রাজশাহী সোমবার, ২০শে মে ২০২৪, ৬ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১


পলাশ বনে রূপান্তরিত রাজশাহী কলেজ


প্রকাশিত:
১৩ মার্চ ২০২৪ ১৫:২২

আপডেট:
১৩ মার্চ ২০২৪ ১৫:৩০

ফুটন্ত পলাশ

বাতাসে বহিছে প্রেম, নয়নে লাগিল নেশা কারা যে ডাকিলো পিছে বসন্ত এসে গেছে। কোকিলের মায়াবী সুরে শ্যামলিমার জেগে জবুথবু শীতের আষ্টেপৃষ্ঠে বন্ধন থেকে জীর্ণতা সরিয়ে প্রকৃতির ফুলে ফুলে সেজে ওঠার দিন এই বসন্ত।

রাজশাহী কলেজ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর। কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করার পূর্বেই কলেজ গেইট এ নজরে পরে আগুন ঝরা পলাশ ফুল। এছাড়া কলেজের মধ্যে বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে পলাশ ফুলের গাছ।

বসন্ত মানেই ফুলের সমারোহ আর ফুল মানে রঙ্গের রঙ্গীন মেলা। আগুন ঝরা পলাশ ফুল আমাদের জানান দিচ্ছে ঋতুররাজ বসন্ত চলছে। পলাশ ফুল নিয়ে কবি কাজী নজরুল ইসলাম তার একটি গানে লিখেছেন - হলুদ গাঁদার ফুল,রাঙ্গা পলাশ ফুল, এনে দে এনে দে নইলে বাধব না বাধব না চুল।

পলাশ ফুলের গাছে নাম লেখা সাথে বৈঙ্গানিক নাম Butea monosperma। দূর থেকে দেখে মনে হয় যেন আগুন জ্বলছে গাছে। এজন্য আগুনের  উপমায় পলাশ ফুলকে অরণ্যের অগ্নিশিখা বলা হয়। রাজশাহী কলেজের ২য় প্রবেশদ্বারে শহীদ মিনারে পাশে অবস্থিত রয়েছে পলাশ ফুলের গাছ।পাতা ঝরা গাছে অগ্নির মতো জলজল করে জ্বলতে দেখা যায় পলাশ ফুলকে।শুধু ছাত্র-ছাত্রীরা নয় মুগ্ধ হচ্ছেন প্রকৃতি প্রেমিক দর্শনার্থীরাও।

কলেজে প্রবেশের সময় শহীদ মিনারে ফুল পড়ে থাকতে দেখা যায়,দেখে মনে হয় যেন প্রতিদিন সকালে রাজশাহী কলেজ ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে, পুরো বসন্ত জুড়ে রাজশাহী কলেজের পক্ষ থেকে সন্মান ও শ্রদ্ধা পাচ্ছে ভাষা শহিদরা। কলেজে প্রবেশের সময় অনেক ফুল প্রেমিকদের দেখা যায় তারা মনের আনন্দে ফুল কুড়াচ্ছে। বিকেলের দিকে হাজারো দর্শনার্থীরা ব্যস্ত হয়ে পড়ে পলাশ ফুলের ছবি তোলা নিয়ে। রাজশাহী কলেজ ক্যাম্পাসের আকর্ষণীয় দিকগুলোর মধ্যে পলাশ ফুলের সৌন্দর্য অন্যতম।

ইংরেজি বিভাগের ১ম বর্ষের ছাত্রী মোসাঃ রেহেনুমা খাতুন বলেন পলাশ ফুল আমার খুব প্রিয়। পলাশ ফুলের ছবি তুলতে আমার অনেক ভালো লাগে। কলেজে আসলে প্রায় প্রতিদিনই আমি পলাশ ফুল দেখতে আসি।

অর্থনীতি বিভাগের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী জুয়েল বলেন, পলাশ ফুল খুব পছন্দের একটি ফুল। প্রথম প্রথম ফুটন্ত অবস্থায় পলাশ ফুলের সৌরভ আমার খুব ভালো লাগে। কলেজে প্রবেশের পর পলাশ ফুল দেখলে মনে একটা ভালো লাগা কাজ করে।

মার্কেটিং বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী হুসনিয়ারা রুহি বলেন, পলাশ ফুল ভালো লাগে তবে গাছে থাকা অবস্থাতেই ভালো লাগে। গাছ থেকে ঝরে পড়ার পর সেগুলো নিচে পরে থেকে অনেকটাই আবর্জনায় পরিণত হয় যেটা আমার ভালো লাগে না। কিন্তু পলাশ ফুল আমার খুব পছন্দ।

রাজশাহী কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাঃ আব্দুল খালেক বলেন, ১৯৫২ সালে নির্মিত  শহীদ মিনারের পাশে ভাষা শহীদদের স্বৃতি স্মরণে পলাশ ফুলের গাছ লাগানো হয়। রক্তরাঙ্গা পলাশ ফুল আমাদের স্বরণ করিয়ে দেয় রফিক,শফিক,জব্বার,বরকতসহ হাজারো ভাষা শহীদদের কথা। কলেজে ছাত্র-ছাত্রীদের অনেক সময় ফুল কুড়োতে দেখা যায়। আমি চায় পলাশ ফুলের মতোয় ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা জীবন প্রস্ফুটিত হোক।

 

আরপি/আআ



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

Top