রাজশাহী বৃহঃস্পতিবার, ৩রা এপ্রিল ২০২৫, ২১শে চৈত্র ১৪৩১

ভোলাহাটের জনগুরুত্বপূর্ণ ব্রীজটি মরণ ফাঁদ


প্রকাশিত:
২৯ মে ২০২১ ০৫:৫৪

আপডেট:
৩ এপ্রিল ২০২৫ ১৪:১৫

ছবি: মুন্সিগঞ্জহাটের ভেঙ্গে পড়া ব্রীজ

১২ জুলাই ২০১৭। প্রবল বর্ষণের তোড়ে সম্পন্ন ভেঙ্গে পড়ায় জনগুরুত্বপূর্ণ ব্রীজের উপর দিয়ে বন্ধ হয়েছে হাজার হাজার মানুষের চলাচল। এখন বৃষ্টিতে বিলীন হতে বসেছে উপজেলার মুন্সিগঞ্জহাট ও পোস্ট অফিস ভবন।

ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা, এমপি ও স্থানীয় প্রশাসনসহ ভেঙ্গে যাওয়া ব্রীজটি দ্রুত নির্মাণ করে দেয়ার নানা প্রতিশ্রুতি ছিলো । কিন্তু ৫ বছর হয়ে গেলেও কেউ কথা রাখেনি। ব্রীজটি নির্মাণের মুখ দেখেনি এখনো। বলা যায় ভোলাহাট উপজেলার সকল মানুষ চলাচল করেন এ ব্রীজের উপর দিয়ে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ভোলাহাট উপজেলার মেডিকেলমোড় হতে বজরাটেক মহানন্দা নদী যাওয়া রাস্তা মুন্সিগঞ্জহাটের উপর ভেঙ্গে পড়ে আছে এ ব্রীজ। অল্পদিনে তৈরী করা ব্রীজ ভেঙ্গে পড়ায় দুদকের মুখোমুখি অনুষ্ঠানে স্থানীয়রা অভিযোগ তুলেও কোন লাভ হয়নি।

মুন্সিগঞ্জহাটের পাশের বাসিন্দা বজরাটেক সবজা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুস শুকুর রাজশাহী পোস্টকে জানান, উপজেলায় কোন বিনোদন কেন্দ্র না থাকায় ভোলাহাটের মানুষ এ রাস্তা দিয়ে মহানন্দা নদীর তীরে গিয়ে বিনোদন করে থাকেন। ঈদ কিংবা বিশেষ দিনগুলোতে নারী পুরুষসহ মানুষের উপচে পড়া ভীড় লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু রাস্তার উপর ৫ বছর ধরে ব্রীজটি ভেঙ্গে থাকার কারণে মানুষের বিনোদনের এ সুযোগটিও এখন আর নেই। প্রবল বর্ষণে ব্রীজটি সম্পূর্ণ ভেঙ্গে গেছে।

এবার ঐতিহ্যবহন করা অনেক পুরাতন সরকারী মুন্সিগঞ্জ হাটটিও বিলীন হতে বসেছে। এ রাস্তায় হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। বিভিন্ন প্রকার যানবাহন চলাচল করে অনেকেই জীবন জীবিকা চালাতেন। কিন্তু এখন সেটাও বন্ধ হয়ে গেছে। অপরিচিতরা রাতের আঁধারে রাস্তা চলতে গিয়ে মোটরসাইকেল ও বেশ কিছু যানবাহনসহ দূর্ঘটনার শিকার হয়েছেন ব্রীজের খাদে পড়ে ।

হাটের ক্ষুদে মুদি দোকানী রইশুদ্দিন জানান, সামান্য বৃষ্টিতে তারসহ বেশ কিছু দোকানের পিছন থেকে মাটি ধসে যাওয়ায় ২/৩ হাজার টাকা খরচ করে কোন রকম রক্ষা হয়েছে। দোকান বন্ধ হয়েছে গেলে পরিবারের সদস্যদের চরম দূর্ভোগে পড়বে। আমার মত আরো দোকানী রয়েছে। তাদের অবস্থাও আমার মত। সপ্তাহে দুবার হাট বসে। যে ভাবে মাটি ধসে যাচ্ছে তাতে হাটটি বিলিন হয়ে যাবে।

হাটের মুদি দোকানী মোঃ আব্দুল লতিফ, মোঃ জনি, মোঃ মতিউর রহমানসহ অন্যরা জানান, জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তার উপর ভেঙ্গে থাকা ব্রীজটি সরজমিন দেখতে গিয়ে সাবেক এমপি মোঃ গোলাম মোস্তফা বিশ্বাস দ্রুত র্নিমাণের প্রতিশ্রুতি দেন। বর্তমান এমপি আলহাজ্ব মোঃ আমিনুল ইসলাম, উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ রাব্বুল হোসেন, গোহালবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল কাদের এমন কি দুদক থেকে আসা ভোলাহাটে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও ব্রীজটি নির্মাণে গুরুত্ব দেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এদিকে ভূতের রাস্তায় যেখানে মানুষের যাতায়াত নাই সেসব স্থানে কোটি কোটি টাকার ব্রীজ নির্মাণ করা হয়েছে। চলছে দপ্তর নিয়ে টানাটানি। একবার প্রকল্প বাস্তবায়ন অধিদপ্তর ও এলজিইডি দপ্তরের মধ্যে। টানাটানির কারণে ব্রীজের র্নিমাণে চলছে দীর্ঘসূত্রতা।

মুন্সিগঞ্জহাটের পোষ্ট মাষ্টার মোঃ আব্দুল মতিন বলেন, ভাঙ্গা ব্রীজের কারণে মাটির ধসে পোষ্ট অফিস ভবন পর্যন্ত চলে এসেছে। ব্রীজ নিমার্ণ করা না হলে ভবনটি বিলিন হওয়ার আশংকা রয়েছে। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে আমার উর্ধতন কতৃপক্ষকে চিঠি লিখে অবহিত করেছি।

সংশ্লিষ্ট গোহালবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল কাদের জানান, এটি আমার আওতার বাইরে। তারপরও মাটি ধসে গেলে অনেক টাকা ব্যয় করে হাট বাঁচানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৗশলী মোঃ সাজেদুল ইসলাম জানান, ব্রীজটির ঠিকাদার নিয়োগের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে। ঠিকাদার নিয়োগ হলেই কাজ শুরু হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মেহেদী ইসলাম বলেন, ব্রীজটির কাজ দ্রুতগতি এগিয়ে চলেছে। আরো দ্রুত গতিশীল করতে পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে জানান।

উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ রাব্বুল হোসেন বলেন, আমার জানা মতে দ্রুত কাজ এগিয়ে চলেছে। দ্রুত কাজ এগিয়ে নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সাথে কথা বলবেন বলে নিশ্চিত করেন।

স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোঃ আমিনুল ইসলাম বলেন, ব্রীজটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করেছি। জনগণের ভোগান্তি হলেও অনেক টাকা ব্যয়ে ভালো মানের ব্রীজ নিমার্ণ হবে। ক’য়েক মাসের মধ্যে ব্রীজের নিমার্ণ কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন।

তবে এলাকাবাসির দাবী উপজেলার বিশাল জনগোষ্ঠিকে এ মরণ ফাঁদ থেকে মুক্তি দিতে দ্রুত ব্রীজটি নির্মাণ করার। এলাকাবাসী আর প্রতিশ্রুতি বিশ্বাস করেন না বাস্তবায়ন চান। তারা সরকারের নাগরিক হিসেবে নাগরিক সুবিধা দিতে সরকারের উর্ধতণ কর্তৃপক্ষের কাছে জনগুরুত্বপূর্ণ ব্রীজটি নির্মাণে জোরালো দাবী করেছেন।

 

 

আরপি/এসআর-২২



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

Top