রাজশাহী সোমবার, ২০শে মে ২০২৪, ৬ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

‘মে দিবস’ আমাদের কোনো সুযোগ-সুবিধা নেই


প্রকাশিত:
১ মে ২০২৪ ১২:২৪

আপডেট:
২০ মে ২০২৪ ০৫:১৭

রাজশাহী পোস্ট

মে দিবস আমাদের কোনো সুযোগ-সুবিধা কিছু চালু করেনি। আমরা খাটলেই পয়সা পাই, না খাটলে নাই। আমরা যা পাই আমাদের সর্দারও তাই পান, আমাদের কোনো সুবিধা নাই। আমরা যে মে দিবসে শান্তি মতো বেড়াব বা আনন্দ করব, সেই সুযোগ নাই। আমরা খাটি কারণ আমাদের সংসার আছে। রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে মে দিবস প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রাজশাহী পোষ্টকে কথাগুলো বলছিলেন মজিবুর রহমান।

টানা ১০ বছর ধরে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে কুলি হিসেবে কাজ করছেন তিনি। তার বাবাও মৃত্যুর আগ পর্যন্ত স্টেশনে একই পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। রাজশাহী নগরীর বিনোদপুর ডাশমারি এলাকার বাসিন্দা মজিবুর রহমান। দিনভর অন্যের জিনিস বহন করে যা আয় হয় তাই দিয়েই চলে সংসার। দুই সন্তান ও স্ত্রীসহ তার সংসার।

মজিবুর রহমান বলেন, আমি রেলস্টেশনে ১০ বছর ধরে কুলির কাজ করছি। আমাদের সুবিধা হলো- মাল নামাই, সরকারের যেটা রেট, সেই অনুযায়ী মজুরি পাই। আমাদের সর্দার আছে, আমরা কাজ করে টাকা দেই, উনি সবার মাঝে ভাগ করে দেন। উনি (সর্দার) যা পান সবাই তাই পায়।

তিনি আরও বলেন, এক সকালে এসে আরেক সকাল পর্যন্ত কাজ করি, ২৪ ঘণ্টার কাজ করে এক হাজার/৮০০/১২০০/৭০০ টাকার মতো আয় হয়। এখন এই দিয়েই চলতে হয়, ছেলেপুলেদের নিয়ে খেয়ে থাকতে হয়। আমরা তো দুই নম্বরি করি না, কাজ করি, খাই।

মে দিবসে প্রত্যাশার প্রশ্নে তিনি বলেন, আমরা কি চাই? ভালোমন্দ খাইতে চাই, ছেলেপেলে নিয়ে ঘুরতে চাই, আনন্দ করতে চাই। কিন্তু আমরা সুবিধা পাই না। আমাদের জন্য কোনো সুবিধা-টুবিধা নাই। আমরা এভাবেই চলি, এভাবেই খেটে খাই।

মে দিবসের পোস্টার-টোস্টার সাঁটছে, কিন্তু কোনো সুবিধা নাই। কাজ শেষ করে যাবো সকাল ৮টায়, ঘুমাবো, গোসল করে একটু না হয় বেড়াবো, সময় কাটালাম, তারপর আবার সকাল বেলায় কাজে আসলাম। একদিন পর পর ডিউটি, এই সিরিয়ালেই চলে বলেও উল্লেখ করেন এই শ্রমজীবী।

 

 


আরপি/আআ


বিষয়: মে দিবস


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

Top