রাজশাহী রবিবার, ১৪ই এপ্রিল ২০২৪, ১লা বৈশাখ ১৪৩১


অদম্য শেখ হাসিনার ৪২ বছরের রাজনৈতিক জীবনে যত প্রাপ্তি


প্রকাশিত:
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৭:৪৫

আপডেট:
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৭:৪৮

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফাইল ছবি

একটি নাম, একটি ইতিহাস! ১৯৭৫ সালে পুরো পরিবারকে হারিয়েও যিনি এখনো দেশের মানুষের সেবায় ব্রত। শোককে শক্তিতে পরিণত তো করেছেনই; স্বপ্ন দেখছেন, স্বপ্ন দেখাচ্ছেন গোটা জাতিকে। ডিজিটাল থেকে এবার যার পরিকল্পনা স্মার্ট বাংলাদেশ গড়া।

বলছি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথা। হ্যা, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। পদার্পণ করলেন ৭৭ বছরে। ১৯৮১ সালে আওয়ামী লীগের সভানেত্রীর পদ নেওয়ার মধ্য দিয়ে ৪২ বছরের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন অতিবাহিত করছেন।

দীর্ঘ এ রাজনৈতিক জীবনে অসাধারণ অবদান রাখায় অর্জন করেছেন দেশি-বিদেশি অর্ধশত পদক ও সম্মাননা।
সত্তরের দশকের ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ উপাধি পাওয়া বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের রোল মডেলের অর্জন এসেছে শেখ হাসিনার হাত ধরে। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা এবং অবকাঠামো নির্মাণে চমক লাগিয়ে বিশ্বে বাংলাদেশ এখন ‘ইমার্জিং টাইগার’।

১৯৯৬ সালে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন শেখ হাসিনা। তবে আন্তর্জাতিক মহলের বাড়তি মনোযোগে আসেন ১৯৯৮ সালে। সে বছর পার্বত্য চট্টগ্রামে বিদ্রোহীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দীর্ঘ দুই দশকের অস্থিরতার অবসান ঘটিয়ে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য ইউনেস্কো প্রধানমন্ত্রীকে ‘হুপে-বোয়ানি’ শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করে। এরপর একে একে পেয়েছেন ৪০টিরও বেশি পদক।

সর্বশেষ গুরুত্বপূর্ণ পদকের মধ্যে রয়েছে ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১ সালে করোনা মোকাবিলায় বৈশ্বিক সাফল্য দেখিয়ে ‘ভ্যাকসিন হিরো’ পদক প্রাপ্তি। জাতিসংঘের সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট সলিউশনস নেটওয়ার্ক (এসডিএসএন) তাকে এই পুরস্কার দেয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ১৯৯৭ সালে যুক্তরাজ্যের অ্যালবার্টা ডান্ডি বিশ্ববিদ্যালয় শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক ডক্টর অব লিবারেল আর্টস, যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয় ও জাপানের ওয়াসেদা বিশ্ববিদ্যালয় সম্মানসূচক ডক্টর অব ল’ দেয়।

১৯৯৯ সালে ভারতের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় শেখ হাসিনাকে দেসিকোত্তামা ডিগ্রি এবং অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সম্মানসূচক ডক্টর অব ল’ ডিগ্রি দেয়।

২০০৫ সালে রাশিয়ার পিপলস ফ্রেন্ডশিপ বিশ্ববিদ্যালয়ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি দেয়। ১৯৯৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক ডক্টর অব ল’ ডিগ্রি দেয়। ২০০০ সালে ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি অব ব্রাসেলস তাকে অনন্য সম্মাননা দেয়।

যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল ইউনিভার্সিটি ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে শেখ হাসিনাকে একটি সনদ দেয়। সবমিলিয়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় তাকে নয়টি সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি দিয়েছে।

