রাজশাহী শুক্রবার, ২৩শে এপ্রিল ২০২১, ১০ই বৈশাখ ১৪২৮


চতুর্থ গণবিজ্ঞপ্তিতে নিয়োগ পাবেন আরও ৪৫ হাজার শিক্ষক


প্রকাশিত:
৯ মার্চ ২০২১ ২১:২০

আপডেট:
৯ মার্চ ২০২১ ২১:৪৪

ছবি: সংগৃহীত

মামলা জটিলতায় প্রায় দুই বছর ধরে বন্ধ রয়েছে দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক পদ শূন্য থাকায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম। শিক্ষক নিয়োগের জটিলতা কাটাতে সম্প্রতি আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত চায় বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। সেই মতামত পাওয়ার পর বড় ধরনের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যাচ্ছে সংস্থাটি।

তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তিতে ৫৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার কাজ চলমান রয়েছে। এরই মধ্যে চতুর্থ গণবিজ্ঞপ্তি দেওয়ার কাজ শুরু করেছে এনটিআরসিএ। এতে আরও ৪৫ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। দুই গণবিজ্ঞপ্তিতে ১ লাখের বেশি শিক্ষক নিয়োগ দেবে এনটিআরসিএ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে শূন্য পদ পূরণে সরকারের এজেন্ডার অংশ হিসেবে এ নিয়োগ চলতি বছরের মধ্যেই শেষ করতে চায় সংস্থাটি।

এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) আশরাফ উদ্দিন বলেন, আমরা এখন তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তি নিয়ে ব্যস্ত। আইন মন্ত্রণালয়ের মতামতের পর নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতামত পেয়েছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে আমরা চতুর্থ গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করব।

এনটিআরসিএ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের জুন মাস পর্যন্ত শিক্ষকের ৫৭ হাজারের বেশি পদ ফাঁকা ছিল। তবে চলতি বছরই ১ হাজার ২৮৪ জনকে শূন্য পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ দুই বছর নিয়োগ বন্ধ থাকায় নতুন করে আরও ৪৫ হাজার শূন্য পদ সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ৫৭ হাজার ও চতুর্থ গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বাকি ৪৫ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে।

জানা গেছে, শিক্ষক নিয়োগের তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগে শূন্যপদের তথ্য সংশোধনের সুযোগ দিয়েছে এনটিআরসিএ। ৩ মার্চ এনটিআরসিএ থেকে এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা দেশের সব শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। আগামী ১৪ মার্চের মধ্যে এসব তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে। এর আগেও কয়েক দফায় তথ্য সংশোধন করা হয়েছিল। তবে সম্প্রতি ১ হাজার ২৮৪ জন শিক্ষককে নিয়োগ সুপারিশ করার পর অর্ধশত শূন্যপদের তথ্যে ভুল পাওয়া গেছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে শূন্য পদের তথ্য আবারও সংশোধনের সুযোগ দেয় এনটিআরসিএ।

এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান আশরাফ উদ্দিন বলেন, গত দুই বছর নিয়োগ না থাকায় অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক পদ শূন্য হয়ে আছে। এতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটছে। এই শূন্য পদ দ্রুত সময়ের মধ্যে পূরণ করতে চাই।

চেয়ারম্যান বলেন, আমি আশাবাদী চলতি বছরের মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শূন্য পদগুলো পূরণ করে ফেলব। সে রোডম্যাপ ধরে কাজ করছি, বড় ধরনের কোনো ঝামেলা বা আইনি বাধা যদি না আসে।

আবেদনের ফি কমছে: চতুর্থ গণবিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষক নিয়োগের কোনো পরিবর্তন না আসলেও আবেদন ফির পরিমাণ কমানো হচ্ছে। আগে প্রতি স্কুলে আবেদনের জন্য ১৮০ টাকা লাগলেও এখন একজন প্রার্থীকে দিতে হবে ১০০ টাকা। একজন প্রার্থী ইচ্ছামতো আবেদন করতে পারবেন। প্রার্থী প্রথমে বিভাগ, তারপর জেলা এবং উপজেলায় প্রবেশ করে আবেদন করতে পারবেন। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ১০০ টাকা করে লাগবে।

যোগ্য প্রার্থী কত: এনটিআরসিএ’র তথ্য মতে, ১ম থেকে ১৫তম নিবন্ধন পরীক্ষায় পাস করছে এমন যোগ্য প্রার্থীর সংখ্যা ৬ লাখের বেশি। তবে এদের মধ্যে অনেকের অন্যত্র চাকরি হয়েছে, কেউ মারা গেছেন, অনেকে দেশের বাইরে চলে গেছেন বা বয়স শেষ হয়ে গেছে। তবে প্রকৃত সংখ্যা জানা নেই এনটিআরসিএ’র। কর্মকর্তাদের ধারণা, বর্তমানে ১ লাখ ৭০ থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার যোগ্য প্রার্থী আছেন।

বয়স জটিলতায় এনটিআরসিএ: আসন্ন চতুর্থ গণবিজ্ঞপ্তিতে বয়স নির্ধারণী জটিলতায় পড়বে এনটিআরসিএ। কারণ ২০১৮ সালের জুনের আগে যারা নিবন্ধন পরীক্ষা পাস করেছেন, সবাই আবেদন করতে পারবেন। কিন্তু এনটিআরসিএ ৩৫ বছর বয়স নির্ধারণ করেছে। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের এক রায়ে বলা হয়, ২০১৮ সালের আগে যারা নিবন্ধন পরীক্ষায় পাস করেছেন, তাদের ক্ষেত্রে বয়স প্রযোজ্য হবে না। এনটিআরসিএ কর্মকর্তারা বলছেন, রায়ের পর বয়সের বাধা উঠে যাওয়ায় আবেদনের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে যাবে।

আরপি/ এমবি-১



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

Top