রাজশাহী শনিবার, ২৮শে মে ২০২২, ১৫ই জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

স্বস্তি ফিরেছে কাঁচাবাজারে


প্রকাশিত:
২২ এপ্রিল ২০২২ ০২:৪৭

আপডেট:
২৮ মে ২০২২ ০৭:২২

ফাইল ছবি

রমজানের শুরুতে উর্ধ্বগতি থাকলেও দুই সপ্তাহের ব্যবধানে দাম কমেছে বেশির ভাগ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের। বিশেষ করে কাঁচা সবজি ও মাছ-মাংসের দাম কমেছে প্রতি কেজিতে ৩০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত। চাল-ডালের দাম অপরিবর্তিত থাকলেও ক্রেতাদের মনে ফিরেছে স্বস্তি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ায় ক্রেতা চাহিদা না থাকায় দাম কমেছে বলে জানান বিক্রেতারা।

বৃহস্পতিবার (২১ এপ্রিল) সকালে রাজশাহী নগরীর কাঁচা বাজারগুলো ঘুরে দেখা যায়, কয়েক দিন আগেও লোক সমাগমে পূর্ণ থাকা সবজি বাজার এখন অনেকটায় ফাঁকা। খাদ্যপণ্যের সংকট না থাকায় স্বস্তির ঢেকুর তুলছে নিম্ন আয়ের ক্রেতারা। ক্রেতা চাপ না থাকলেও দাম কমায় অখুশী নয় বিক্রেতারা।

বাজারে সবজির মধ্যে প্রায় সব রকমের পণ্যের দামই কমেছে কয়েক দিনের ব্যবধানে। দুই সপ্তাহ আগেও বাজারে উত্তাপ ছড়ানো বেগুন কেজিতে ২০ থেকে ৪০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। শসা কেজিতে ৫০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকায়।

এছাড়াও প্রতি কেজি আলু ১৫ টাকা, করলা ৮০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৪০ টাকা, টমেটো ২০ টাকা, লাউ ৪০ টাকা, গাজর ২৫ টাকা, সজনা ৫০ টাকা ও লেবু প্রতি হালি ২০ থেকে ৩০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

জানতে চাইলে সবজি বিক্রেতা শাহিন আলম বলেন, শিক্ষার্থী নির্ভর নগরীতে কলেজ বন্ধ হওয়ার কারণে সবজির দাম কমা শুরু হয়েছে। সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকলেও সে অনুপাতে ক্রেতা নেই। তবে গৃহস্থের আলু শেষ পর্যায়ে হওয়ায় ঈদের আগে আলুর দাম বাড়তে পারে বলেও জানান তিনি।

অপরিবর্তিত রয়েছে বেশ কিছু সবজির দাম। এদের মধ্যে প্রতি কেজি বরবটি ৮০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৩০ টাকা, কলা প্রতি হালি ২০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা দরে পাওয়া গেছে। কয়েক দিনের ব্যবধানে কমেছে পেঁয়াজ ও কাঁচা মরিচের দামও। বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ২০ থেকে ২৫ টাকা দরে। আর কাঁচা মরিচের দাম কমে নেমেছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়।

এছাড়াও প্রতি কেজি রসুন ৮০ টাকা ও আদা ১০০ টাকায় পাওয়া গেছে। শাকের মধ্যে পুইশাক ২৫ টাকা, লাল শাক ৩০ টাকা, পালং শাক ২৫ টাকা ও সবুজ শাক ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

সবজির পাশাপাশি কমেছে মাছের দামও। বাজারে প্রতি কেজি ইলিশ জাতভেদে বিক্রি হচ্ছে ১৪০০ টাকার মধ্যেই। আর ছোট জাতের ইলিশ মিলছে ৫০০ টাকায়। এছাড়াও আকারভেদে রুই ২২০ টাকা থেকে ৩৬০ টাকা, পাবদা ৪৮০ টাকা, বোয়াল ৯০০ টাকা, বাটা মাছ ২০০ টাকা, সিলভার ১৮০ টাকা, বিদেশি কৈ ৩০০ টাকা, মৃগেল ১৮০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা, তেলাপিয়া ১৬০ টাকা, চিংড়ি ৭০০ টাকা, আড় মাছ ৭৫০ টাকা, কাতলা ৩৫০ টাকা, পুটিমাছ ৬০০ টাকা, পাঙ্গাশ ১৬০ টাকা ও রুপচাঁদা ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

দাম হ্রাসের বিষয়ে জানতে চাইলে মাছ ব্যবসায়ী জমশেদ আলী জানান, প্রায় সব রকমের মাছের দামই কমেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার কারণে চাহিদা কমেছে। সে কারণেই দাম কমেছে। ঈদের আগে আর দাম বাড়ার আভাস নেই বলেও জানান তিনি।

এছাড়াও মুরগির বাজার ঘুরে দেখা যায়, সপ্তাহ দুয়েক না যেতেই সব ধরণের মুরগির দাম কমেছে কেজিতে ১০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত। কেজিতে ২০ টাকা কমে দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৪৬০ টাকা কেজি দরে। এছাড়াও ব্রয়লার মুরগি ১৪৫ টাকা, সোনালী মুরগি ২৫০ টাকা, সাদা লেয়ার মুরগি ২০০ টাকা, লাল লেয়ার ২৪০ টাকা, পাতিহাঁস ৩২০ টাকা, রাজহাঁস ৪৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

দাম হ্রাসে পিছিয়ে নেই গরু ও খাসির মাংসও। কয়েকদিনের ব্যবধানে দাম কমে প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৬০০ টাকা থেকে ৬৫০ টাকা কেজি দরে। আর প্রতি কেজি খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকা থেকে ৮৫০ টাকায়। তবে অপরিবর্তিত রয়েছে ডিমের দাম। প্রতি হালি হাঁসের ডিম ৪৫ টাকা, দেশি মুরগির ডিম ৫৫ টাকা, পোল্ট্রির সাদা ডিম ২৭ টাকা ও লাল ডিম ৩০ টাকা হালি দরে পাওয়া গেছে।

বাজার দরের বিষয়ে রিকশা চালক রশিদ আলী বলেন, রোজার শুরুতে সব জিনিসের দাম বেশি ছিল। এখন তো কমে কিছুটা সাধ্যের মধ্যে আসছে। ঈদের পর আবারও দাম বাড়বে কি না সে দুশ্চিন্তা থাকছেই বলেও জানান তিনি।

এদিকে চালের বাজার ঘুরে দেখা যায়, নতুন করে দাম পরিবর্তন না হয়ে আগের মতো উচ্চ মূল্যেই বিক্রি হচ্ছে সব রকমের চাল। বাজারে প্রতি কেজি শরনা ৪৬ টাকা, আঠাশ ৫৮ টাকা, মিনিকেট ৬৬ টাকা, নাজিরশাইল ৭৮ টাকা, কাটারিভোগ ৯০ টাকা, শম্পাকাটারি ৭০ টাকা, জিরাশাল ৬২ টাকা, বাসুমতি ৭৫ টাকা, চিনিগুড়া ১১০ টাকা, কালজিরা আতপ ১১০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

 

 

আরপি/এসআর



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

Top