রাজশাহী রবিবার, ২৬শে জুন ২০২২, ১৩ই আষাঢ় ১৪২৯


বর্ণিল ফুলের এক টুকরো স্বর্গরাজ্য রাবি


প্রকাশিত:
১৯ মে ২০২২ ০০:১০

আপডেট:
২৬ জুন ২০২২ ০৮:০৭

ছবি: রাজশাহী পোস্ট

প্রকৃতি থেকে ঋতুরাজ বসন্তের বিদায় হলো বহুদিন। খাঁ খাঁ রোদ্দুর, তপ্ত বাতাস, চারদিকের নিঝুম, নিঃস্তব্ধ, ঝিমধরা প্রকৃতি আর ঘামে দরদর তৃষ্ণার্ত পথিকের আগমন স্মরণ করে দেয় গ্রীষ্মের কথা। সেই প্রতিচ্ছবিই যেন বাস্তবে রূপ নিয়েছে গ্রীষ্মকালে।

সূর্যের প্রখরতা পুরো প্রকৃতিকে যেন করেছে নির্জীব। দূর আকাশে পাখনা মেলা চিলও যেন আহ্বান জানায় বৃষ্টিকে। অন্যদিকে গাছের নিচে ক্লান্ত শ্রমিকের বৃষ্টির অপেক্ষায় নিঃশব্দ অবস্থান যেন গ্রীষ্মের তপ্ত দুপুরের চিরচেনা দৃশ্য।

তবে গ্রীষ্মের এই চিরায়িত রূপে ব্যতিক্রমী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাস। রাজশাহীতে গরমের তীব্রতা প্রখর হলেও রাবি ক্যাম্পাসে যেন বিরাজ করছে ঋতুরাজ বসন্ত। জ্যৈষ্ঠের এই খরতাপেও ক্যাম্পাসের প্রকৃতি নিজেকে দিয়েছে উজার করে। গ্রীষ্মের বাহারি সব ফুলে ক্যাম্পস সেজেছে নতুন রূপে। কাঠফাঁটা রোদেও নয়নাভিরাম প্রকৃতির দিকে তাকিয়ে হৃদয়ের তৃষ্ণা মেটাচ্ছেন প্রকৃতি প্রেমীরা।

এপ্রিল মাসজুড়ে রাজশাহী অঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে গেছে তীব্র তাবদাহ। তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙ্গেছে বিগত কয়েক বছরে। তাপদাহে মানুষের মত বৃক্ষরাজিও যেন ছিল হাসফাঁস অবস্থায়। তবে ধুঁকতে থাকা সেই বৃক্ষরাজি কয়েকদিনের বৃষ্টিতে ফিরে পেয়েছে প্রাণ। হারানো যৌবন পেয়ে নিজেকে ভরে তুলেছে ফুলে ও ফলে। রঙিন এসব ফুলে বর্ণিল মতিহারের এই সবুজ চত্বর। প্রচন্ড খরতাপেও প্রকৃতিকে বসন্তের রঙে সাজিয়েছে কৃষ্ণচূড়া, জারুল, সোনালু, কাঠগোলাপ, রক্ত জবা, বকুলসহ নাম না জানা বাহারি জাতের ফুল।

কৃষ্ণচূড়ার পাপড়িগুলো খসতে শুরু করেছে ধীরে ধীরে। গাছের শাখায়ও গজিয়েছে নতুন পাতা। সেই কচি পাতার ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে কৃষ্ণচূড়ার রক্তিম পাপড়ি। জারুল তার বেগুনি আভায় প্রকৃতিতে দিয়েছে নতুন মাত্রা। জারুলের বেগুনি আভায় মনোহারা দর্শনার্থীরা। সোনালু গাছে পাতার ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে হলুদ ফুলের ঝর্ণা। মাঝারি আকৃতির গাছগুলোতে যেন দোল খাচ্ছে কিশোরীর কানের দুল। আর প্রেমিকার কানে কাঠগোলাপের শুভ্রকোমল পাপড়ি যেন বাড়িয়ে দিচ্ছে প্রেমের মহিমা। প্রকৃতির এমনই সৌন্দর্য মন ভরিয়ে দিচ্ছে ঈদ শেষে ক্যাম্পাস ফেরত শিক্ষার্থীদের।

রাবির কাজলা গেট দিয়ে ঢুকলে যে কারোরই চোখে পড়বে হলুদ ফুলে সমাদৃত হাতের ডান দিন। সমাহার। সোনাঝরা এই ফুলটিই সোনালু নামে পরিচিত। পদ্মা নদীর দখিনা হাওয়ায় কিশোরীর কানের দুলের মতো দুলছে হলুদ রঙের থোকা থোকা ফুল। আবার ফুলের ফাঁকে দেখা যায় লম্বা ফল। হলুদ বরণ সৌন্দর্যে মাতোয়ারা করে রেখেছে পুরো ক্যাম্পাসকে। জ্যৈষ্ঠের খরতাপে হালকা সুগন্ধিযুক্ত এই ফুলের হলুদ আভা নজর কাড়তে বাধ্য করে পথিকের।

এছাড়াও ক্যাম্পাসের বিভিন্ন প্রান্তের বড় বড় কৃষ্ণচূড়ার সবুজ পাতার ফাঁকে লাল পাপড়ি, বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলকের দুই পাশে সারফিনিয়া ফুলের গোলাপী আর সাদা পাপড়ি প্রকৃতি পিপাসু শিক্ষার্থীদের হৃদয় ছুয়ে যায় নিরবে। ইবলিশ চত্বরে বসে থাকা কপোত-কপোতীদের প্রেমে হালকা ঢেউ দিয়ে যায় জারুলের বেগুনি আভা। আর টিএসসিসির সামনের বকুলের সুগন্ধে হৃদয় হারা হয় সেখানে পড়তে বসা শিক্ষার্থীরা।

ক্যাম্পাসের প্রকৃতি সম্পর্কে ফার্মেসী বিভাগের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম বলেন, গ্রীষ্মের এই প্রচণ্ড খরতাপে ক্লাস করে প্রাণ যেন নির্জীব হয়ে যায়। এমন সময় সোনালু গাছের নিছে বসে হালকা দখিনা হাওয়ার সাথে মিতালী যেন দেহে ফের প্রাণ দেয়। গ্রীষ্মের এই নৈসর্গিক সৌন্দর্য মন ভালো করে দিবে যে কারোর।

নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থী লামিয়া ইসরাত বলেন, ঈদের ছুটির পর আসা মাত্র কয়েকদিন হলো। এসেই দেখি নানা রঙের ফুলে-ফলে সেজেছে ক্যাম্পাস। যেন নতুন রূপ পেয়েছে। রাজশাহীর এতো গরমেও ক্যাম্পাস যেন নিজেকে নতুনভাবে উপস্থাপন করছে।

 

 

আরপি/এসআর-০৩



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

Top