মান্দায় তলিয়ে গেছে ৯৫ হেক্টর জমির ফসল, ক্ষতি বাড়ার আশঙ্কা

নওগাঁর মান্দায় গত কয়েক দিনের ভারি বর্ষণ ও উজান নেমে আসা ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে উপজেলার ৯৫ হেক্টর জমির ফসল। উপজেলার আত্রাই ও শিব নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। সেইসাথে নদীগুলোতে বিপদসীমার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। পানি নামতে দেরি হওয়ায় ক্ষতির পরিমান বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা।
জানা গেছে, গত দুই বছর আগে বন্যায় ভেঙ্গে যাওয়া মান্দার শিব নদের টেংরা এলাকায় বেড়িবাঁধ আগের অবস্থায় অরক্ষিত ছিল। যা মেরামত না করায় হটাৎ করে উজানের পানি ঢুকে পড়েছে ফসলি জমিতে। ভেসে গেছে শতাধিক পুকুরের মাছ। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কয়েক হাজার কৃষক।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) আহসান শহীদ সরকার বলেন,‘ জেলায় বন্যার পানিতে ক্ষতি হওয়া ফসলের পরিমান এখোনো নিরুপণ করা হয়নি। মান্দা থানার জোতবাজার ফকিন্নি নদীতে পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে গেছে। এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ৯৫ হেক্টর জমির ফসল নিমজ্জিত রয়েছে। এর মধ্যে ৯৪ হেক্টর জমিতে আমন ধান এবং ১ হেক্টর জমিতে সবজি রয়েছে। টাকায় হিসেব করলে ১০ লাখ টাকার ফসল একবারেই নষ্ট হয়ে গেছে’।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে বন্যার পানি আশঙ্কাজনক হওয়ায় এলাকবাসী উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের শিব নদীর বেড়িবাঁধ টেংরা এলাকায় কেটে দেয়। কাটা অংশ ২ বছর মেরামত না করায় নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে ভাঙ্গা অংশ দিয়ে পানি ঢুকে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ভারি বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে তেঁতুলিয়া ও কালিকাপুর ইউনিয়নের প্রায় ৯৫ হেক্টর জমির ধান ও অন্যান্য রবিশস্য পানিতে প্লাবিত হয়েছে।
কালিকাপুর ইউনিয়ন পরিষদেও চেয়ারম্যান আব্দুল আলিম বলেন,‘ গত বন্যায় ইউনিয়নের প্রায় ৯০ ভাগ মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় ছিল। ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল ফসলের। এবারও নদীর পানিতে আমন ধান তলিয়ে গেছে। কাঁচা রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। প্রতিদিন যেভাবে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে গ্রামবাসী আতঙ্কে রয়েছে।’
তেঁতুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ব্রজেন্দ্রনাথ সাহা বলেন, শিব নদীর ভাঙা অংশ দিয়ে পানি ঢুকেছে। আমার শতাধিক বিঘা পুকুরের মাছ পানিতে ভেসে গেছে। অনেক ক্ষতির মুখে পড়েছি। গ্রামবাসীর অনেক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
ভাঙ্গা অংশটুকু আমি মেরামত করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার লিখিতভাবে আবেদন করেছি। আর আমাদের বড় ধরনের কোনো বরাদ্দও নেই যে তা দিয়ে পরিষদের পক্ষ থেকে মেরামত করব। এ ভেঙে যাওয়া বাঁধটুকু ভালোভাবে মেরামতের জন্য খুব শীঘ্রই উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা এগিয়ে আসবেন বলে আশা করছি।
মান্দা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম জানান, নদীর ভাঙা অংশ দিয়ে পানি ঢুকে তেঁতুলিয়া ও কালিকাপুর ইউনিয়নের ৯৫ হেক্টর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে । তলিয়ে যাওয়া ফসলের মধ্যে আউশ ধান রয়েছে ৯৪ হেক্টর। বাকি এক হেক্টর বিভিন্ন সবজি। এ পানি খুব দ্রুত নেমে না গেলে আমরা যে ক্ষতির পরিমান ধরা হয়েছে তা আরোও বাড়তে পারে।
নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফউজ্জামান খান বলেন, ভাঙ্গা অংশটুকু দ্রুত মেরামত করার জন্য কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানাব। এছাড়া ভাঙ্গা অংশটুকুর জন্য কোন বরাদ্দ নেই। বরাদ্দ পেলে কাজ শুরু হবে। স্থানীয়রা কেটে দেয়ার জন্যই বাঁধের ওই অংশটুকু বারবার ভেঙে যায়। তাই স্থানীয়দের সচেতন হতে হবে আগে।
আরপি / এমবি-১২
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: