রাজশাহী সোমবার, ২৩শে নভেম্বর ২০২০, ১০ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭


প্রথম মসজিদ চালু হল এথেন্সে


প্রকাশিত:
১৪ নভেম্বর ২০২০ ১০:৫০

আপডেট:
১৪ নভেম্বর ২০২০ ১০:৫০

ছবি: সংগৃহীত

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে গ্রিসের রাজধানী এথেন্সে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম মসজিদের উদ্বোধন করা হয়েছে। শুক্রবার জুমার নামাজের মধ্য দিয়ে মসজিদের কার্যক্রম শুরু হয়।


তবে সেকেন্ড ওয়েভে ইউরোপের অন্যান্য দেশের মতো গ্রিসেও করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় নিরাপদ সামাজিক দূরত্ব ও কঠোর স্বাস্থ্যবিধির মধ্য দিয়ে আপাতত স্বল্পসংখ্যক মুসল্লির উপস্থিতিতে এ মসজিদের কার্যক্রম শুরু করা হয়।

গ্রিসে বসবাসরত ইসলাম ধর্মাবলম্বী মানুষের একটা বড় অংশ তুর্কি ও আলবেনিয়ান বংশোদ্ভূত। এছাড়াও বেশ কিছুসংখ্যক গ্রিকভাষী মানুষ রয়েছেন যারা জন্মগতভাবে মুসলিম। গ্রিসের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত থ্রেস দেশটির সর্ববৃহৎ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল এবং গোটা ইউরোপের মধ্যে থ্রেসই একমাত্র অঞ্চল যেখানে শরীয়াহ আইন চালু রয়েছে।

মূলত তুরস্কের অটোমান সাম্রাজ্যের হাত ধরে গ্রিসে ইসলামের বিস্তৃতি ঘটে। ১৮২১ সালে এথেন্সসহ বর্তমান গ্রিসের বেশ কিছু অঞ্চল অটোমান শাসন থেকে নিজেদের মুক্ত করার জন্য স্বাধীনতার আন্দোলনের ডাক দেয়। অবশেষে ১৮২২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় প্রথম হেলেনিক প্রজাতন্ত্র; যার রাজধানী হিসেবে নির্বাচিত করা হয় এথেন্সকে। ১৮৩৩ সাল থেকে তদান্তীন হেলেনিক প্রজাতন্ত্রের সরকারের অর্থায়নে এথেন্সে একটি মসজিদ নির্মাণের প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন এ অঞ্চলে বসবাস করা মুসলিম ধর্মাবলম্বী মানুষেরা। এমনকি ১৮৯০ সালে সরকারিভাবে এথেন্সে মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল। তবে বিভিন্ন সময়ে দেশটির অতি ডানপন্থী ও রক্ষণশীল রাজনৈতিক জোটগুলোর তীব্র বিরোধিতা, বিভিন্ন ধরনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, অর্থোডক্স চার্চগুলোর বাধা এবং আর্থিক অনটনের মাঝে সুদীর্ঘকাল সেখানে মসজিদ নির্মাণের বিষয়টি আলোর মুখ দেখেনি।

গ্রিসের সঙ্গে তুরস্কের রাজনৈতিক বৈরিতা দীর্ঘদিনের। এ কারণে গ্রিসের অনেক সাধারণ মানুষও এতদিন পর্যন্ত এথেন্সে মসজিদ নির্মাণের বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিল। তাদের অনেকের মতে গ্রিসে নতুন করে কোনো মসজিদ নির্মাণ করার অর্থ পুনরায় দেশটিতে অটোমান সাম্রাজ্যের ইতিহাসের পুনর্জাগরণ ঘটানো। উল্লেখ্য, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের দেশগুলোর মাঝে এতদিন পর্যন্ত এথেন্স ছিল একমাত্র রাজধানী শহর যেখানে সরকারিভাবে কোনো মসজিদ ছিল না।

গ্রিক সরকারের অর্থায়নে নির্মিত এ মসজিদটি তৈরি করতে আনুমানিক ৮,৮৭,০০০ ইউরো খরচ হয়েছে। ২০১৬ সালে চূড়ান্তভাবে এ মসজিদের নির্মাণকাজ শুরু করা হয় এবং ২০১৭ সালে এর নির্মাণকাজ শেষ হয়। গ্রিসের শিক্ষা ও ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কোস্তাস গাভ্রোগলু গত সপ্তাহে এক রেডিও সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন এ মসজিদে একসঙ্গে ৩৫০ জন মানুষ নামাজ আদায় করতে পারবেন। প্রাথমিকভাবে এ মসজিদের নাম রাখা হয়েছে ভোতানিকোস মসজিদ।

এথেন্সের হার্টখ্যাত সিনতাগমা স্কয়ার থেকে প্রায় চার কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে নৌবাহিনীর একটি পরিত্যক্ত ঘাঁটির ওপর নির্মাণ করা হয়েছে এ মসজিদ। তবে গতানুগতিক মসজিদগুলো থেকে কিছুটা ভিন্ন হওয়ায় বিশেষত কোনো ধরনের মিনার বা গম্বুজ না থাকায় অসন্তোষ জানিয়েছেন দেশটিতে বসবাসরত মুসলিম জনগোষ্ঠীর অনেকে।

 

আরপি/এসকে




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

Top