রাজশাহী বুধবার, ১লা ডিসেম্বর ২০২১, ১৭ই অগ্রহায়ণ ১৪২৮


সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ওপর হামলার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন


প্রকাশিত:
১৮ অক্টোবর ২০২১ ১২:৩০

আপডেট:
১৮ অক্টোবর ২০২১ ১২:৩৬

ছবি: মানববন্ধন

দেশের বিভিন্ন জায়গায় সনাতন ধর্মালম্বীদের বাড়ীঘর, মন্দির, পুজা মণ্ডপে হামলা, অগ্নিসংযোগ, নির্যাতন ও হত্যার প্রতিবাদ এবং বিচারের দাবি জানিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। সোমবার (১৮ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে ‘সনাতনী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর’ ব্যানারে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে এ দাবি জানানো হয়েছে।

মানববন্ধনে সনাতন বিদ্যার্থী সংসদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিমন সাহা বলেন, আমাদের এই দেশে বঙ্গবন্ধু ধর্মনিরপেক্ষতার চারাবৃক্ষ রোপণ করেছিলেন। যেটা এখন আর খুঁজে পাওয়া যায় না। আমাদের প্রত্যেকটি নাগরিকের একটা মৌলিক অধিকার রয়েছে সেটা হলো নিরাপত্তা। সেই নিরাপত্তার জায়গাটা হারিয়ে গেছে। আমরা হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান যেই হই না কেন সবার আগে আমাদের বড় পরিচয় আমরা বাঙালি। আমরা সনাতনি ধর্মাবলম্বী যারা আছি তারা ৪৭-এর দেশ ভাগের সময় যাই নি, মুক্তিযুদ্ধের সময় যাই নি তার অর্থ এই যে আমরা এই দেশেই থাকতে চাই। এই দেশকেই আমরা ভালোবাসি। অথচ এই দেশকে ভালোবেসে আজ আমর ঘর পোড়ানো হচ্ছে, মন্দির ভাঙ্গা হচ্ছে। তাহলে কি আমাদের মৌলিক অধিকার ক্ষুন্ন হচ্ছে না?

অর্থনীতি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী কঙ্গনা সরকার মিল্টি বলেন, এই দেশে আমাদের অসাম্প্রদায়িকভাবে, ধর্মনিরপেক্ষভাবে বাঁচার কথা ছিল। কিন্তু এখন কি হচ্ছে দেশে? গতরাতে রংপুরে যে ৩৫টি বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে এটা দেখে মনে হচ্ছে যে বাবাতো বাড়িতে একা থাকে ভয় হচ্ছে আমার বাবাকে আমি জীবিত পাবো কি না। মানুষ পুুড়িয়ে মারা কি কোনো ধর্ম হতে পারে? এটাতো কোনো ধর্মেরই উদ্দেশ্য নয়। যারা ধর্মের নামে এই ধরণের কাজ করছেন, অন্য ধর্মকে সম্মান করছে না তারা আসলে নিজের ধর্মকেই মনের মধ্যে লালন করতে পারেনি। তাই আগে নিজের ধর্মকে ভালোবাসুন।

মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক অমিত কুমার দত্ত বলেন, দেশের সনাতনী ধর্মাবলম্বী জাতির কোন অনুভূতি নেই। আমাদের মন্দির ভাঙ্গলে, বাড়ীতে আগুন দিলে ও হত্যা করলেও কোন অনুভূতি হয় না। সামান্য কোন ঘটনা নিয়ে আমাদের উপর নানাভাবে অত্যাচার করা হয়। প্রতি বছর কয়েক শত মন্দিরও ভাঙ্গা হয়। কিন্তু সেসবের আমরা কোন প্রতিকার পাই না। প্রতিকার ও বিচার না হওয়া হলো নতুনভাবে হামলার পরিকল্পনাকে উস্কে দেওয়া। কুমিল্লায় কোরআন শরীফ অবমাননার কোন বিচার না হয়ে সারা দেশে আমাদের উপর হামলা চলছে। এদেশে এক সময় আমরা ২২ শতাংশের জনগোষ্ঠী ছিলাম এখন সেটি ৬ শতাংশে নেমে এসেছে। এভাবে চলতে থাকলে দেশ এক সময় আফগানিস্তানের মত হয়ে যাবে। যেটা আমরা চাইনা। আমরা কোন দায়, করুণা চাইনা। আমরা এই রাষ্ট্রের নাগরিক অধিকার নিয়ে বাঁচতে চাই।

দর্শন বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মানিক রায় অভির সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য দেন শারীরিক শিক্ষা বিভাগের সভাপতি কমল কৃষ্ণ বিশ্বাস, চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থী মনু মোহন বাপ্পা, সনাতন বিদ্যার্থী সংসদের সাবেক সভাপতি চন্দন দে, আইন বিভাগের শিক্ষার্থী হৃদয় ঘোষ, পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী জয় চন্দ্র রায় প্রমুখ। মানববন্ধন শেষে তারা একটি মৌন মিছিল বের করে। মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে একই দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ ও বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর ব্যনারে বাম সংগঠনগুলো মানববন্ধন করেছে।

 

 

আরপি/এসআর-০৬



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

Top