ। এর মধ্যেই চলছে পবিত্র রমজান মাস। স্বাস্থ্যের ভালো-মন্দ বিচার না করে অনেকেই খান ভাজাপোড়া মুখরোচক খাবার। এতে পানিশূন্যতা আরও বেড়ে যায়।

প্রচণ্ড গরমে স্বস্তিদায়ক রোজা পালন করতে কিছু বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি। চলুন জেনে নিই বিস্তারিত-

পানিশূন্যতা থেকে থাকুন দূরে

গরমে সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয় পানির তৃষ্ণায়। এই তৃষ্ণা দূর করে ইফতারে রাখুন ইসুবগুল-মিছরির শরবত। আরও রাখতে পারেন আখের গুড়ের শরবত কিংবা অ্যালোভেরা-তোকমার শরবত। সেহেরিতেও এমন এক গ্লাস শরবত সারাদিন পানির পিপাসা দূরে রাখবে।

পানিশূন্যতা দূর করতে বেশি চিনিযুক্ত শরবত বা সফট ড্রিঙ্কস পান না করাই ভালো। এক্ষেত্রে ভরসা রাখুন ঘরে তৈরি লেবু, বেল বা তরমুজের শরবতের ওপর। তবে খালি পেটে লেবুর শরবত খেলে অ্যাসিডিটির সমস্যা দেখা দিতে পারে। সামান্য কিছু খেয়ে এরপর লেবুর শরবত খান।

পেটজনিত যত সমস্যা

গরমে পিএইচের ভারসাম্যহীনতার কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এলোমেলো হয়ে যায়। ফলে পেটের পীড়া, বদহজম, পেট ফুলে যাওয়া, পাতলা পায়খানার মতো সমস্যা হয়। শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায় এমন খাবার এড়িয়ে চলুন। ভাজাপোড়া ও অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। এসব খাবার শরীরকে গরম করে প্রয়োজনীয় পানি বের করে দেয়।

সেহরি ও ইফতারে এমন খাবার খান, যেগুলো সহজে পরিপাক হয়। যেমন- শাকসবজি, লাল আটার রুটি, ঢেঁকি ছাঁটা চাল, দুধ, ডিম, শিমের বিচি, মুরগির মাংস ইত্যাদি।

হজমে গণ্ডগোল

ইফতারিতে অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার বর্জন করা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। সারাদিন খালি পেটে থাকার পর এসব খাবার খেলে হজমের সমস্যা হয়। তাই যতদূর সম্ভব তেলচর্বি ও ভাজাপোড়া এড়িয়ে চলা ভালো। হালকা মিষ্টি বা ঝাল জাতীয় রান্না খাবার হতে পারে আদর্শ ইফতারি।

মাথাব্যথা

রোজায় অনেকেরই মাথাব্যথা হয়। দীর্ঘক্ষণ পানি পান না করে থাকার কারণে এ সমস্যা হয়। মাথাব্যথা রোধে সেহরি ও ইফতারে চা-কফি, কোমল পানীয় জাতীয় খাবার খাওয়া যাবে না। এগুলো মূত্রবর্ধক। এসব খাবার শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি করে। অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার, শুকনো ও প্রক্রিয়াজাত খাবার থেকে বিরত থাকতে হবে।

আরাম পেতে দিনে দুই বার গোসল করতে পারেন। সুতি ও হালকা রঙের আরামদায়ক পোশাক পরুন।

ক্লান্তিভাব

রমজানে ঘুমের স্বাভাবিক চক্রের ব্যাঘাত ঘটে। ফলে ক্লান্তিভাব বেড়ে যায়। দেহের ক্লান্তি দূর করতে পর্যাপ্ত ঘুমাতে হবে। বেশি রাত জাগবেন না। প্রয়োজনে একটু জলদি ঘুমিয়ে পড়তে হবে। সুযোগ পেলে দুপুরে ঘণ্টাখানেক ঘুমাতে পারেন।

খাদ্যে বিষক্রিয়া

গরমে আবহাওয়ায় খাবার দ্রুত পচে যায়। এতে ফুড পয়জনিং বা খাদের বিষক্রিয়ার সমস্যা দেখা দেয়। এই সমস্যা এড়াতে ইফতার বা সেহরির সময় বাইরের খাবার এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। গরম গরম খাবার খেতে হবে। যারা খাদ্য রান্না ও সংরক্ষণের সঙ্গে জড়িত, তারা কতটুকু পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা মেনে চলছে, সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে।

ইফতার ও সেহরিতে যথেষ্ট ফল ও শাক সবজি রাখুন। তাজা শাক-সবজি, মাছ ও ফল স্বাভাবিক হজমে দারুণভাবে সহায়তা করে। দেহের পানিশূন্যতা দূর করে প্রয়োজনীয় পুষ্টির যোগান দেয়। সেহরিতে মাংস যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন। এটি তৃষ্ণা বাড়িয়ে তোলে।

 

 

আরপি/এসআর-১৪



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

Top