রাজশাহী সোমবার, ২২শে এপ্রিল ২০২৪, ১০ই বৈশাখ ১৪৩১

বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে স্বাধীনতা কাকে বলে জানতাম না: বিভাগীয় কমিশনার


প্রকাশিত:
১৮ মার্চ ২০২৪ ০৪:০৩

আপডেট:
২২ এপ্রিল ২০২৪ ২৩:০৩

ছবি: পুরস্কার বিতরণ

টুঙ্গীপাড়ার অজপাড়া গাঁয়ে যদি বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হতো, তবে স্বাধীনতা কাকে বলে জানতাম না বলে মন্তব্য করেছেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. দেওয়ান মুহাম্মহ হুমায়ূন কবীর।

রোববার (১৭ মার্চ) দুপুরে রাজশাহী শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৪ তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষ্যে ‘বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ধরে, আনব হাসি সবার ঘরে’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন।

ড. দেওয়ান মুহাম্মহ হুমায়ূন কবীর বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা ঘোষণা দেওয়ার এক সপ্তাহ আগে বঙ্গবন্ধুর ৫২তম জন্মদিন ছিল। এই দিনে অনেক বিদেশি নাগরিক তার সঙ্গে উপস্থিত ছিল। তখন রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছিল অনেক জটিল। এ সময় এক বিদেশি সাংবাদিক জিজ্ঞেস করল, জন্মদিনে আপনার অনুভূতি কী? বঙ্গবন্ধু উত্তর দিয়েছিল, ‘এই দুখিনি বাংলায় আমার জন্মদিনই বা-কি, মৃত্যু দিনই বা-কি, যখনি কারো ইচ্ছে হলো আমাদের প্রাণ নিয়ে যাচ্ছে।’

বঙ্গবন্ধুর জীবনের বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, বঙ্গবন্ধু এই পরাধীন রাষ্ট্রকে একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র বানিয়েছে। তাঁর মাত্র ৫৫ বছর জীবনের প্রায় ১৩ বছরই কেটেছে কারাগারে। বাঙালির জন্য কত আত্মত্যাগ করেছেন তিনি। তাঁর একটাই লক্ষ্য ছিল, বাঙালি জাতি যেন মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে।

তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু বলতেন শিশুদের যথাযথ শিক্ষার ব্যত্যয় ঘটলে কষ্টার্জিত স্বাধীনতা অর্থহীন হয়ে পড়বে। সেই কারণে তিনি শিশুদের পরিপূর্ণ বিকাশে মনোযোগী হয়েছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন, শিশুরা শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে সুন্দরভাবে গড়ে উঠুক। বঙ্গবন্ধু বাধ্যতামূলকভাবে প্রাথমিক শিক্ষা, বিনামূল্যে বই, পোশাক, বিনা বেতনে পড়াশোনার ব্যবস্থা চালু করেছিলেন। তিনি শিশুদের এতই ভালবাসতেন যে তাঁর শেষ জন্মদিন পালন করেছিলেন শিশুদের নিয়ে। এ সময় বঙ্গবন্ধুর আদর্শ অনুকরণ ও অনুসরণ করে ভবিষ্যত প্রজন্মকে গড়ে তোলার আহ্বানও জানান বিভাগীয় কমিশনার।

রাজশাহীর জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদের সভাপতিত্বে সভায় আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাজশাহী অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ড. তসিকুল ইসলাম রাজা। এসময় রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি আনিসুর রহমান, আরএমপি কমিশনার বিপ্লব বিজয় তালুকদার, পুলিশ সুপার সাইফুর রহমান বীর মুক্তিযোদ্ধা, সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

পরে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ ও বঙ্গবন্ধুর ১০৪তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে ১০৪ জন শিশুকে নিয়ে সংগীত এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে সকালে নগরীর বঙ্গবন্ধু চত্বরে জাতির পিতার ম্যুরালে পুস্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

 

 

আরপি/এসআর



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

Top