রাজশাহী বুধবার, ১লা ডিসেম্বর ২০২১, ১৭ই অগ্রহায়ণ ১৪২৮

পেটের দায়ে কাজের সন্ধানে ৮৫ বছর বয়সী হযরত আলী


প্রকাশিত:
২৪ নভেম্বর ২০২১ ১৭:০৯

আপডেট:
২৪ নভেম্বর ২০২১ ১৭:১৬

ছবি: হযরত আলী

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলায় প্রায় ৮৫ বছর বয়সেও হাতে কাঠ কাটার কুড়াল নিয়ে বাড়ি বাড়ি ঘুরে কাঠ, গাছের গুল কেটে জীবিকা নির্বাহ করছেন হযরত আলী। এই বয়সে অন্য দশ জন বয়োবৃদ্ধের মতো বিছানায় পিঠ লাগিয়ে বিশ্রাম নেওয়ার কথা ছিল তার। পোলাও-কোরমা না হোক, এক মুঠো ডাল-ভাত খাওয়ার কথা ছিলো তারও।

পেটের দায়ে বিশ্রাম মেলে না হযরত আলীর। উপজেলার ৪ নং ইউপির চেংগাও গ্রামে জন্ম নেওয়া এই বৃদ্ধে বয়স যখন ৬ বছর তখন তার বাবা মৃত্যুবরণ করেন। তারপর থেকে তিনি হিজলগাড়ী গ্রামে নানা-নানির কাছেই লালিত পালিত হন। পৈতৃক সূত্রে কোন জমা-জমি পান নাই বলে জানান হযরত আলী।

তার সংসার জীবনে মিলে নি কোন সুখ-শান্তি। প্রথম স্ত্রী, দুই সন্তান, এক ছেলে এবং এক মেয়ে। স্ত্রী এবং ছেলে হযরত আলীকে পিটিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। পরবর্তীতে হযরত আলী ২ নং পালশা ইউপির মাঝিয়ান গ্রামে মরহুম হযরত আজহার আলীর খামার বাড়িতে ১৪ বছর চাকরি করেন। হযরত আলী সেখানে দ্বিতীয় বিয়ে করে নতুন সংসার জীবন শুরু করেন। সেখানেও হলো না তার ঠাঁই।

দ্বিতীয় পক্ষের এক ছেলে এবং স্ত্রী তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। ২ বছর পূর্বে ফজরের সালাত আদায়ের জন্য অজু করতে গিয়ে টিউবয়েলের হ্যান্ডেল লেগে ডান চোখ হারানো হযরত আলী।

তিনি বলেন, বয়স বাড়ার কারণে কেউ কাজ দিতে চায় না। চেয়ে খেতেও শরম লাগে, তাই বাড়ি বাড়ি এবং রাস্তার পাশে কাঠ, গাছের গুড়ি কেটে যে টাকা উপার্জন করি সেটা দিয়ে পৌরসভার মৌয়ারবাগ এলাকায় মেয়ের বাসায় থাকি।

তিনি আরও বলেন, আমি বয়স্ক ভাতা বা প্রতিবন্ধী ভাতা কোনটাই পাই না। কাঠ কাটারও শক্তি পাই না, খুব কষ্টকর হয়ে পরেছে এবং ডান চোখের কারণে বাম চোখ দিয়ে একটু করে ঝাপসা দেখতেছি। শরীরের অবস্থাও তেমন ভালো না । সরকারি ভাতাসহ যে সকল সুযোগ-সুবিধা রয়েছে তা পেলে হয়তো বা বাঁচা মরার সন্ধিক্ষণে একটুখানি প্রশান্তি পেতেন এই বৃদ্ধ।

 

আরপি/এসআর-০৩



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

Top