পুলিশ সদস্যের সঙ্গে ঝামেলা, যুব গেমস খেলোয়াড়-কোচ কারাগারে

রাজশাহীতে পুলিশের সদস্যের সঙ্গে ঝামেলার জেরে ছয় খেলোয়াড় ও কোচকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। শেখ কামাল দ্বিতীয় বাংলাদেশ যুব গেমস খেলে ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরার পথে ট্রেনে পুলিশ সদস্যের সঙ্গে ঝামেলা হয় তাদের।
রোববার (৫ মার্চ) রাত আটটার দিকে রাজশাহীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (ভারপ্রাপ্ত) লিটন হোসেন তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এছাড়াও ওই ঘটনায় অপ্রাপ্তবয়স্ক অপর পাঁচ খেলোয়াড়কে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল-২–এ তোলা হলে তাদের অন্তর্র্বতীকালীন জামিন দেন আদালত।
রাজশাহী জেলা জজ আদালতের আদালত পরিদর্শক পরিমল চক্রবর্তী এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
১১ খেলোয়াড়ের মধ্যে তিনজন ছেলে ও আটজন মেয়ে। যাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে তারা হলেন- আলী আজম (১৯), আকাশ আলী মোহন (২০), রিমি খানম (১৯), পাপিয়া সারোয়ার ওরফে পূর্ণিমা (১৯), মোছা. দিপালী (১৯), সাবরিনা আক্তার (১৯) ও কোচ আহসান কবীর (৪৫)।
পরিমল চক্রবর্তী বলেন, প্রাপ্তবয়স্ক ছয় খেলোয়াড় ও কোচকে রাতে রাজশাহীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হয়। এ সময় ভারপ্রাপ্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট লিটন হোসেন আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। পরে রাতেই তাদের রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।
আসামিদের আইনজীবী মাইনুল ইসলাম বলেন, তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ ছিল না। এজাহারে যা আছে তা-ও জামিনযোগ্য। রাত হয়ে যাওয়াই পূর্ণাঙ্গ শুনানি হয়নি। তাই আদালতের বিচারক মুহা. হাসানুজ্জামান অপ্রাপ্তবয়স্ক পাঁচ খেলোয়াড়কে সোমবার সকাল ১০টা পর্যন্ত অন্তর্র্বতীকালীন জামিন দিয়েছেন। সোমবার আদালতে জামিন আবেদনের পূর্ণাঙ্গ শুনানি হবে। তারপর আদালত সিদ্ধান্ত দেবেন। আর অন্যদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ হওয়ায় রাতেই রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, রোববার সকাল ছয়টায় ধূমকেতু এক্সপ্রেস ট্রেনে পুলিশ সদস্য গোলাম কিবরিয়া ও তার স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা জয়া ঢাকা থেকে রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা দেন। দুপুর সাড়ে ১২টায় ট্রেনটি রাজশাহী স্টেশনে পৌঁছায়। ট্রেন থেকে নামার সময়ে ওই ১৩ খেলোয়াড় জটবেঁধে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তা দেখে জয়া এবং তার স্বামী কিবরিয়া খেলোয়াড়দের সরে যাওয়ার অনুরোধ করেন।
কিন্তু না সরে এই দম্পতির সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ায় ১৩ খেলোয়াড়। এক পর্যায়ে খেলোয়াড়রা পুলিশ সদস্য কিবরিয়া এবং তার স্ত্রী রাজিয়াকে বেদম পিটুনি দেয়। এরপর রাজশাহী রেলওয়ে থানা–পুলিশ সবাইকে থানায় নিয়ে যায়।
আরপি/এসআর-০২
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: