রাজশাহী বৃহঃস্পতিবার, ৩রা এপ্রিল ২০২৫, ২১শে চৈত্র ১৪৩১


১ মার্চ যে কোনো মূল্যে হলে উঠবেন ইবি শিক্ষার্থীরা


প্রকাশিত:
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ০১:৪৬

আপডেট:
৩ এপ্রিল ২০২৫ ১৪:৩২

ছবি: সংগৃহীত

চলমান পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান ও ১ মার্চের মধ্যে হল না খুললে যে কোনো মূল্যে হলে উঠবেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডায়না চত্বরে সাংবাদিক সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন তারা। অতিদ্রুত স্থগিতকৃত পরীক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করে দেওয়ার জোর দাবি জানানো হয়েছে সম্মেলন থেকে।

এদিকে সংবাদ সম্মেলনের পরে স্থগিত পরীক্ষা চালু করার দাবিতে পৌনে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডায়না চত্বর এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করে শিক্ষার্থীরা। একই দাবিতে প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে তারা। পরে ভিসির সঙ্গে সাক্ষাত করে তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. শেখ আবদুস সালাম বলেন, ‘আমি শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে একমত। তবে আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের বাইরে কিছু করতে পারছি না। স্থগিত পরীক্ষা চালুর বিষয়ে তিনি বলেন, অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষা নিলে আমি এ ব্যাপারে ইউজিসির সঙ্গে কথা বলে চলমান পরীক্ষা চালু করে দিব। এ মুহূর্তে আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের বাইরে কিছু করতে পারছি না।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী জিকে সাদিক। এ সময় তিনি বলেন, সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনগুলো করোনা সংক্রমণের দোহাই দিয়ে হল ও ক্যাম্পাস খুলে শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে চাইছেন না। কিন্তু সারাদেশের সবকিছু উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ৬৪ জেলায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে, সব ধরনের গণজমায়েত চলছে।

তিনি বলেন, করোনা সংক্রমণও সর্বনিম্নে চলে এসেছে এবং ইতোমধ্যে ভ্যাক্সিনও চলে এসেছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বলতে চাই, আগামী ১৭ মে হল ও ২৪ মে ক্যাম্পাস খুলে দেওয়ার যে অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সেখান থেকে সরে এসে দ্রুত হল ও ক্যাম্পাস খুলে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করতে হবে।

জিকে সাদিক বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এমন সিদ্ধান্ত আমরা পুনর্বিবেচনা করার দাবি করে এ সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখ্যান করছি। আমরা মনে করি, এ সিদ্ধান্ত সাধারণ শিক্ষার্থীদের পরিস্থিতি বিবেচনায় না নিয়েই গ্রহণ করা হয়েছে। কারণ তিনি ভ্যাক্সিন দিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার কথা বলেছেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ভ্যাক্সিনের আওতায় আনতে তিন মাস সময় কেন লাগবে সেটা বোধগম্য নয়। আমরা সেই প্রশ্ন শিক্ষামন্ত্রীর কাছে রাখতে চাই।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর ঘোষণার পর ইতোমধ্যে ইবিতে সব ধরনের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এটিও চরম হঠকারী সিদ্ধান্ত। কারণ ইতোমধ্যে বিভিন্ন বিভাগের পরীক্ষা শুরু হয়েছে, কিছু বিভাগে তারিখ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। যার ফলে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে উচ্চমূল্যে মেস-বাসাভাড়া নিয়ে গাদাগাদি হয়ে অবস্থান করছেন। এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষা বন্ধ করে দিয়ে শিক্ষার্থীদের বিপাকে ফেলা হয়েছে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান করছি অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে হল-ক্যাম্পাস খুলে শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করুন। অন্যথায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিলে সেটার দায়ভার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকেই নিতে হবে।

তিনি বলেন, যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির দায়ভার প্রশাসনকেই নিতে হবে। কোনো ধরণের দমন-পীড়নের দিকে না গিয়ে আগামী ১ মার্চের মধ্যে হল ও ক্যাম্পাস খুলে দেয়ার ব্যবস্থা করুন। অন্যথায় শিক্ষার্থীরা হলে ঢোকার ব্যবস্থা নিজেরাই করে নিবে।

আরপি/ এসআই-২২



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

Top