এ ছাড়া নেতাজী স্মৃতি পুরস্কার (১৯৯৭), পার্ল এস বাক অ্যাওয়ার্ড (১৯৯৯), সিইআরইএস পদক, মাদার তেরেসা পদক, এমকে গান্ধী পদক, ইন্দিরা গান্ধী শান্তি পুরস্কার (২০০৯), ইন্দিরা গান্ধী স্বর্ণ পদক, হেড অব স্টেট পদক ও গ্লোবাল ডাইভারসিটি অ্যাওয়ার্ড (২০১১, ২০১২) পেয়েছেন শেখ হাসিনা।

২০১০ সালে দ্বিতীয় বার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পরে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যসমূহ (এমডিজি) অর্জনে বিশেষ করে শিশু মৃত্যুর হার কমানোর ক্ষেত্রে অবদানের জন্য জাতিসংঘের অ্যাওয়ার্ড পান।

২০১৫ সালে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে আইসিটির ব্যবহারে প্রচারণার জন্য শেখ হাসিনাকে ‘আইসিটি সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়া হয়। দেশের উন্নয়নে অব্যাহত অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি এ পদক পান।

উইমেন ইন পার্লামেন্ট (ডব্লিউআইপি) ও ইউনেস্কো বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রীকে ‘ডব্লিউআইপি গ্লোবাল ফোরাম অ্যাওয়ার্ড’ দেয়। ২০১৯ সালের মার্চ মাসে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে লিঙ্গ বৈষম্য কমানোর ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালনের জন্য তাকে এ পদক দেওয়া হয়।

এ ছাড়া নারী শিক্ষা প্রসারের জন্য ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে শেখ হাসিনাকে ‘ট্রি অব পিস’ পুরস্কার দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী ২০১১ ও ২০১৩ সালে দুবার সাউথ-সাউথ অ্যাওয়ার্ড পান। স্বাস্থ্য খাতে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার কমানো এবং ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিশেষ অবদান রাখার জন্য তাকে দুবার এ সম্মাননা দেওয়া হয়।

২০১৫ সালে শেখ হাসিনা পরিবেশবিষয়ক সর্বোচ্চ বৈশ্বিক পুরস্কার চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ পুরস্কার পান। বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় দূরদর্শী পদক্ষেপ নেওয়ায় তাকে সেই স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

২০১৬ সালে শেখ হাসিনাকে ‘এজেন্ট অব চেঞ্জ’ পুরস্কার ও ‘প্ল্যানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন’ পুরস্কার দেওয়া হয়। নারীর ক্ষমতায়নে অসামান্য অবদান রাখার জন্য তাকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়।

ওই বছরই নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ইউএন উইমেন প্রধানমন্ত্রীকে ‘প্ল্যানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন’ পুরস্কার এবং গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফোরাম তাকে ‘এজেন্ট অব চেঞ্জ’ পুরস্কার দেয়।

২০১৯ সালের মার্চে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীকে ‘লাইফটাইম কন্ট্রিবিউশন ফর উইমেন এমপাওয়ারমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’-এ ভূষিত করে ইনস্টিটিউট অব সাউথ এশিয়ান উইমেন।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া দায়িত্বশীল নীতি ও তার মানবিকতার জন্য প্রধানমন্ত্রী ‘আইপিএস ইন্টারন্যাশনাল অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ এবং ২০১৮ সালে ‘স্পেশাল ডিস্টিংশন অ্যাওয়ার্ড ফর লিডারশিপ’ নেন।

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় নিউজ এজেন্সি ‘দ্য ইন্টার প্রেস সার্ভিস (আইপিএস) এবং নিউইয়র্ক, জুরিখ ও হংকং ভিত্তিক তিনটি অলাভজনক ফাউন্ডেশনের নেটওয়ার্ক গ্লোবাল হোপ কোয়ালিশন ২০১৮ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীকে দুটি অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত করে।

১৮ সালের ২৭ এপ্রিল বাংলাদেশে নারী শিক্ষা ও উদ্যোক্তা তৈরিতে অসামান্য নেতৃত্বদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী ‘গ্লোবাল উইমেনস লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড’ পান।

 

আরপি/আআ



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

Top