রাজশাহী শুক্রবার, ১৪ই জুন ২০২৪, ১লা আষাঢ় ১৪৩১


রাজশাহীতে সময়ের ব্যবধানে বাড়ছে বাজার দর


প্রকাশিত:
২৫ মার্চ ২০২৩ ০৭:৪২

আপডেট:
১৪ জুন ২০২৪ ১৮:১২

ফাইল ছবি

সারাদেশের ন্যায় রাজশাহীতেও কাটছে না নিত্যপণ্যের বাজারের অস্থিরতা। বেশ টালমাটাল নিত্যপণ্যের বাজারে কমছেই না চাল, ডাল, ভোজ্য তেল, মাছ-মাংসের দাম। উল্টো নতুন করে বাড়তে শুরু করেছে কাঁচা সবজির দাম। খাদ্যপণ্যের সংকট না থাকলেও মূল্যবৃদ্ধি রোধ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে খোদ প্রশাসনকেই। বিক্রেতা ও মজুতদারের উদ্ভুত আচরণে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির ক্রেতারা। 

রমজানকে ঘিরে রাজশাহীর বাজারে আগেভাগেই বাড়তে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম। ইতোমধ্যে কয়েক দফায় বেড়েছে সব রকমের নিত্যপণ্যের দাম। মাছ, মাংস ও মুরগির সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে কাঁচা সবজির দামও। একই পণ্য সকাল ও বিকেলে বিক্রির দামেও দেখা যাচ্ছে তুমুল ফারাক। তবে দুর্ভোগের ঘানি টানতে হচ্ছে ভোক্তাশ্রেণিকেই।

রাজশাহী নগরীর কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, তুলনামূলক সব বাজারেই ক্রেতা উপস্থিতি ছিল অনেক বেশি। রোজার আগে থেকেই উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়, মাছ-মাংসের দোকানগুলোতে বেচা-বিক্রি বেশি হওয়ায় দোকানিরাও খুশি। তবে দাম অতিরিক্ত হওয়ায় খুব বেশি লাভ করতে পারছেন না বলে দাবি খুচড়া বিক্রেতাদের।

বাজারের মুরগির দোকান ঘুরে দেখা যায়, কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে বাড়ানো হয়েছে ব্রয়লার মুরগির দাম। বৃহস্পতিবার সকালে ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বিকেলের পর থেকেই ১০ টাকা বাড়ানো হয়েছে ব্রয়লারের দাম। পহেলা রোজায় চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে দাম বাড়িয়ে দেন তারা।

এছাড়াও প্রতি কেজি দেশি মুরগি ৫৫০ টাকা, সোনালী মুরগি ৩২০ টাকা, সাদা লেয়ার ৪০০ টাকা লাল লেয়ার ৪৫০ টাকা, পাতি হাঁস ৪২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আর আগের মতোই গরুর মাংস ৭০০ টাকা ও খাসির মাংস ১১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। তবে প্রতি হালি সাদা ডিম ৪০ টাকা, লাল ডিম ৪৪ টাকা ও হাঁসের ডিম ৬০ টাকায় পাওয়া গেছে।

দাম বৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে মুরগি ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন জানান, রমজানে মুরগির চাহিদা বেশি থাকে। সে অনুযায়ী আমদানী বৃদ্ধি পায় না। আর এবার আগে থেকেই দাম বেশি। তাই আমাদেরও বেশি দামে কিনতে হয়। আমরাও খুব বেশি লাভ না করে কেজিতে ১০ টাকা বেশি রেখে বিক্রি করছি।

এদিকে মাছের বাজার ঘুরে দেখা যায়, কয়েক দিনের ব্যবধানে আবারও প্রতি কেজিতে জাতভেদে ১০ টাকা থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে প্রায় সব রকম মাছের দাম। আকারভেদে প্রতি কেজি রুই ৩০০ টাকা থেকে ৪৫০ টাকা, মৃগেল ৩০০ টাকা, পুটি মাছ ৬০০ টাকা, রুপচাঁদা ১২০০ টাকা, পাঙ্গাস ২৫০ টাকা, সিলভার ২৫০ টাকা, পাবদা ৬০০ টাকা, আইড় মাছ ৮০০ টাকা, কাতলা ৩৫০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা, ইলিশ ৮০০ টাকা থেকে ১৪০০ টাকা, কৈ ৪০০ টাকা, তেলাপিয়া ২৫০ টাকা, চিংড়ি ৮০০ টাকা থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

জানতে চাইলে মাছ বিক্রেতা জাহিদ হোসেন বলেন, রোজার মাসে অন্য মাসের তুলনায় মাছের চাহিদা বেড়ে যায়। কিন্তু সে তুলনায় মাছের আমদানি বাড়েনি। তাই মাছের দামটাও বেড়ে গেছে। উৎপাদন অনেক কমে গেছে। ঈদের আগে আর দাম কমার সম্ভাবনা নেই বলেও জানান তিনি।

এদিকে চালের বাজারে দেখা যায়, নতুন করে দাম বাড়েনি বললেই চলে। বাজারে প্রতি কেজি মিনিকেট ৭৫ টাকা, জিরাশাল ৭০ টাকা, আটাশ ৭০ টাকা, চিনিগুড়া ১৪৫ টাকা, কালোজিরা ১২৫ টাকা, কাটারিভোগ ৯০ টাকা, বাসমতি ৮৫ টাকা, স্বর্ণা ৬০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

এছাড়া সবজির মধ্যেও প্রায় প্রতিটিরই দাম বেড়েছে কেজিতে ১০ টাকা থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত। এমনকি সকালের দামের সঙ্গে মিল থাকছে না বিকেলের দামে। গতকাল (বৃহস্পতিবার) সকালে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া বেগুন একই দোকানে কিনতে হয়েছে ৬০ কিংবা ৭০ টাকায়। এছাড়াও শসা ৮০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, আলু ২০ টাকা, পটল ৭০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা, টমেটো ৩০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৩০ টাকা, লাউ ৪০ টাকা, গাজর ৩০ টাকা, কলা প্রতি হালি ২০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা, সজনা ১২০ টাকা ও লেবু প্রতি হালি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

অপরিবর্তিত রয়েছে পেঁয়াজ ও কাঁচা মরিচের দাম। আগের মতোই প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৪০ টাকা ও কাঁচা মরিচ ১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এছাড়াও জাতভেদে প্রতি কেজি রসুন ৮০ টাকা থেকে ১০০ টাকা ও আদা ১২০ টাকা থেকে ১৩০ টাকায় পাওয়া গেছে। শাকের মধ্যে পুইশাক ৩০ টাকা, লাল শাক ২৫ টাকা ও সবুজ শাক ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

জানতে চাইলে রিক্সাচালক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সব জিনিসের দাম বেশি। প্রতিদিনই দাম বাড়ছে। সব খরচ বাদ দিয়ে যে টাকা থাকে মাছ-মাংস দূরের কথা সবজি কিনতেই পারছি না। বাজার নিয়ন্ত্রণে শ্রমজীবী মানুষের জন্য হলেও সরকারের দৃষ্টি আর্কষণ করেন তিনি।

কলেজ শিক্ষার্থী মাহাবুর রহমান বলেন, সব কিছুর দাম এভাবে বাড়তে থাকলে ছাত্ররা খাবে কি? একটার পর একটা পালা করে বাড়তেই আছে। রোজার মাসেও থামছে না। বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনের সুনজর কামনা করেন তিনি।

 

 

আরপি/এসআর



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

Top