রাজশাহী সোমবার, ৭ই এপ্রিল ২০২৫, ২৪শে চৈত্র ১৪৩১


আ.লীগ থেকে আজীবন বহিষ্কার মেয়র জাহাঙ্গীর


প্রকাশিত:
২০ নভেম্বর ২০২১ ০৮:৫৩

আপডেট:
৭ এপ্রিল ২০২৫ ০২:৩৫

ছবি: সংগৃহীত

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে কটূক্তি করার দায়ে সাংগঠনিকভাবে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র ও গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করেছে দলটি।

শুক্রবার (১৯ নভেম্বর) বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গণভবনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সংখ্যা নিয়ে কটূক্তি করে দেওয়া জাহাঙ্গীর আলমের বক্তব্যসংবলিত একটি ভিডিও গত অক্টোবরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়। এ নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয় এবং মেয়রের পদত্যাগ ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে জাহাঙ্গীরকে বহিষ্কারের দাবিতে গাজীপুর মহানগরীর কয়েকটি স্থানে বিক্ষোভ করেন দলীয় নেতা-কর্মীরা। আওয়ামী লীগের বৈঠক সূত্রে জানা গেছে জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে মেয়র অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, রাজনৈতিক একটি প্রতিপক্ষ অতি উৎসাহী হয়ে তার বক্তব্যের ভিডিও এডিটিংয়ের মাধ্যমে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে ভাইরাল করেছে। তিনি গভীর ষড়যন্ত্রের শিকার।

জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, অবশ্যই আমি সেটা মাথা পেতে নেব। আমি জানি, আমি কোনো অন্যায় করিনি, আমার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অপপ্রচারের এটা আরেকটা ষড়যন্ত্র।

তিনি বলেন, ’যার মাধ্যমে আমি স্বাধীন দেশ ও সবুজ একটি পতাকা পেয়েছি সেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ ধারণ করে ছাত্র রাজনীতি থেকে আজ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বানিয়েছেন। আমি এ দলের সাথে, আমার নেতৃত্বের সঙ্গে এবং জাতির পিতার সাথে কোনো ধরনের কটূক্তি করতে পারি না। আমি আশা করবো, যারা অপপ্রচার, মিথ্যাচার করছে-তারা নিজেরাই অবশ্যই সংশোধন হবেন। আমার কাছে জাতির পিতা এবং আওয়ামী লীগ আমার প্রাণ।’

নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই দলের সিদ্ধান্ত মেনে দলের কাছে লিখিতভাবে কারণ দর্শানোর জবাব দেবেন বলেও জানান তিনি। দায়িত্ব গ্রহণ করার পর গাজীপুরের ধারাবাহিক উন্নয়নে ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি পক্ষ এসব ষড়যন্ত্র করছে বলেও দাবি করেন মেয়র জাহাঙ্গীর।

পরে গত ৩ অক্টোবর দলের স্বার্থ পরিপন্থী কর্মকা ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে জাহাঙ্গীর আলমকে শোকজ করে আওয়ামী লীগ। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সই করা শোকজ নোটিশে ১৫ দিনের মধ্যে জাহাঙ্গীরকে এর জবাব দিতে বলা হয়। কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার পরই ৩ অক্টোবর বিকেলে সময় নিউজকে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জাহাঙ্গীর আলম।

মুঠোফোনে তিনি বলেন, ছাত্র রাজনীতি থেকে শুরু করে একটি পক্ষ আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে আসছে। তারাই একটি কথাকে তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে এডিট করে ভিন্নভাবে ফেসবুকে দিচ্ছে। সেজন্য দল আমাকে সে বিষয়ে কারণ দর্শানোর চিঠি দিয়েছে।

প্রসঙ্গত, জাহাঙ্গীর আলম ২০০৯ সালের ২২ জানুয়ারি তৎকালীন গাজীপুর সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৩ সালে গাজীপুর সিটি করপোরেশন গঠন হলে নাগরিক কমিটির ব্যানারে আনারস প্রতীকে মেয়র প্রার্থী হন জাহাঙ্গীর।

নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় নির্দেশনায় দলীয় প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে যান তিনি। এরপর ২০১৬ সালে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা মহানগরের প্রথম সাধারণ সম্পাদক মনোনিত করেন তাকে। পরবর্তীতে ১৮ সালের নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে মেয়র নির্বাচিত হন জাহাঙ্গীর।

 

আরপি/ এমএএইচ-০৩



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

Top