রাজশাহী মঙ্গলবার, ১৫ই জুন ২০২১, ২রা আষাঢ় ১৪২৮

কর্ম না পেয়ে ভিক্ষা করছেন সার্কাস কর্মী


প্রকাশিত:
১ জুন ২০২১ ২০:৩৭

আপডেট:
১ জুন ২০২১ ২০:৪২

সার্কাস দেখাচ্ছেন আছাদ

চার ফুট ১ ইঞ্চি উচ্চতার আছাদ প্রামানিক (৪৬)। পেশায় সার্কাসের জোকার। গত দেড় বছর আগেও নানা অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে বিনোদনের খোরাক যুগিয়েছেন দর্শনার্থীদের। করোনা পরিস্থিতিতে সার্কাস বন্ধ থাকায় হয়েছেন কর্মহীন। কর্মের খোঁজে পাবনা থেকে রাজশাহীতে এসেছেন তিনি। ঘুরছেন মানুষের দ্বারে দ্বারে।

পাবনার সাথিয়া উপজেলার শিবপুর গ্রামের মনছেন প্রামাণিকের ছেলে আছাদ। উচ্চতায় ছোট হওয়ায় সার্কাসে কাজ করতেন তিনি। সে আয় দিয়ে কোনমতে চলত তার সংসার। করোনা মহামারির কারণে মেলা ও সার্কাস বন্ধ থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন তিনি। ফলে দীর্ঘ দিন কর্মহীন থাকায় কাজের সন্ধ্যানে এসেছেন রাজশাহীতে। ৫ দিনেও কাজ না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে ভিক্ষা করে জোগাচ্ছেন নিজের খাবার।

সোমবার রাতে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের সামনে শুয়ে ছিলেন তিনি। এসময় আবেগাপ্লুত কন্ঠে আছাদ বলেন, সার্কাস জগতে বড় বড় সার্কাস মারছি। টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া, বিশেষ করে রাজশাহী বিভাগের মধ্যে এককালে নামডাক ছিল। এখন আর নাই। করোনার জন্য সার্কাস বন্ধ, আমরা কি করে খাবো এখন?

তিনি আরো বলেন, দেশের বাড়ি পাবনা আতাইকুলা। রাজশাহীতে আসছি কর্ম করে খেতে। বেতন কয় ১শ টাকা, খাবার হোটেলের কাজে। একবেলা খাইতে দিতে চাই। আমরা কি করে খাবো। দুপুরে খাবার আছে রাতে নাই, সকালে কি খাবো? বাধ্য হয়ে দুয়ারে দুয়ারে দুই-এক টাকা নিয়ে কাজ করে খাচ্ছি। এছাড়া উপায় নাই। আমি কি করে খাবো? বাপ নাই, মা ডা আছে, তারে খাওয়োন লাগবি না। বউ আছে, ছেলে আছে আমি কি করে খাবো এই ছোট মানুষ।

শুধু আছাদই নয়, করোনা মহামারির প্রভাবে সার্কাস বন্ধ থাকায় সর্বত্র সার্কাস পেশায় জড়িতরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বিশেষ করে সার্কাসের জোকাররা উচ্চতায় ছোট হওয়ায় কাজ না পেয়ে বেছে নিয়েছেন ভিক্ষাবৃত্তির পথ। সরকারি সহায়তা আশা ছেড়ে দিয়ে বেঁচে থাকার সংগ্রামে শুদ্ধ এক সকালের দিন গুনছেন তারা।

 
আরপি/ এসআই


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

Top