রাজশাহী মঙ্গলবার, ২৮শে মার্চ ২০২৩, ১৪ই চৈত্র ১৪২৯

জীবন সংগ্রামে একসঙ্গে লড়ছেন দুইবোন


প্রকাশিত:
৯ মার্চ ২০২৩ ০৪:৫৩

আপডেট:
২৮ মার্চ ২০২৩ ০১:২২

ছবি: রাজশাহী পোস্ট

নাটোরের লালপুরের আজিমনগর রেলওয়ে স্টেশনে চা বিক্রি করেন মুন্নি আক্তার (৩৮) ও শাহিদা আক্তার (৩৬)। সম্পর্কে দুই খালাতো বোন তারা। একজনের বছর পাঁচেক আগে স্বামী হারিয়েছেন অন্যজন স্বামী পরিত্যক্ত। জীবন সংগ্রামে একসঙ্গে লড়ছেন এই দুইবোন।

বৃদ্ধ মাসহ পরিবারের ৭ সদস্য নিয়ে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটছিল তাদের। সারাক্ষণ ভাবতেন নিজে কিছু একটা করবেন। কিন্তু অর্থের অভাবে পেরে উঠছিলেন না। পরে একটি বেসরকারি এনজিও থেকে ১০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে কেনেন সেলাই মেশিন। সেখান থেকেই ঘুরে দাঁড়ানো শুরু। সেলাই মেশিন থেকে অল্প অল্প করে আয়ের টাকা জমিয়ে আজিমনগর রেলওয়ে স্টেশনে আশ্রয় নিয়ে নানা প্রতিবন্ধকতা ঠেলে একসাথে চা বিক্রি শুরু করেন। এভাবেই তাঁদের সংসারে ফিরতে শুরু করে সচ্ছলতা।

এ বিষয়ে মুন্নি আক্তার জানান, মেয়ে হওয়ার ৩ বছর পরই স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। তখন বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন। দুই বোন আর এক ভাইয়ের মধ্যে তিনি বড়। এক মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় বাবা আর ভাই একসাথে মারা যান, আর দূর্ঘটনায় আহত মা সুস্থ হয়ে ফেরি নি এখনো। ছোট্ট মেয়ে আর অসুস্থ মাকে নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন তিনি। পরে তার বিধবা খালাতো বোন শাহিদাকে নিয়ে ছয় বছরে আগে আজিমনগর রেলওয়ে স্টেশনে আশ্রয় নিয়ে গড়ে তুলেন চা স্টল। এখান থেকে ঘুরে দাঁড়ান তিনি।

আর শাহিদা আক্তার বলেন, ২০০৮ সালে স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ির পর ফিরে আসেন বাবার বাড়ি। তার কিছুদিন পরই স্বামী হারান তিনি। আর তার ভাইয়ের ছেলে ৩ মাস বয়সে মাকে হারান এবং তার স্বামী হারা বিধবা বোনের এক ছেলেসহ ২ সন্তানকে পালক নিয়ে শুরু হয় তার বেঁচে থাকার সংগ্রাম। বৃদ্ধ মাসহ সংসারের বোঝা তাঁর কাঁধে এসে পড়ে। একটা সময় অর্থ সংকটে সংসারটা কোনোভাবেই চলছিল না। তারপর এক বেসরকারি এনজিও থেকে ১০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে সেলাই মেশিন কেনন। সেলাইয়ের কাজ করে কোনমতে সংসার চালাচ্ছিলেন। পরে খালাতো বোন মুন্নির পরামর্শে যৌথভাবে ব্যবসা শুরু করেন।

তারা দুইজনই জানান, এই দোকান থেকে তাদের প্রতিদিন আয় ৫০০-৬০০ টাকা। এটাকা ভাগাভাগি করে সংসার চালান তারা। এ আয় থেকে ছেলের স্কুলের খরচ সহ মেটান আনুষঙ্গিক সব খরচ। সব মিলিয়ে জীবন সংগ্রামে বেঁচে থাকার লড়াইয়ে ভালো আছেন। তবে চিনিসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির ফলে বিপাকে পড়েছেন তারা।

এ বিষয়ে গোপালপুর পৌরসভার মেয়র রোকসানা মোর্ত্তজা লিলি বলেন, নানা প্রতিবন্ধকতা ঠেলে নিজ পরিচয়ে প্রতিষ্ঠিত হতে হয় নারীদের। তেমনে মুন্নি শাহিদা দুই বোন সংগ্রাম করে তাদের সংসারে সচ্ছলতা ফিরিয়েছে। তাদের ব্যবসা বৃদ্ধি করতে প্রয়োজন হলে পৌরসভা থেকে সহযোগিতা প্রদান করা হবে।

লালপুর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শাহিনা সুলাতানা বলেন, এখান থেকে নারীরা প্রশিক্ষণ নিয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। চাইলে মুন্নি ও শাহিদাও আমাদের দপ্তর থেকে প্রশিক্ষণ নিতে পারবে। এছাড়া তারা চাইলে তাদের ব্যবসা বৃদ্ধি করতে ক্ষ্দ্রু ঋণের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।

লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা সুলতানা বলেন, মুন্নি-শাহিদার মত আমাদের সমাজে অনেক নারী আছে যারা প্রতিবন্ধকতাকে প্রতিহত করে নিজেরা সফল হোন। এক্ষেত্রে তারা ব্যবসা আরো প্রসারিত করতে চাইলে তাদের ক্ষুদ্র ঋণের আওয়াতায় নিয়ে আসা হবে। এছাড়া জীবনমান উন্নয়নে কোন নারী চেষ্ঠা করলে তাকে সহযোগিতা করতে উপজেলা প্রশাসন সদা প্রস্তুত রয়েছে।

 

আরপি/এসআর-১৫



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

Top