রাজশাহী সোমবার, ৬ই মে ২০২৪, ২৪শে বৈশাখ ১৪৩১


মাতৃভাষা পদক পাচ্ছেন তিন ব্যক্তি-এক প্রতিষ্ঠান


প্রকাশিত:
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ০২:৩২

আপডেট:
৬ মে ২০২৪ ১৯:৪২

ছবি: সংগৃহীত

মাতৃভাষায় বিশেষ অবদান রাখার জন্য বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পদক দিতে যাচ্ছে সরকার। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রথম বারের মতো দুই ক্যাটাগরিত এ পদক দেওয়া হবে। এ বছর দুইজন দেশি নাগরিক, একজন বিদেশি নাগরিক ও একটি প্রতিষ্ঠানকে পদক দেওয়া হবে।

আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি (রোববার) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে (আমাই) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পদকপ্রাপ্তদের হাতে পদক তুলে দেওয়া হবে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি যুক্ত থাকবেন।

বিষয়টি স্বীকার করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মাহাবুব হোসেন তার দপ্তরে বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অভিপ্রায় অনুযায়ী এ পদক দেওয়া হচ্ছে। দুই বছর অন্তর এ পদক দেওয়া হবে। পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবেন। এখনই নাম বলা যাবে না।

সূত্রে জানা যায়, পদকপ্রাপ্ত দেশীয় দুই জন হলেন- জাতীয় অধ্যাপক মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম ও মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা। বিদেশি ব্যক্তি হলেন উজবেকিস্তানের নাগরিক ইসমাইলভ গুলম মিরজায়েভিচ। আর প্রতিষ্ঠানটি হলো- বলিভিয়ার অ্যাক্টিভিজমো লেংকুয়াস।

সূত্রে আরও জানা গেছে, ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা জাতীয় পদক-২০২১’ ও ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা আন্তর্জাতিক পদক-২০২১’-এ দুই ক্যাটাগরিত পদক দেওয়া হবে। পদক হিসেবে ১৮ ক্যারেট মানের ১৫ গ্রাম ওজনের একটি স্বর্ণপদক, সম্মাননাপত্র এবং চার লাখ টাকা বা পাঁচ হাজার ডলার দেওয়া হবে।

পৃথিবীর বিভিন্ন মাতৃভাষা সংরক্ষণ, পুনরুজ্জীবন ও বিকাশে বিশেষ অবদান, মাতৃভাষা চর্চায় প্রমাণিত বিশেষ অবদান, মাতৃভাষায় গবেষণায় বিশেষ অবদান, মাতৃভাষার সংরক্ষণ, পুনরুজ্জীবন ও বিকাশে ডিজিটাল প্রযুক্তির উদ্ভাবনে বিশেষ অবদান, বহির্বিশ্বে মাতৃভাষা ও বিদেশি ভাষা প্রচার ও প্রসারে বিশেষ অবদান, মাতৃভাষায় রচিত সাহিত্য ও অন্যান্য বিষয়ে রচিত মৌলিক গ্রন্থাবলি বিদেশি ভাষায় অনুবাদে বিশেষ অবদন, বিদেশি ভাষায় রচিত সাহিত্য ও অন্যান্য বিষয়ে রচিত গ্রন্থসমূহের বাংলা ভাষায় অনুবাদে বিশেষ অবদান রাখায় এ পদক দেওয়া হবে।

পদক বিতরণের জন্য ২০১৯ সালে একটি নীতিমালাও করা হয়েছে। আমাই’র পরিচালকের নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের একটি কমিটি পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করেছে।

দেশীয় পদকপ্রাপ্ত মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জাতীয় অধ্যাপক। তিনি দেশের প্রথম নজরুল গবেষক। রফিকুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রথম নজরুল অধ্যাপক ও অত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নজরুল-গবেষণা কেন্দ্রের প্রথম পরিচালক।

এর আগে তিনি স্বাধীনতা পদক, একুশে পদক এবং বাংলা একাডেমি পুরস্কার পেয়েছেন। ২০১৮ সালের ১৯ জুন বাংলাদেশ সরকার তাকে জাতীয় অধ্যাপক হিসেবে ঘোষণা করে। ২০০৩ সালে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮০ বছর’ বই লিখে লেখক হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি পান। রফিকুল ইসলাম ১৯৩৪ সালের ১ জানুয়ারি চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলার কলাকান্দা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে লেখাপড়া করেন। ভাষাতত্ত্বে উচ্চতর প্রশিক্ষণ নেন ও গবেষণা সম্পাদনা করেন আমেরিকার কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়, মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়, মিশিগান-অ্যান আরবর বিশ্ববিদ্যালয় এবং হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইস্ট ওয়েস্ট সেন্টারে।

মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা খাগড়াছড়ির খাগড়াপুর এলাকার জাবারং কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক। তিনি দেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেছেন। আর ইসমাইলভ গুলম মিরজায়েভিচ উজবেকিস্তানের ভাষা নিয়ে গবেষণাসহ দেশটির ভাষা রক্ষায় ব্যাপক অবদান রয়েছে বলে জানা গেছে।


আরপি / এমবি-১



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

Top