রাজশাহী বৃহঃস্পতিবার, ১৬ই মে ২০২৪, ৩রা জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১


বুড়িমারীতে আটকে পড়া ৬১ ট্রাকচালককে ফেরত নিচ্ছে না ভারত


প্রকাশিত:
২০ এপ্রিল ২০২০ ১৫:৫৮

আপডেট:
২০ এপ্রিল ২০২০ ১৫:৫৯

 

লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দরে আটকে পড়া ৬১ জন ভারতীয় ট্রাকচালককে গত ১৫ দিনেও ফিরিয়ে নেয়নি সেদেশের ইমিগ্রেশন পুলিশ। বুড়িমারী স্থলবন্দর এসে পণ্য খালাস করে তাদের দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাদের ফিরিয়ে নেয়া হয়নি। গত ৪ এপ্রিল বিশেষ ব্যবস্থায় পাটবীজ নিয়ে তারা বাংলাদেশে আসেন।


স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসন সরকারের উচ্চ পর্যায়ে বিষয়টি জানিয়েছেন। ঢাকা জানিয়েছে দিল্লিকে। আর দিল্লি জানিয়েছে দেশটির পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারকে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ফলে ওইসব ট্রাকচালক এখন অনেকটাই ‘অবরুদ্ধ’ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন বুড়িমারী স্থলবন্দরে।


জানা গেছে, ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে বুড়িমারী স্থলবন্দর হয়ে বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য চ্যাংরাবান্ধায় আনা হয়েছিল পাটবীজগুলো। সেদেশে লকডাউন ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা আমাদানি-রফতানি বন্ধ রাখায় সেগুলো ১৫ দিন সেখানেই আটকে ছিল। পরে উভয় দেশের সরকারি নির্দেশে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে গত ৪ এপ্রিল পাটবীজ নিয়ে ৬১টি ভারতীয় ট্রাককে বাংলাদেশে পাঠানো হয়। কথা ছিল বীজ নামিয়ে ওইদিনই তাদের ফেরত পাঠাতে হবে। সে অনুযায়ী বাংলাদেশি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ ওইদিনই ট্রাক খালি করে সেগুলো ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করে। কিন্তু সরকারের নির্দেশনা নেই বলে তাতে বাঁধ সাধে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। ফলে ওই দিন থেকেই ট্রাকচালকরা আটকে আছেন বুড়িমারীতে।


রোববার (১৯ এপ্রিল) সরেজমিনে দেখা গেছে, চারপাশে দেয়াল ঘেরা বুড়িমারী স্থলবন্দরের প্রধান ফটক দুটি তালাবদ্ধ। এর ভেতরে সারি সারি ভারতীয় ট্রাক ও চালকরা। তাদের কয়েকজন মিলে এক একটি দলে ভাগ হয়ে রান্না করছেন। রাতে তারা ঘুমাচ্ছেন ট্রাকের কেবিনে কিংবা ট্রাকের পেছনে।


তারা জানান, বুড়িমারীর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ফারুক হোসেন ঘটনার দিন থেকে চাল, ডাল, মাছ বা সবজি দিয়ে যাচ্ছেন তাদের জন্য। আর এগুলো নিজেরাই রান্না করে খাচ্ছেন তারা। তাদের জন্য একটি করে লুঙ্গি, টি-সার্ট, গামছা, সাবান, মাস্কও দিয়েছেন তিনি।


ভারতের আসামের ট্রাকচালক রাজেশ বলেন, এখনও ভারত থেকে ফিরছেন বাংলাদেশিরা। কিন্তু আমরা ভারতীয় হয়েও নিজের দেশে ফিরতে পারছি না। এটার জন্য বাংলাদেশ সরকারের কোনো দোষ নেই। ভারতের সরকারই আমাদের দিকে চোখ তুলে তাকাচ্ছে না। পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার লালগোলা এলাকার ট্রাকচালক জহিরুল ইসলাম বলেন, আমাদের পাটবীজ নিয়ে পাঠালো, কিন্তু আমাদের আর ফিরিয়ে নিচ্ছে না। আমাদের যদি ফিরিয়ে না নেবে তাহলে তারা কেন এ দেশে পাঠালো?


যোগাযোগ করা হলে ভারতের চ্যাংরাবান্ধা স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট সমিতির সাধারণ সম্পাদক উত্তম কুমার সরকার বলেন, আমরা বারবার তাগাদা দেয়ার পরও করোনাভাইরাসের কথা বলে ট্রাক ও চালকদের ফিরিয়ে আনছে না ভারত। বুড়িমারীর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের মেসার্স করিম অ্যান্ড সন্সের কর্ণধার ফারুক হোসেন বলেন, পাটবীজ নিয়ে টাকগুলো যেদিন এসেছে সেদিনই তাদের ফিরিয়ে নেয়ার কথা ছিল। কিন্তু তাদের সরকার এখন এদিকে নজর দিচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়ে ওইদিন মানাবিক কারণে আমি মানুষগুলোর জন্য কিছু করার চেষ্টা করছি।


বুড়িমারী স্থলবন্দর কাস্টমসের সহকারী কমিশনার (এসি) সোমেন কুমার চাকমা বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ভারত থেকে কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। বুড়িমারী স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক (ডিডি) মাহফুজুল ইসলাম জানান , বর্তমান পরিস্থিতিতে স্থলবন্দরের ইয়ার্ডের ভেতরেই ট্রাক ও চালকদের রাখা হয়েছে। বিষয়টি ভারতীয় দূতাবাসসহ উচ্চ পর্যায়ে জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক আবু জাফর বলেন, ভারতীয় ট্রাকচালকরা আটকে পড়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে আমি উচ্চ পর্যায়ে কথা বলেছি।

 

আরপি/ এআর



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

Top