রাজশাহী বৃহঃস্পতিবার, ৩রা এপ্রিল ২০২৫, ২১শে চৈত্র ১৪৩১

রামেক হাসপাতালের জরুরী বিভাগের সামনে মাইক্রোস্ট্যান্ড!


প্রকাশিত:
৪ ডিসেম্বর ২০১৯ ২০:৪৯

আপডেট:
৩ এপ্রিল ২০২৫ ১১:৪২

রামেকের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মাইক্রোবাস

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল রাজশাহী বিভাগের রোগিদের একমাত্র ভরসা । প্রতিদিন হাজার হাজার রোগি ও সাথে আসা মানুষের ভিড়ে পরিপূর্ণ হয় হাসপাতাল। পূর্বের চেয়ে বর্তমানে সরকারী এ হাসপাতালের চিকিৎসার মানে সন্তুষ্ট রোগি ও স্বজনরা।

কিন্তু হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনের ফাঁকা জায়গায় গড়ে উঠেছে ব্যক্তি মালিকানাধীন মাইক্রোবাস। এতে বিভিন্ন সময় মাইক্রোবাসের চালকদের কাছ থেকে লাঞ্ছনার শিকার হচ্ছেন রোগি ও স্বজনরা। এছাড়াও নিয়মিত এই জায়গাতে গাড়ি রাখায় আশপাশের পরিবেশও নষ্ট হচ্ছে। শুধু পরিবেশই নয় নিয়মিত গাড়ি রাখায় এখানে সৃষ্টি হচ্ছে যানজটের। মাইক্রোবাসই নয়, সুযোগ নিচ্ছেন অটোরিক্সা ওয়ালারাও। স্ট্যান্ড হিসেবে তারাও এক সাথে ১০/১২ জন অটো নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকছেন মেডিকেল জরুরি বিভাগের সামনে।

দাঁড়িয়ে থাকা অটোর সারি

মেইন রাস্তা থেকে ইমার্জেন্সি গেইট পর্যন্ত মাইক্রোবাসের যানজটে ঢাকা পড়ে যাওয়ায় দেখে বুঝার উপায় নেই যে এটা মেডিকেল না মাইক্রোস্ট্যান্ড। এদিকে মেডিকেলের সামনে মাইক্রোস্ট্যান্ড থাকার কারণে রোগি ও স্বজনরা চালকদের কাছ থেকেও বিভিন্নভাবে লাঞ্ছিতের ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত। রোগি ও স্বজনদের দুর্ভোগ কমানোর জন্য রামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছেন বলে জানান মেডিকেল কর্তৃপক্ষ।

 

জানা যায়, রামেক হাসপাতালে মারা যাওয়া এক রোগির আত্মীয় জানান, রাজশাহীর তানোরে আমাদের বাড়ি। শহর থেকে বাড়ি ২৫ কিমির মত হতে পারে। তার পরেও লাশ নিয়ে যেতে চারগুণ বেশি ভাড়া চাওয়া হয়েছে। অন্য গাড়িতে যেতে চাইলে তারা টাকা চায়। বাধ্য হয়ে তাদের দাবি অনুযায়ী ভাড়া দিয়েই লাশ নিয়ে যেতে বাধ্য হয়।

 

ৃঅভিযোগ রয়েছে, রোগিদের সঙ্গে গাড়ির চালকদের এসব ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটলেও পুলিশ কোন সাহায্য করেন না। তারাও অসহায় এসব গাড়ির চালকদের কাছে। অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালের অভ্যন্তরে থাকা গাড়ির চালকরা বিভিন্নভাবে দালালি কর্মকান্ডের সাথেও যুক্ত। তারা হাসপাতালে আসা বিভিন্ন রোগিদের ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারেও নিয়ে যাচ্ছেন। ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকেও আদায় করা হয় কমিশন।


এদিক, শুধু রোগিও স্বজনদের লাঞ্ছিতই নয়, মেডিকেলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মাইক্রোবাস চালকদের দালাল সিন্ডিকেট হাসপাতালের ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে বিচরণ করে। কখন কোন রোগি মারা গেলে সেই খবর রাখেন। রোগি মারা গেলেই লাশ পরিবহণের জন্য ৫-৬ গুণ বেশি ভাড়া আদায় করা হয়। রোগি মারা যাবার সাথে সাথেই ওয়ার্ড থেকে লাশ নিয়ে চলে যাওয়ার জন্য বারবার তাগিদ দিতে থাকে রোগির স্বজনদের। কিন্তু ট্রলিম্যানরা আগে গাড়ি ঠিক করে আনতে বলেন। তা না হলে লাশ ট্রলির ওপর রাখা হয়! এ সময় রোগির স্বজনেরা নিরুপায় হয়ে তাড়াহুড়ো করে সিন্ডিকেটের চাপিয়ে দেয়া ভাড়ায় নিয়ে যেতে বাধ্য হয়।

এদিকে মেডিকেলের ভেতরে মাইক্রোস্ট্যান্ড ব্যবহার করছেন কোন অনুমোদন আছে কিনা এমন প্রশ্নে কয়েক জন চালক জানান, মেডিকেলের অনুমতি নিয়ে তারা এখানে মাইক্রো রাখছেন। তাদের মাইক্রোস্ট্যান্ড সমিতি রয়েছে, নিয়মিত তারা চাঁদা দিয়ে এখানে গাড়ি রাখেন।


এ বিষয়ে মাইক্রোস্ট্যান্ড সমিটির সভাপতি সাইফুল ইসলাম জানান, মেডিকেলের ভেতরে আমাদের সমিতির কোনো গাড়ি থাকে না। এছাড়াও মেডিকেলের ভেতরে অনেক গাড়ি থাকে, তারা মূলত লাশ বহন করে। তারা আমাদের সমিতির আওতাভুক্ত নয়। তিনি আরো বলেন, মেডিকেলে আমাদের কোন গাড়ি থাকে না। তবে মাঝে মাঝে ভাড়া হলে গাড়ি নিয়ে যায়, ভাড়া নিয়ে আবার চলে আসি। হাসপাতালে কাদের গাড়ি থাকে এ বিষয়ে মেডিকেল কর্তৃপক্ষ ভাল বলতে পারবে।

এ বিষয়ে হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌসের সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমরা প্রতিনিয়ত চেষ্টা করছি মাইক্রোস্ট্যান্ড তুলে দেয়ার জন্য। কিন্তু বারবার চেষ্টা করেও সফল হতে পারিনি। আমরা যখন অভিযান চালাই তখন চলে যায়, আবার ১ ঘন্টার মধ্যে এসে ভিড় জমায়। এটা পুলিশ প্রশাসন ছাড়া নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। তিনি আরো বলেন, এসব কারণে আমরা নতুন একটা উদ্যোগ গ্রহন করছি। আগামী ১০ ডিসেম্বর থেকে একটা গাড়ি ইমার্জেন্সি গেইট দিয়ে প্রবেশ করে আরেক গেইট দিয়ে বের হবে।

রামেক হাসপাতালে গাড়ি চালকদের এমন অরাজকতার বিষয়ে মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার গোলাম রুহুল কুদুসের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমাদের জানা ছিল না। তবে মেডিকেলের ভিতরে মাইক্রোস্ট্যান্ড এটা খুবই দু:খ জন। আমরা খুব শীঘ্রই ব্যবস্থা গ্রহন করব বলে জানান তিনি।

 

 

আরপি/ এমএইচ



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

Top