রাজশাহী মঙ্গলবার, ১৬ই জুলাই ২০২৪, ২রা শ্রাবণ ১৪৩১

টাকার অভাবে চিকিৎসা ছাড়াই না ফেরার দেশে জাহিদ


প্রকাশিত:
২৭ অক্টোবর ২০১৯ ০৪:০৩

আপডেট:
১৬ জুলাই ২০২৪ ১৩:২২

ছবি: পরিবারের সাথে শিশু জাহিদ

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী পৌরসভার চকসিংগা গ্রামের হতদরিদ্র ভ্যান চালক ইমরান আলীর ছেলে জাহিদ হাসান।ফুটফুটে শিশুটির বয়স মাত্র ৪ বছর। আক্রান্ত হয়েছিল ব্রেইন টিউমারে।চিকিৎসায় দরকার ছিল অনেক টাকা। সাহায্যের আবেদনও করেছিলেন তার বাবা একরাম।গত ২২ সেপ্টেম্বর দৈনিক সোনার দেশ ও যুগান্তরে ব্রেইন টিউমারে আক্রান্ত জাহিদ হাসান বাচতে চায় শিরোনামে সংবাদটি ছাপা হয়। তারপর বিভিন্নস্থান থেকে কিছু আর্থিক সহযোগিতা পান। কিন্তু সেটি পর্যাপ্ত ছিলনা।

ব্রেইন টিউমারের সাথে লড়াই করে অবশেষ চিকিৎসার অভাবে শুক্রবার সন্ধ্যায় মারা গেছে জাহিদ।তার বাবা ইমরান আলী বিভিন্নস্থানে মাইকিং করেও তার পাশে কেউ দাঁড়ায়নি। ফলে ইমরান আলী দুস্তিন্তায় পড়ে।

জাহিদ হাসানকে তার ভ্যান চালক বাবা ঢাকার আগারগাঁ তালতলা নিউরোসায়েন্স হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. জাহিদ হোসেনের কাছে নিয়ে যায়। সেখানে ১৭ দিন থাকার পর তার এখানে চিকিৎসা দেয়া সম্ভব না বলে জানিয়ে দেয়া হয়। তারপর তিনি বাড়িতে এসে ভারতে যাওয়ার জন্য ভিসার জন্য আবেদন করেন। তার ভিসার পুলিশ তদন্তও হয়ে গেছে। কিন্তু ভারতে যাওয়া অনুমতি পায়নি।


একদিকে টাকার সংকট অন্যদিকে ছেলেকে নিয়ে বড় সমস্যায় পড়েন তিনি। অবশেষে তার আড়াই শতাংশ জমির উপর বাড়িটি বিক্রি করে ছেলেকে চিকিৎসা করানোর সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু তার আগেই শিশু জাহিদ হাসানের মৃত্যু হয়।


এবিষয়ে জাহিদ হাসানের বাবা ইমরান আলী বলেন, আমার পিতা আলী মুদ্দিনের মৃত্যুর পর আড়াই শতাংশ জমি পেয়েছি। এই জমির উপর দুটি টিনের ছাপরা ঘর তুলে কোন মতে বসবাস করি। আমি ভ্যান চালিয়ে যে, আয় হয়, সে টাকা দিয়ে সংসার ও ৩ ছেলে এবং ২ মেয়ের লেখা পড়ার খরচ করতে পারিনা। তারপর ছোট ছেলে জাহিদ হাসানের ব্রেইন টিউমার ধরা পড়ে। অভাবের সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরায়। টাকার অভাবে আমার ছেলে চিকিৎসা করাতে পারেনি। আমি নিরুপায় হয়ে বিভিন্নস্থানে ঘুরেও কোন কাজ হয়নি।

শনিবার সকাল ১০ টায় শিশু জাহিদ হাসানকে জানাজা নামাজ শেষে আড়ানী কেন্দ্রীয় গোরস্থানে দাফন করা হয়।

 

আরপি/আআ



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

Top