রাজশাহী শুক্রবার, ২রা ডিসেম্বর ২০২২, ১৯শে অগ্রহায়ণ ১৪২৯


ঝগড়ার পরে মন শান্ত রাখতে করণীয়


প্রকাশিত:
২৯ অক্টোবর ২০২১ ২৩:৩৬

আপডেট:
২ ডিসেম্বর ২০২২ ১৩:০৩

ফাইল ছবি

ঝগড়া করা মন ভালো রাখার মতো কোনো কাজ নয়। বেশিরভাগ মানুষই ঝগড়া এড়িয়ে চলতে চায়। কিন্তু কখনো কখনো ঝগড়া এড়ানো সম্ভব হয় না। কারণ আমাদের প্রত্যেকের আলাদা মত, আলাদা দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। তাই নিজের মতামত প্রকাশ করতে গিয়ে বা অন্যের মতামত মানতে না চাইলে ঝগড়া অনিবার্য হয়ে পড়ে।

ঝগড়া কেউ মনের আনন্দে করে না। রাগ থেকেই শুরু হয় ঝগড়া। ঝগড়ার সময় রেগে গিয়ে আমরা অনেক অনর্থক কথা বলে ফেলি। কী বলছি সেদিকে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই খেয়াল থাকে না। হয়তো ঝগড়ার পর সেজন্য অনুতপ্তবোধ হয়। ঝগড়ার সময় বলে ফেলা অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো কথার কারণে নষ্ট হয়ে যেতে পারে সম্পর্ক। কারণ সেসময় মানুষ যুক্তির ধার ধারে না একেবারেই।

ঝগড়ার শেষে যদি আপনি ভাবতে বসেন, দেখবেন, কত ভুলভাল কথাই না বলে ফেলেছেন! স্বাভাবিক অবস্থায় যে কথাগুলো আমরা বলি না বা বলা উচিত নয় বলে মনে করি, ঝগড়ার সময়েও সেগুলো এড়িয়ে যেতে পারলে খুব বেশি সমস্যা হওয়ার কথা নয়। কিন্তু মুশকিল হলো, ঝগড়ার সময় এই বিষয়গুলোই মাথা থেকে বের হয়ে যায়। আর ঝগড়ার পরে মন হয়ে পড়ে অশান্ত। ঝগড়া তো হতেই পারে, তাই বলে মন অশান্ত রাখা কোনো কাজের কথা নয়। জেনে নিন ঝগড়ার পরে মন ভালো করার উপায়-

গোসল করে নিন

ঝগড়ার পর আপনি একা একা কান্না করতে পারেন, নিজের সঙ্গে কথা বলতে পারেন। যেভাবে আপনার বদ্ধ অনুভূতিগুলো প্রকাশ করা যায়, সেভাবেই প্রকাশ করুন। এরপর হালকা গরম পানিতে গোসল সেরে নিতে পারেন। এর ফলে এক ধরনের সতেজ অনুভূতি পাবেন। গোসলের সঙ্গে অনেক খারাপের অনেকটাই ধুয়ে গেছে বলে মনে হবে।

পছন্দের খাবার খান

মন ভালো করার আরেকটি উপায় হতে পারে পছন্দের খাবার খাওয়া। আপনার নিশ্চয়ই কোনো না কোনো পছন্দের খাবার আছে? অর্থাৎ আপনি যে খাবারগুলো খেতে ভালোবাসেন সেগুলো পেটপুরে খেয়ে নেবেন। দেখবেন মন আগের থেকে অনেকটাই শান্ত লাগছে। পছন্দের কোনো মুভি দেখতে দেখতে বা গান শুনতে শুনতেও খেতে পারেন পছন্দের খাবার।

কিছু সময় ভাবুন

ঝগড়া হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু ঝগড়ার পরেও টানা মন খারাপ করে থাকা অস্বাভাবিক। কারণ এর প্রভাব পড়ে আপনার প্রতিদিনকার কাজে-কর্মেও। তাই ঝগড়ার পরে মন অশান্ত না রেখে কিছুক্ষণ ভাবুন। ঝগড়ার সময় যে ভুলভাল কথাগুলো আপনি বলে ফেলেছেন, সেগুলো ভেবে দেখুন। দ্বিতীয়বার এ ধরনের কথা বলতে না চাইলে মনকে বোঝান। ভেবে দেখুন, ঝগড়ায় আসলে কার ভুল বেশি ছিল? আপনিই বা কী ভুল করেছেন? হয়তো আপনাদের দুজনেরই পরস্পরের কথা শোনার প্রচেষ্টা বা ধৈর্য ছিল না।

ইগো ধরে রাখবেন না

বেশিরভাগ ঝগড়ার শুরুটা হয় মূলত ইগোর কারণে। আপনি যদি তাকে হারিয়ে ফেলতে না চান তাহলে তার কথা শুনুন। ইগোর কারণে পছন্দের মানুষটিকে হারিয়ে ফেললে পরে পস্তাতে হতে পারে। তাই ইগো ঝেড়ে ফেলে আপনিই নাহয় আগে গিয়ে কথা বলুন। তার আশায় বসে না থেকে আগে কথা বলার দায়িত্বটি নিজে নিয়ে নিন। এতে মন শান্ত হবে।

সবকিছুতে যুক্তি খুঁজবেন না

ঝগড়ার সময় বলা বেশিরভাগ কথারই মাথা-মুণ্ডু থাকে না। তখন রাগের কারণে মানুষ অযৌক্তিক কথাই বেশি বলে। তাই ঝগড়ার পরে সেসব কথার মধ্যে যুক্তি খুঁজতে যাবেন না। মন শান্ত রাখুন। অন্যের বলা কথাগুলোর বদলে নিজের বলা কথাগুলো আরেকবার ভেবে দেখুন। আপনার কোন কথাগুলো অযৌক্তিক, সেগুলো সম্পর্কে ভাবুন।

 

 

আরপি/এসআর-১৬


বিষয়: ঝগড়া ইগো


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

Top