রাস্তা যেন পচা ডোবা, দুর্ভোগে পথচারীরা

নওগাঁর অবহেলিত জনপদ ধামইরহাট উপজেলা। উপজেলার প্রধান বাজার থেকে পূর্ব দিকে প্রায় ৭ থেকে ৮ কিলোমিটার এগুলেই দেখা মিলবে মঙ্গলবাড়ী নামে একটি হাট-বাজার। সেখানে খানাখন্দে ভরা পচাদুর্গন্ধযুক্ত জলাবদ্ধ রাস্তায় যাত্রীবাহী ভ্যান-রিক্সা ইজিপাওয়ার প্রায় সময় উল্টে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়। এমন পরিস্থিতিতে সেখানে ভ্যান-রিক্সা চালকসহ স্থানীয় সাধারণ পথচারীদের মাঝে বিরাজ করছে চাপা ক্ষোভ।
সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা গেছে, মঙ্গলবাড়ী বাজারের কোলঘেঁষে উত্তর দিকে পল্লীবালা যাওয়ার একমাত্র পাকা রাস্তাটি ভেঙ্গে গিয়ে হাট বাজারের বিভিন্ন পচা দুর্গন্ধযুক্ত পানি জমে পচা ডোবায় পরিণত হয়েছে। সেখানে হাটবাজারের ফেলে দেওয়া পলিথিনব্যাগ আর করোনাকালে অস্বাস্থ্যকর চা-কফির প্লাস্টিক মগের স্তুপে খানাখন্দে ভরা জলমগ্ন একমাত্র রাস্তাটি এখন যেন পচা ডোবায় পরিণত হয়েছে। আশেপাশে কোন ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় নিচু রাস্তার দু'পাশে পা ডোবা পানি জমে থাকা এখন পথচারীদের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এলাকাবাসীসহ পথচারীদের অভিযোগ, প্রায় চার পাঁচ বছরের অধিক সময় ধরে অস্বাস্থ্যকর পচা দুর্গন্ধ পানি সাঁতরিয়ে নিত্য প্রয়োজনে বাজারে যাওয়া আসাসহ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রয়োজনে স্কুল ও কলেজে যেতে হয়। তাতে অনেকের কাপড়চোপড় নষ্টসহ পায়ে চর্মরোগ, পচানি ঘাসহ বিভিন্ন ধরনের ক্ষত সৃষ্টি হয়। হাট বাজারের পাশে এমন গুরুত্বপূর্ণ একমাত্র রাস্তাটি মেরামতের জন্য বারবার জোর দাবি জানানো হলেও কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা এখন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় ইলেকট্রনিক্স ব্যবসায়ী রাসেদুল ইসলাম বলেন, প্রথমত ড্রেন নেই, বর্ষায় বৃষ্টির পানি আর হাটবাজারে দোকানিদের পানি জমে রাস্তাটির বেহাল অবস্থা হয়েছে। চেয়ারম্যানকে বললে বলেন, এটি বড় বাজেটের কাজ তাই সময় লাগবে।
স্থানীয় ৬ নম্বর জাহানপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া বলেন, এখানে পানি নিষ্কাশনের জন্য বড় একটা ড্রেন ছিল। সেটি কে বা কাহারা মাটি দিয়ে ভরাট করে ফেলে। ড্রেনের বাকি অংশের ইটগুলো চেয়ারম্যানের লোকজন তুলে বিক্রি করে ফেলায় এই জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে।
এর সত্যতা স্বীকার করে ৬ নম্বর জাহানপুর ইউপি চেয়ারম্যান ওসমান আলী বলেন, রাস্তাটির পাশে পুরনো একটি ড্রেন ছিল। ড্রেনটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় এই দুর্দশার সৃষ্টি হয়েছে। আর রাস্তাটি সংস্কারের দায়িত্ব জয়পুরহাট জেলার।
তিনি আরো বলেন, আমাদের ইউনিয়ন পরিষদ অর্থনৈতিক দিক দিয়ে খুবই দুর্বল। জনগণের ট্যাক্সের টাকা দিয়ে গ্রামপুলিশ ও মেম্বারদের সম্মানী ভাতা দিতে হিমশিম খেয়ে যাচ্ছি বিধাই ড্রেন ও রাস্তা সংস্কার করা আমার পক্ষে কষ্টকর।
এ বিষয়ে জয়পুরহাট সদর উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুর রউফ বলেন, এর আগে দুইবার রাস্তাটি সংস্কার করা হয়েছে কিন্তু সেখানে মূল সমস্যা হচ্ছে পানি নিষ্কাশনে কোন ব্যবস্থা না থাকায় রাস্তাটি টিকছে না।
তিনি আরো বলেন, এলাকাটি নওগাঁ জেলার মধ্যে পড়ে। সেখানে ড্রেন নির্মাণ করতে চাইলেও আমরা তা পারিনা। হাট মালিক চাইলেই সেখানে একটি ড্রেন নির্মান করে দিতে পারে। তবে খুব শীঘ্রই রাস্তাটি পুনর্র্নিমাণ করা হবে।
আরপি/ এএন-০২
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: