প্রধানমন্ত্রীর ঘরে সংসার পেতেছেন তারা

বাবু ও মাসুদা দুজনেই জন্মগত প্রতিবন্ধী। দেড় বছর আগে বিয়ে করে সংসার পেতেছেন তারা। তবে ঠিক সংসার নয়, ছিল ছন্নছাড়া জীবন। অন্যের জায়গায় একটি ঘরের ভেতরে গাদাগাদি করে থাকতেন পরিবারের সবাই। সারাদিন স্বামী-স্ত্রী ভিক্ষা করে রাতে ঘুমানোর জায়গাটুকুও পেতেন না। ভিক্ষা করে যা পেতো তাই দিয়ে তিনবেলা খাবার জুটতো। তবে স্বপ্ন ছিল একদিন নিজের জমি-ঘর হবে। কিন্তু ভিক্ষা করে সেই স্বপ্ন ধরা দিচ্ছিল না কিছুতেই। অবশেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহারের ঘর বাবু-মাসুদা দম্পতির স্বপ্ন পূরণের সুযোগ করে দিয়েছে। গৃহ ও ভূমিহীন পরিবারদের জন্য করা সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পে জমি ও ঘর পেয়েছেন বাবু-মাসুদা দম্পতি। সেই স্থায়ী ঠিকানায় সংসার পেতেছেন তারা।
রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার সরদহ ইউনিয়নের ঝিকরা আশ্রয়ণ প্রকল্পে নিজের পাকা ঘরের বারান্দায় দাঁড়িয়ে সোমবার দুপুরে কথা হয় বাবু ও মাসুদার সঙ্গে। জীবনকে নতুনভাবে সাজানোর পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছেন এই প্রতিবন্ধী দম্পতি। ভিক্ষা ও সাহায্য সহযোগিতার টাকা জমিয়ে কিছু করার সপ্ন দেখছেন তারা।
বাবুর সাথে গল্প করার সময় পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন মাসুদা। কেমন আছেন জানতে চাইলে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, কোনোদিন এত ভালো ঘরে থাকিনি। জন্মের পর থেকে ঘরের কষ্ট করছি। নিজের এমন ঘর হবে কোনোদিন ভাবিনি। এ সময় বারবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান তিনি।
শুধু বাবু ও মাসুদা দম্পতি নয়। চারঘাট উপজেলায় দুই দফায় প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পেয়েছেন ২৫ টি পরিবার।
উপকারভোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তাদের ভুমির কাগজসহ ঘর পেতে কোন টাকা পয়সার প্রয়োজন হয়নি। সকল কিছু বিনামূল্যে পেয়ে তারা মহাখুশি। এখন আনন্দের সাথে নতুন ঘরে সংসার পেতেছেন তারা।
সুবিধাভোগী কামাল হোসেন, চম্পা বেগম ও শিরিনা বেগম জানান, ২ শতাংশ ভুমিসহ প্রতিটি পাকা ঘরে রয়েছে দুটি কক্ষ, একটি রান্নাঘর, একটি শৌচাগার, বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা। টাকা পয়সার লেনদেন ছাড়া সরকার তাদেরকে ঘর প্রদান করায় সরকারের নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তারা।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তাবায়ন কর্মকর্তা এস এম শামীম আহম্মেদ বলেন, সরকারি পরিপত্র অনুযায়ী শতভাগ মানসন্মত ভাবে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১ম পর্যায়ে ১৫টি ও ২য় পর্যায়ে ১০টি পাকা ঘর নির্মান করা হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গৃহহীন পরিবারগণ স্ত্রী, সন্তান নিয়ে সেখানে স্বাচ্ছন্দ্যে বসবাস করছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিয়তি রানী কৈরী বলেন, আমাদের খাস জমির অপ্রতুলতা রয়েছে। তারপরও উপজেলার সবচেয়ে ভাল খাস জমিতে ঘরগুলো তৈরি করা হয়েছে। সুবিধাভোগীরা সেখানে ভাল থাকলে আমাদের নিজেদেরও ভাল লাগবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগে উপজেলার সংশ্লিষ্টরা সবাই যার যার অবস্থান থেকে ভূমিকা রেখেছেন। মহান এই কর্মযজ্ঞে সম্পৃক্ত হতে পেরে আমি নিজেকে ধন্য মনে করছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দা সামিরা বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহারের এ ঘর গুলো তৈরিতে একটি কমিটি তৈরি করে দেয়া হয়েছিল। যার সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার। তবে ঘর তৈরিতে আমাদের পূর্ব অভিঙ্গতা কিংবা প্রশিক্ষণ না থাকায় এই কমিটিতে উপজেলা প্রকৌশলী ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ছিলেন। তাদের পরামর্শ নিয়ে ঘর গুলো নির্মাণ করা হয়েছে। ঘর গুলোতে রয়েছে আমাদের হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা। সুবিধাভোগীরা সেখানে সুখ-শান্তিতে সুন্দর জীবন যাপন করবেন এমনটাই আমাদের প্রত্যাশা।
আরপি/ এস
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: