রাজশাহী বৃহঃস্পতিবার, ২৯শে ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৮ই ফাল্গুন ১৪৩০


আইনি কাঠামোতে আসছে প্রিজাইডিংয়ের ১ শতাংশ ভোট দেওয়ার সুযোগ


প্রকাশিত:
৪ অক্টোবর ২০২২ ০৪:৫৯

আপডেট:
২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১৪:০৫

ছবি: সংগৃহীত

আঙুলের ছাপ না মিললে কেন্দ্রের মোট ভোটারের ১ শতাংশ ভোট দেওয়ার সুযোগ করে দিতে পারেন প্রিজাইটিং কর্মকর্তা। নির্বাচন কমিশনের দাবি, এই সংখ্যা আরও বেশি বলে অপব্যাখ্যা দেওয়া হয়। তাই প্রিজাইডিং কর্মকর্তার ভোট দেওয়ার ক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ দূর করতে উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে কমিশন। এজন্য বিধানটি আইনি কাঠোমোয় আনতে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) প্রয়োজনীয় সংশোধনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। দু-একদিনের মধ্যে এই সংশোধনী প্রস্তাব আইন মন্ত্রণালয়ের পাঠানো হবে।

সোমবার (৩ অক্টোবর) আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে কমিশনার মো. আলমগীর একথা জানান।

জাতীয় পরিচয়পত্র করার সময় নাগরিকরা আঙুলের ছাপ ভোট দিলেও ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট দিতে অনেকে সমস্যার মুখে পড়েন। বিশেষ করে বয়স্ক ও শ্রমজীবীদের অনেকেই একাধিকবার চেষ্টা করেও ছাপ মেলেনি কখনও কখনও।

নিয়ম অনুযায়ী, এসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তারা চাইলে নিজেদের আঙুলের ছাপ দিয়ে কোনো ভোটারকে ভোট দেওয়ার সুযোগ করে দিতে পারেন। তবে এই সুযোগ রয়েছে কেন্দ্রের এক শতাংশের কমসংখ্যক ভোটারের বেলায়।

নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর, এই বিষয়টি নিয়ে নানা রকম অপব্যাখ্যা ও বিভ্রান্তি সৃষ্টির কারণে তারা এই উদ্যোগ নিয়েছেন।

ইসি আলমগীর বলেন, যাদের হাতের আঙুলের ছাপ মেলে না তাদের তো ভোট দেওয়ার অধিকার রয়েছে। প্রিসাইডিং অফিসার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ভোটার নিশ্চিত হলে ভোট দেওয়ার সুযোগ দেন। এখানে প্রিসাইডিং অফিসার শুধু ভোট দেওয়ার অনুমতি দেন। ওই ভোটার গোপন কক্ষে গিয়ে নিজের ভোট নিজেই প্রদান করেন। এটার একটা সীমা আছে। ওই ভোটকেন্দ্রের সর্বোচ্চ এক শতাংশ ভোটারের ক্ষেত্রে এই সুবিধাটা দেওয়ার সুযোগ প্রিজাইডিং অফিসারের আছে। এ বিষয়টি আলাদা রেকর্ড রাখা হয়।

এসময় এই বিষয়টি আইনি কাঠামোয় অন্তর্ভুক্তির যুক্তি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এই বিষয়টি নিয়ে যাতে কনফিউশন না হয়, সে কারণে আইনের কাঠামোতে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বিষয়টি আইনি কাঠামোতে আনার জন্য আমরা আইন মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব দেবো।’

বিষয়টি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিওতে) যুক্ত হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, এক-দুই দিনের মধ্যে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। আমরা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের একটি সংশোধনী আগেই আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। তার সঙ্গে নতুন এই অংশটুকু যুক্ত হবে। আইন মন্ত্রণালয় বিষয়টি পর্যালোচনা করে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করবে।’

এক শতাংশ ভোট দেওয়ার রেকর্ড রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য বিধিমালায় ও প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হবে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে প্রিজাইডিং অফিসারের ক্ষমতা এক শতাংশ থাকে। ইভিএম মেশিন সেভাবেই কাস্টমাইজ করা হয়। তিনি চাইলে তারচেয়ে বেশি দিতে পারেন না।’

সেক্ষেত্রে ভোটারের সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন হবে কি না এমন প্রশ্ন ছিল ইসি আলমগীরের কাছে। জবাবে তিনি বলেন, বৃহত্তর স্বার্থে এটা করা হচ্ছে। বেশিরভাগ যেহেতু এটাকে সন্দেহের মধ্যে রাখেন এবং রাজনৈতিক দল এটা নিয়ে প্রশ্ন তোলে, যার কারণে বৃহত্তর স্বার্থে আমরা এটা করতে যাচ্ছি।’

এখনও যারা স্মার্ট কার্ড পাননি তাদের ১০ আঙুলের ছাপ নেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা ভোটারদের বর্তমানের চার আঙুলের ছাপের পরিবর্তে ১০ আঙুলের ছাপ নিতে যাচ্ছি। আমরা যাদের স্মার্টকার্ড দিয়েছি, তাদের সবারই ১০ আঙুলে হিসাব নেওয়া হয়েছে। এত করে পাঁচ কোটি ভোটারের ১০ আঙুলের ছাপ ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে। বাকি যারা স্মার্ট কার্ড গ্রহণ করবেন, তাদেরও ১০ আঙুলের ছাপ নেওয়া হবে। এছাড়া স্মার্ট কার্ড দিতে পারি বা না পারি, আমরা সবারই ১০ আঙুলের ছাপ নেবো। আমাদের লক্ষ্য দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই যাতে সবার ১০ আঙুলের ছাপ নিতে পারি। তখন এই সমস্যাটা আর থাকবে না। কারণ এই ১০ আঙুলের কোনো না কোনো আঙুলের মাধ্যমেই আমরা ভোটার চিহ্নিত করতে পারব।’

এক শতাংশের বেশির ক্ষেত্রে বিদ্যমান ব্যবস্থার কথা তুলে ধরে আলমগীর বলেন, ‘এক শতাংশের বেশি হলে সেখানকার প্রিজাইডিং অফিসার রিটার্নিং অফিসারকে জানাবেন। এক্ষেত্রে কোন কোন ভোটার ভোট দিতে পারছে না তা জানাবেন। রিটার্নিং অফিসার তা যাচাই করে সন্তুষ্ট হলে তিনি কমিশনকে জানান এবং কমিশন সেটা ভেরিফাই করে সন্তুষ্ট হলে ওই নির্দিষ্ট ভোটারের জন্য আলাদা কোড দিয়ে ভোট প্রদানের সুযোগ দিয়ে থাকেন। এটা করতে হলে বিশেষ ব্যবস্থা করতে হয়। এক শতাংশের বিষয়টি আইনি কাঠামোতে এলে এই বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে না। এক্ষেত্রে এক শতাংশের বেশি হলে তারা ভোট দিতে পারবে না।’

ইসি বলেন, ১০ আঙুলের ছাপ নিলে এক পার্সেন্টেরও প্রয়োজন হবে না। তারপরও শেষ ব্যবস্থা হিসেবে আমরা এটা রাখছি।’

আরপি/ এসএইচ

 



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

Top