রাজশাহী রবিবার, ২৬শে জুন ২০২২, ১৩ই আষাঢ় ১৪২৯


ইতালিকে ৩-০ গোলে হারালো মেসিরা


প্রকাশিত:
২ জুন ২০২২ ০৯:৪৫

আপডেট:
২৬ জুন ২০২২ ০৭:২২

ছবি: সংগৃহীত

ইংল্যান্ডের বিখ্যাত ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে দুই মহাদেশীয় চ্যাম্পিয়নের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই 'ফিনালিসিমা' ম্যাচে ইতালিকে ৩-০ গোলের ব্যবধানে হারিয়েছে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। গোল পেয়েছেন লাওতারো মার্টিনেজ, আনহেল ডি মারিয়া ও পাওলো দিবালা। এ নিয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৩২ ম্যাচ ধরে অপরাজিত থাকল আর্জেন্টিনা।

বুধবার রাতের এই ম্যাচজুড়েই ইতালির ওপর আধিপত্য বিস্তার করে আর্জেন্টিনা। প্রথমার্ধেই দুই গোল করে নিয়ন্ত্রণ নেয় স্কালোনির দল। দ্বিতীয়ার্ধে আরও ভয়ংকর রূপে দেখা দেয় লিওনেল মেসিরা।

কাল শুরু থেকেই দেখা মিলেছে আগ্রাসী আকাশী নীলদের। ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই ডি বক্সের অনেক দূর থেকে লং শট নেন ডি মারিয়া। তবে লক্ষ্যে ছিল না শটটি। এরপর আজ্জুরিরা করেছে কিছু আক্রমণ। জাকোমো রাসপাদোরির শট ডাইভ দিয়ে ধরে ফেলেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ।

তবে ২৭ মিনিটে হঠাৎই গর্জে ওঠে স্টেডিয়াম। জাদুকর লিওনেল মেসি বল পান বক্সের ভিতর। তবে ডান পায়ের দুর্বল শট সহজেই ধরে ফেলেন তারই পিএসজি সতীর্থ জিয়ানলুইজি ডোনারুমা। তবে এরপর আর লা পুল্গাকে আটকাতে পারেননি চিয়েলিনি, বোনুচ্চিরা।

২৮ মিনিটে স্প্রিন্ট বাড়িয়ে ঢুকে পড়েন বা পাশ দিয়ে, চুলচেরা ক্রস বাড়ান লাওতারো মার্টিনেজকে। ট্যাপ করে বল জালে জড়িয়ে উল্লাসে মাতান আলবিসেলিস্তেদের।

গোল হজম করে বেপরোয়া হয়ে ওঠার চেষ্টা করে ইতালি। নিকলো বারেল্লা মাঝমাঠ থেকেই হাঁকান দারুণ শট, তবে তার চেয়েও দারুণ এক সেভ করে সে যাত্রা রক্ষা করেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ।

আক্রমণ পাল্টা আক্রমণের মাঝে বিরতির ঠিক আগে এসে বল নিয়ে আবারও আজ্জুরিদের জাল খুঁজে পান মেসিরা। জর্জিও চিয়েলিনিকে গতিতে পরাস্ত করে ডি মারিয়া ক্ষিপ্রবেগে ঢুকে যান বিপদসীমায়, দারুণ এক চিপে আবারও উল্লাসে মাতান ভক্তদের।

৫৬ মিনিটে আরেকটু হোলে আত্মঘাতী গোল দিয়ে বসেছিলেন ডোনারুমা তবে কোনমতে রক্ষা পান সে যাত্রা। তবে অবিশ্বাস্য এক সেভে ৫৯ মিনিটে ভেঙে দেন ডি মারিয়ার দ্বিতীয় গোলের স্বপ্ন।

আর্জেন্টিনা আক্রমণাত্মক ফুটবল বজায় রাখে। ডি মারিয়ার আগুন গতির ভলি কোনমতে আটকান ডোনারুমা। এরপর মেসির ক্রস থেকে সুযোগ নষ্ট করেন লো সেলসো। লা পুল্গাও বসে থাকেননি, নিয়েছেন একের পর এক শট।

তবে কিছুতেই পিএসজিতে একসঙ্গে অনুশীলন করা ইতালির নায়ককে পরাস্ত করতে পারেননি। ৭৪ মিনিটে ফ্রি কিকটিও উড়িয়ে মারেন আকাশে। তবে দিবালা পেলেন গোল, ৯০ মিনিটের পর যোগ করা অতিরিক্ত সময়ে। ইতালি ডিফেন্ডারদের কাটিয়ে নেন লিঁখুত শট, রাইট পোস্ট ঘেষে বল চলে যায় জালে।

এই জয়ে দ্বিতীয়বারের মতো কনমেবল ফাইনাল খেলতে নেমে দুইবারই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ল আর্জেন্টিনা। এর আগে ১৯৯৩ সালে ডেনমার্কের বিপক্ষে জিতেছিল আলবিসেলিস্তেরা।

করোনার কারণে ইউরো আসর এক বছর পিছিয়ে গত বছর মাঠে গড়ায়। একই সময় মাঠে গড়ায় কোপা আমেরিকা। ইউরোপের ফুটবল জৌলুসের কাছে পাত্তা পায়নি মেসি-নেইমার-সুয়ারেজদের লড়াই। ইউরোপের কাছে ল্যাটিন ফুটবল হারাতে বসেছে এই রব উঠেছিল।

কিংবদন্তি ডিয়াগো ম্যারাডোনার স্মরণে কনমেবল ও উয়েফা ফিনালিসিমার আয়োজন করে। মহাদেশীয় এই লড়াইয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে ইউরোপকে বুড়ো আঙ্গুল দেখালেন মেসিরা।

 

 

আরপি/এসআর



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

Top